বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদের বিশেষ রেসিপি

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদের দিনে ব্যস্ত থাকে গৃহিণীর রসুইঘর। এ সময় অতিথি আপ্যায়নে কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য নানা পদের রান্নার আয়োজন থাকে। ঈদের দিনের সেই আয়োজনে যুক্ত হতে পারে কয়েকটি পদ। জেনে নিন রেসিপিগুলো

লাচ্ছা সেমাইয়ের খিরসা তৈরির রেসিপি-

উপকরণ লাচ্ছা সেমাই ২২৫ গ্রাম, ঘি ১৫০ গ্রাম, পেস্তাবাদাম ১০০ গ্রাম, জাফরান রং সামান্য, খিরসা লিকুইড দুধ ৩ কাপ, গুড়া দুধ এক কাপ, কাস্টার্ড পাউডার ২ টেবিল চামচ ও চিনি আধা কাপ, সিরার জন্য পানি এক কাপ, চিনি এক কাপ লেবুর রস এক টেবিল চামচ।

যেভাবে করবেন প্রথমে লাচ্ছা সেমাই ও ঘি দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। অল্প একটু ভাজা সেমাইয়ের সঙ্গে জাফরান রং মিশিয়ে রাখুন। একটা পাত্রে দুধের সঙ্গে গুঁড়া দুধ মিশিয়ে জ্বাল দিন। এতে কাস্টার্ড পাউডার, চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে খিরসা তৈরি করুন। এখন চুলায় পাত্রে পানি, চিনি ও লেবুর রস দিয়ে সিরা করুন। পাত্রে প্রথমে অর্ধেক সেমাই দিয়ে ওপরে খিরসার লেয়ার দিন। তার ওপর বাকি সেমাই দিয়ে আরেকবার খিরসা দিয়ে রঙিন সেমাই ওপরে ছড়িয়ে দিন। এবার সেমাইয়ের ওপর চিনির সিরা ছড়িয়ে দিন। সব শেষে ওভেনে ১৮০ ডিগ্রিতে বেক করুন ১৫ মিনিট। সেরা স্বাদ পেতে ব্যবহার করতে পারেন ড্যান ফুডস বা যে কোনো ভালো ব্র্যান্ডের ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা সেমাই। ঠান্ডা করে ওপরে বাদাম কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন দারুণ মজার সেমাইয়ের খিরসা।

শাহি দুধ সেমাই 

উপকরণ: সেমাই এক কাপ, তরল দুধ হাফ লিটার, পাউডার দুধ তিন ভাগের এক কাপ, চিনি হাফ কাপ, ঘি দুই টেবিল চামচ, এলাচ-দারচিনি দুটি করে, কাজুবাদাম ও কিশমিশ সাজানোর জন্য।

প্রস্তুত প্রণালি: কাজু বাদাম ও কিশমিশ সামান্য ঘিয়ে ভেজে তুলে রাখতে হবে। সেমাই সামান্য ঘি দিয়ে ভেজে নিতে হবে। এবার তরল দুধে পাউডার দুধ ও এলাচ, দারচিনি মিশিয়ে বলক আসা পর্যন্ত জ্বাল দিতে হবে। এবার ভাজা সেমাই দুধে দিয়ে সেমাই সেদ্ধ হলে চিনি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। এবার এক টেবিল চামচ ঘি দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। গরম সেমাই কিছুটা ঠান্ডা হলে বাটিতে ঢেলে ওপরে বাদাম, কিশমিশ ছিটিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

নুডলস উইথ চিকেন সস

উপকরণ : দেশি নুডলসের প্যাকেট ১টি আর চিকেন সস।

প্রস্তুত প্রণালি : সেদ্ধ করা সুডলস ৬ টেবিল চামচ তেলে, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ কুচির সঙ্গে নেড়েচেড়ে নিন। পরিবেশনের সময় বাসনে নুডলস ছড়িয়ে চিকেন সস ওপরে অথবা চারপাশে সাজিয়ে দিলেই কাজ শেষ।

