প্রকাশিত সময় :
১০:৫০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
৬৬
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় তিনটি যাত্রীবাহী বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জলুয়ার দিঘীর পাড় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম বাঁশি মোহন দাশ (৫০)। তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, লোহাগাড়ার পুটিভিলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মহাসড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা খড়ে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেই আগুনের ঘন ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে চালকের দৃষ্টিসীমায় বিঘ্ন ঘটে। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী মার্সা পরিবহনের একটি বাস ধোঁয়ার কারণে সামনে দেখতে না পেয়ে আচমকা ব্রেক করে।
ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা লোহাগাড়ামুখী ঈগল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই পেছন থেকে আসা ঈগল পরিবহনের আরেকটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ফলে তিনটি বাসই দুমড়েমুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামিয়া রওশন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই বাঁশি মোহন দাশের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে তিন-চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাশেদ বড়ুয়া বলেন, মূলত খড়ের স্তূপ থেকে বের হওয়া ঘন ধোঁয়ার কারণেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমাদের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন এবং ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় রেকার দিয়ে বাসগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পটিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।