বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রায় বৃষ্টির হানা, ২০ কিলোমিটার যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ২০ কিলোমিটার জুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৫টা থেকে দুই সড়কে এ যানজট দেখা দেয়।

বিকেল গড়াতে শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরের কয়েকশত শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটি পেয়ে কর্মজীবী এসব মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কে নেমেছে হাজার হাজার যাত্রী। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশধার চন্দ্রা এলাকায় যাত্রীর চাপের সঙ্গে ছোট-বড় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। এতে চন্দ্রা টার্মিনালে যানবাহন প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

যার কারণে এ সড়কের চন্দ্রা, খাড়াজোড়া থেকে জেলার কোনাবাড়ী উড়াল সড়ক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ও চন্দ্রা- নবীনগর সড়কে ৬ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টার দাঁড়িয়ে আছে যানবাহন।

ভোগরা বাইপাস এলাকায় কুড়িগ্রামগামী বাসের রমজান হোসেন জানান, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বের হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠেছি। ধীরে ধীরে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৭ ঘণ্টার দূরত্বের যাত্রাপথে কয় ঘণ্টা লাগে পৌঁছাতে তা সময় বলে দেবে।

সোহান ট্রাভেলসের চালক মাহতাবুর রহমান জানান, বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে যানজট বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে যানজট ৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে। এতে পরিবহন ও যাত্রী সবার কষ্ট হবে।

ভোগরা বাইপাস পেয়ারা বাগান কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে গাড়িতে উঠার অপেক্ষায় আছি। যানজটের কারণে গাড়ি আসছে না। এই সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে ফেলেছে পরিবহন মালিকরা। বিকেলে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট এসে কয়েকটি কাউন্টারকে জরিমানা করেছে।

এছাড়া টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কেও বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।

যানজটের ব্যাপারে জানতে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাউগাতুল আলম বলেন, পোশাক কারখানা গুলো দুপুরের পর ছুটি হওয়ার কারণে বিকেলের দিকে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ বেড়ে যায়। এছাড়া বৃষ্টির কারণেও যান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যানজট নিরসনে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঈদযাত্রায় বৃষ্টির হানা, ২০ কিলোমিটার যানজট

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ২০ কিলোমিটার জুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৫টা থেকে দুই সড়কে এ যানজট দেখা দেয়।

বিকেল গড়াতে শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরের কয়েকশত শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটি পেয়ে কর্মজীবী এসব মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কে নেমেছে হাজার হাজার যাত্রী। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশধার চন্দ্রা এলাকায় যাত্রীর চাপের সঙ্গে ছোট-বড় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। এতে চন্দ্রা টার্মিনালে যানবাহন প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

যার কারণে এ সড়কের চন্দ্রা, খাড়াজোড়া থেকে জেলার কোনাবাড়ী উড়াল সড়ক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ও চন্দ্রা- নবীনগর সড়কে ৬ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টার দাঁড়িয়ে আছে যানবাহন।

ভোগরা বাইপাস এলাকায় কুড়িগ্রামগামী বাসের রমজান হোসেন জানান, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বের হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠেছি। ধীরে ধীরে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৭ ঘণ্টার দূরত্বের যাত্রাপথে কয় ঘণ্টা লাগে পৌঁছাতে তা সময় বলে দেবে।

সোহান ট্রাভেলসের চালক মাহতাবুর রহমান জানান, বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে যানজট বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে যানজট ৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে। এতে পরিবহন ও যাত্রী সবার কষ্ট হবে।

ভোগরা বাইপাস পেয়ারা বাগান কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে গাড়িতে উঠার অপেক্ষায় আছি। যানজটের কারণে গাড়ি আসছে না। এই সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে ফেলেছে পরিবহন মালিকরা। বিকেলে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট এসে কয়েকটি কাউন্টারকে জরিমানা করেছে।

এছাড়া টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কেও বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।

যানজটের ব্যাপারে জানতে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাউগাতুল আলম বলেন, পোশাক কারখানা গুলো দুপুরের পর ছুটি হওয়ার কারণে বিকেলের দিকে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ বেড়ে যায়। এছাড়া বৃষ্টির কারণেও যান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যানজট নিরসনে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।