চিকেন সস : ৬ টেবিল চামচ গরম তেলে গ্রেট করা ২টি পেঁয়াজ ও ৪ কোয়া রসুন ভাজুন, ২টি টমেটো কুচি, আধা চা চামচ হলুদ, ১ চা চামচ লাল মরিচের গুঁড়ো, আধা চা চামচ জিরার গুঁড়ো ১ চা চামচ লবণ দিয়ে কষিয়ে নিন। ৪ পিস মুরগির বুকের মাংস ছোট করে কাটা ও ১ কাপ সেদ্ধ চনার ডাল ও ১ চাপ পানি দিয়ে ৫ মি. রান্না করুন। এবার কাঁচামরিচ কুচি ২টি, ধনেপাতা কুচি ১ মুঠো দিলেই সস তৈরি।

বি:দ্র: নুডলস ও সস আলাদা রাখার সুবিধা হলো। আপনি যখন-তখন গরম করতে পারবেন।

আস্ত রসুনের গরুর মাংসের ঝাল

উপকরণ: গরুর মাংস দুই কেজি, পেঁয়াজ কুচি দুই কাপ, আদা ও রসুন বাটা তিন টেবিল চামচ, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া গুঁড়া এক টেবিল চামচ করে, জিরা গুঁড়া এক চা চামচ, আস্ত রসুন ছয়টি, কাঁচামরিচ সাত-আটটি, সয়াবিন তেল দুই কাপ, এলাচ ও দারচিনি চার-পাঁচ পিস করে, গরম মসলা গুঁড়া এক টেবিল চামচ, টকদই আধা কাপ, ঘি এক টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: গরুর মাংস ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। কড়াইতে সয়াবিন তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ভেজে নিন। পরে আদা ও রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া গুঁড়া, লবণ দিয়ে কষিয়ে নিন। পরে মাংস দিয়ে কম তাপে ঢাকনাসহ রান্না করুন। সেদ্ধ হলে পরিমাণমতো পানি দিন। ফুটে উঠলে কাঁচামরিচ, এলাচ ও দারচিনি, জিরা গুঁড়া, আস্ত রসুন, গরম মসলা গুঁড়া দিয়ে আবারও ঢাকনাসহ রান্না করুন। কম তাপে আবারও রান্না করে নামিয়ে নিন ঘি দিয়ে। তৈরি হয়ে গেল আস্ত রসুনের গরুর মাংসের ঝাল।

ঝাল মুরগি

উপকরণ : দেড় কেজি ওজনের মুরগি কাটা ১টি, গ্রেট করা বড় পেঁয়াজ কাটা ২টি ও রসুন কোয়া ২টি, টমেটো কুচি ২টি, কাঁচা মরিচ গোটা ৫টি, ধনেপাতা কুচি ২ মুঠ, তেল ১৫ টেবিল চামচ, লাল মরিচের গুঁড়ো ২ চা চামচ, হলুদ ১/২ চা চামচ, পানি ১ লিটার, লবণ ১ চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি : মাংসের টুকরোগুলো খুব গরম ডুবু তেলে লাল করে ভেজে ফেলুন। তেলে পেঁয়াজ, রসুন ভেজে সব উপকরণ একত্রে কষিয়ে পানি দিয়ে ভাজা মাংসগুলো বসিয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে মৃদু আঁচে ১০ মি. সেদ্ধ করুন। ঝোল শুকিয়ে মাখামাখা হয়ে এলেই অপূর্ব দেখতে ঝালমুরগি তৈরি।

কাটা মসলায় গরুর মাংস

ঈদ মানে বাহারি সব খাবারের আয়োজন। ঈদে বাড়িতে বাড়িতে গরুর মাংস তো রান্না হয়ই, তবে স্বাদে একটু ভিন্নতা আনতে তৈরি করতে পারেন কাটা মসলায় গরুর মাংস।

উপকরণ : গরুর মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ বড় বড় টুকরা করা এক কাপ ,আদা কাটা এক কাপ, রসুন কোয়া ৮টি , শুকনা মরিচ ৭-৮টি, দারুচিনি ৩ টুকরা, এলাচ ৪টি, লেবুর রস ১ চামচ, জিরা ভাজা (আস্ত) ১ চা চামচ, গোল মরিচ ১০ টি, বেরেস্তা আধা কাপ, কাঁচামরিচ ৭-৮ টি, ঘি ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণ মতো, টক দই ২ চা চামচ, তেল পরিমাণ মতো

প্রস্তুত প্রণালি : গরুর মাংস লবণ ও টক দই দিয়ে মাখিয়ে আধা ঘণ্টা মেরিনেট করুন। এবার এর সঙ্গে আদা, রসুন, শুকনা মরিচ,এলাচ, দারুচিনি,গোল মরিচ, জিরা দিয়ে আরও আধা ঘণ্টা মেরিনেট করুন। প্যানে তেল গরম করে মাংস দিয়ে কষিয়ে নিন। কষানোর সময় লেবুর রস দিন। ভালো করে কষানো হলে পরিমাণমতো পানি দিয়ে মাংস সিদ্ধ করুন। মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে বেরেস্তা, ঘি ও কাঁচা মরিচ দিয়ে মৃদু আঁচে বসিয়ে রাখুন। নামিয়ে পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

দই চিকেন  

উপকরণ: চিকেন একটা, আদা ও রসুন বাটা দুই টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ বাটা দুই টেবিল চামচ, কালো গোলমরিচ গুঁড়া এক চা চামচ, টকদই আধা কাপ, লেবুর রস এক টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল এক টেবিল চামচ। এসব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রেখে দিন। সয়াবিন তেল ও ঘি চার টেবিল চামচ, এলাচ, দারচিনি, তেজপাতা, জয়ত্রী দুই পিস করে, শাহি জিরা হাফ চা চামচ, লবণ ও চিনি স্বাদমতো, ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, গরম মসলা পাউডার এক চা চামচ করে, লেবুর রস এক চা চামচ, কাঁচামরিচ ছয়-সাতটি, ধনিয়া পাতা কুচি হাফ কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি: কড়াইতে সয়াবিন তেল ও ঘি গরম হলে এলাচ, দারচিনি, জয়ত্রী, তেজপাতা, শাহি জিরা দিয়ে ফোড়ন দিন। এবার ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে কিছুটা সময় রান্না করে পানি দিন। পরে ফুটে উঠলে ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া আর গরম মসলা গুঁড়া দিয়ে রান্না করুন। এবার লবণ ও মিষ্টি দিন। শেষে তেল ভেসে উঠলে লেবুর রস, কাঁচামরিচ ফালি, ধনিয়া পাতা কুচি ছড়িয়ে দুই-এক মিনিট রান্না করে লবণ দেখে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল দই চিকেন।

তুলুম্বা মিষ্টি

উপকরণ: ময়দা এক কাপ, পানি এক কাপ, বাটার দুই টেবিল চামচ, লবণ এক চিমটি, ডিম দুটি, তেল ভাজার জন্য। সিরার জন্য: চিনি এক কাপ, পানি হাফ কাপ, পেস্তা বাদাম গুঁড়া সাজানোর জন্য।

প্রস্তুত প্রণালি: এক কাপ পানি গরম করে তাতে বাটার ও লবণ দিন। বাটার গলে গেলে ময়দা দিয়ে কাই করে নিন। ময়দার কাই কিছুটা ঠান্ডা হলে একটা করে ডিম দিয়ে মসৃণ করে ডো বানান। চিনি ও পানি জ্বাল দিয়ে সিরা করে রাখুন। এবার ময়দার ডো একটা পাইপিং ব্যাগে নিয়ে পছন্দ মতো নজেল সেট করে নিয়ে হালকা গরম তেলে ছোট ছোট সাইজে তুলুম্বা ভাজুন। লালচে রংয়ে মচমচে হয়ে এলে গরম তুলুম্বা রসে দিন। রসে কিছুক্ষণ রেখে রস ঝরিয়ে উঠিয়ে নিন। ওপরে পেস্তা গুঁড়া ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঈদের বিশেষ রেসিপি

প্রকাশিত সময় : ০৭:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদের দিনে ব্যস্ত থাকে গৃহিণীর রসুইঘর। এ সময় অতিথি আপ্যায়নে কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য নানা পদের রান্নার আয়োজন থাকে। ঈদের দিনের সেই আয়োজনে যুক্ত হতে পারে কয়েকটি পদ। জেনে নিন রেসিপিগুলো

লাচ্ছা সেমাইয়ের খিরসা তৈরির রেসিপি-

উপকরণ লাচ্ছা সেমাই ২২৫ গ্রাম, ঘি ১৫০ গ্রাম, পেস্তাবাদাম ১০০ গ্রাম, জাফরান রং সামান্য, খিরসা লিকুইড দুধ ৩ কাপ, গুড়া দুধ এক কাপ, কাস্টার্ড পাউডার ২ টেবিল চামচ ও চিনি আধা কাপ, সিরার জন্য পানি এক কাপ, চিনি এক কাপ লেবুর রস এক টেবিল চামচ।

যেভাবে করবেন প্রথমে লাচ্ছা সেমাই ও ঘি দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। অল্প একটু ভাজা সেমাইয়ের সঙ্গে জাফরান রং মিশিয়ে রাখুন। একটা পাত্রে দুধের সঙ্গে গুঁড়া দুধ মিশিয়ে জ্বাল দিন। এতে কাস্টার্ড পাউডার, চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে খিরসা তৈরি করুন। এখন চুলায় পাত্রে পানি, চিনি ও লেবুর রস দিয়ে সিরা করুন। পাত্রে প্রথমে অর্ধেক সেমাই দিয়ে ওপরে খিরসার লেয়ার দিন। তার ওপর বাকি সেমাই দিয়ে আরেকবার খিরসা দিয়ে রঙিন সেমাই ওপরে ছড়িয়ে দিন। এবার সেমাইয়ের ওপর চিনির সিরা ছড়িয়ে দিন। সব শেষে ওভেনে ১৮০ ডিগ্রিতে বেক করুন ১৫ মিনিট। সেরা স্বাদ পেতে ব্যবহার করতে পারেন ড্যান ফুডস বা যে কোনো ভালো ব্র্যান্ডের ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা সেমাই। ঠান্ডা করে ওপরে বাদাম কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন দারুণ মজার সেমাইয়ের খিরসা।

শাহি দুধ সেমাই 

উপকরণ: সেমাই এক কাপ, তরল দুধ হাফ লিটার, পাউডার দুধ তিন ভাগের এক কাপ, চিনি হাফ কাপ, ঘি দুই টেবিল চামচ, এলাচ-দারচিনি দুটি করে, কাজুবাদাম ও কিশমিশ সাজানোর জন্য।

প্রস্তুত প্রণালি: কাজু বাদাম ও কিশমিশ সামান্য ঘিয়ে ভেজে তুলে রাখতে হবে। সেমাই সামান্য ঘি দিয়ে ভেজে নিতে হবে। এবার তরল দুধে পাউডার দুধ ও এলাচ, দারচিনি মিশিয়ে বলক আসা পর্যন্ত জ্বাল দিতে হবে। এবার ভাজা সেমাই দুধে দিয়ে সেমাই সেদ্ধ হলে চিনি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। এবার এক টেবিল চামচ ঘি দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। গরম সেমাই কিছুটা ঠান্ডা হলে বাটিতে ঢেলে ওপরে বাদাম, কিশমিশ ছিটিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

নুডলস উইথ চিকেন সস

উপকরণ : দেশি নুডলসের প্যাকেট ১টি আর চিকেন সস।

প্রস্তুত প্রণালি : সেদ্ধ করা সুডলস ৬ টেবিল চামচ তেলে, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ কুচির সঙ্গে নেড়েচেড়ে নিন। পরিবেশনের সময় বাসনে নুডলস ছড়িয়ে চিকেন সস ওপরে অথবা চারপাশে সাজিয়ে দিলেই কাজ শেষ।

চিকেন সস : ৬ টেবিল চামচ গরম তেলে গ্রেট করা ২টি পেঁয়াজ ও ৪ কোয়া রসুন ভাজুন, ২টি টমেটো কুচি, আধা চা চামচ হলুদ, ১ চা চামচ লাল মরিচের গুঁড়ো, আধা চা চামচ জিরার গুঁড়ো ১ চা চামচ লবণ দিয়ে কষিয়ে নিন। ৪ পিস মুরগির বুকের মাংস ছোট করে কাটা ও ১ কাপ সেদ্ধ চনার ডাল ও ১ চাপ পানি দিয়ে ৫ মি. রান্না করুন। এবার কাঁচামরিচ কুচি ২টি, ধনেপাতা কুচি ১ মুঠো দিলেই সস তৈরি।

বি:দ্র: নুডলস ও সস আলাদা রাখার সুবিধা হলো। আপনি যখন-তখন গরম করতে পারবেন।

আস্ত রসুনের গরুর মাংসের ঝাল

উপকরণ: গরুর মাংস দুই কেজি, পেঁয়াজ কুচি দুই কাপ, আদা ও রসুন বাটা তিন টেবিল চামচ, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া গুঁড়া এক টেবিল চামচ করে, জিরা গুঁড়া এক চা চামচ, আস্ত রসুন ছয়টি, কাঁচামরিচ সাত-আটটি, সয়াবিন তেল দুই কাপ, এলাচ ও দারচিনি চার-পাঁচ পিস করে, গরম মসলা গুঁড়া এক টেবিল চামচ, টকদই আধা কাপ, ঘি এক টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: গরুর মাংস ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। কড়াইতে সয়াবিন তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ভেজে নিন। পরে আদা ও রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া গুঁড়া, লবণ দিয়ে কষিয়ে নিন। পরে মাংস দিয়ে কম তাপে ঢাকনাসহ রান্না করুন। সেদ্ধ হলে পরিমাণমতো পানি দিন। ফুটে উঠলে কাঁচামরিচ, এলাচ ও দারচিনি, জিরা গুঁড়া, আস্ত রসুন, গরম মসলা গুঁড়া দিয়ে আবারও ঢাকনাসহ রান্না করুন। কম তাপে আবারও রান্না করে নামিয়ে নিন ঘি দিয়ে। তৈরি হয়ে গেল আস্ত রসুনের গরুর মাংসের ঝাল।

ঝাল মুরগি

উপকরণ : দেড় কেজি ওজনের মুরগি কাটা ১টি, গ্রেট করা বড় পেঁয়াজ কাটা ২টি ও রসুন কোয়া ২টি, টমেটো কুচি ২টি, কাঁচা মরিচ গোটা ৫টি, ধনেপাতা কুচি ২ মুঠ, তেল ১৫ টেবিল চামচ, লাল মরিচের গুঁড়ো ২ চা চামচ, হলুদ ১/২ চা চামচ, পানি ১ লিটার, লবণ ১ চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি : মাংসের টুকরোগুলো খুব গরম ডুবু তেলে লাল করে ভেজে ফেলুন। তেলে পেঁয়াজ, রসুন ভেজে সব উপকরণ একত্রে কষিয়ে পানি দিয়ে ভাজা মাংসগুলো বসিয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে মৃদু আঁচে ১০ মি. সেদ্ধ করুন। ঝোল শুকিয়ে মাখামাখা হয়ে এলেই অপূর্ব দেখতে ঝালমুরগি তৈরি।

কাটা মসলায় গরুর মাংস

ঈদ মানে বাহারি সব খাবারের আয়োজন। ঈদে বাড়িতে বাড়িতে গরুর মাংস তো রান্না হয়ই, তবে স্বাদে একটু ভিন্নতা আনতে তৈরি করতে পারেন কাটা মসলায় গরুর মাংস।

উপকরণ : গরুর মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ বড় বড় টুকরা করা এক কাপ ,আদা কাটা এক কাপ, রসুন কোয়া ৮টি , শুকনা মরিচ ৭-৮টি, দারুচিনি ৩ টুকরা, এলাচ ৪টি, লেবুর রস ১ চামচ, জিরা ভাজা (আস্ত) ১ চা চামচ, গোল মরিচ ১০ টি, বেরেস্তা আধা কাপ, কাঁচামরিচ ৭-৮ টি, ঘি ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণ মতো, টক দই ২ চা চামচ, তেল পরিমাণ মতো

প্রস্তুত প্রণালি : গরুর মাংস লবণ ও টক দই দিয়ে মাখিয়ে আধা ঘণ্টা মেরিনেট করুন। এবার এর সঙ্গে আদা, রসুন, শুকনা মরিচ,এলাচ, দারুচিনি,গোল মরিচ, জিরা দিয়ে আরও আধা ঘণ্টা মেরিনেট করুন। প্যানে তেল গরম করে মাংস দিয়ে কষিয়ে নিন। কষানোর সময় লেবুর রস দিন। ভালো করে কষানো হলে পরিমাণমতো পানি দিয়ে মাংস সিদ্ধ করুন। মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে বেরেস্তা, ঘি ও কাঁচা মরিচ দিয়ে মৃদু আঁচে বসিয়ে রাখুন। নামিয়ে পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

দই চিকেন  

উপকরণ: চিকেন একটা, আদা ও রসুন বাটা দুই টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ বাটা দুই টেবিল চামচ, কালো গোলমরিচ গুঁড়া এক চা চামচ, টকদই আধা কাপ, লেবুর রস এক টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল এক টেবিল চামচ। এসব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রেখে দিন। সয়াবিন তেল ও ঘি চার টেবিল চামচ, এলাচ, দারচিনি, তেজপাতা, জয়ত্রী দুই পিস করে, শাহি জিরা হাফ চা চামচ, লবণ ও চিনি স্বাদমতো, ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, গরম মসলা পাউডার এক চা চামচ করে, লেবুর রস এক চা চামচ, কাঁচামরিচ ছয়-সাতটি, ধনিয়া পাতা কুচি হাফ কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি: কড়াইতে সয়াবিন তেল ও ঘি গরম হলে এলাচ, দারচিনি, জয়ত্রী, তেজপাতা, শাহি জিরা দিয়ে ফোড়ন দিন। এবার ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে কিছুটা সময় রান্না করে পানি দিন। পরে ফুটে উঠলে ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া আর গরম মসলা গুঁড়া দিয়ে রান্না করুন। এবার লবণ ও মিষ্টি দিন। শেষে তেল ভেসে উঠলে লেবুর রস, কাঁচামরিচ ফালি, ধনিয়া পাতা কুচি ছড়িয়ে দুই-এক মিনিট রান্না করে লবণ দেখে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল দই চিকেন।

তুলুম্বা মিষ্টি

উপকরণ: ময়দা এক কাপ, পানি এক কাপ, বাটার দুই টেবিল চামচ, লবণ এক চিমটি, ডিম দুটি, তেল ভাজার জন্য। সিরার জন্য: চিনি এক কাপ, পানি হাফ কাপ, পেস্তা বাদাম গুঁড়া সাজানোর জন্য।

প্রস্তুত প্রণালি: এক কাপ পানি গরম করে তাতে বাটার ও লবণ দিন। বাটার গলে গেলে ময়দা দিয়ে কাই করে নিন। ময়দার কাই কিছুটা ঠান্ডা হলে একটা করে ডিম দিয়ে মসৃণ করে ডো বানান। চিনি ও পানি জ্বাল দিয়ে সিরা করে রাখুন। এবার ময়দার ডো একটা পাইপিং ব্যাগে নিয়ে পছন্দ মতো নজেল সেট করে নিয়ে হালকা গরম তেলে ছোট ছোট সাইজে তুলুম্বা ভাজুন। লালচে রংয়ে মচমচে হয়ে এলে গরম তুলুম্বা রসে দিন। রসে কিছুক্ষণ রেখে রস ঝরিয়ে উঠিয়ে নিন। ওপরে পেস্তা গুঁড়া ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।