রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিবস্ত্র করে নারী নির্যাতন, ১৩ আসামির ১০ বছর করে সাজা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে চাঞ্চল্যকর নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ৩ মাস বিনাশ্রম সাজা ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন এই রায় ঘোষণা করেন।

২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর ওই নারীকে তার ঘরে ডুকে সংঘবদ্ধভাবে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা করে মামলার প্রধান আসামি নুর হোসেন বাদল তার লোকজন। নির্যাতনের সময় মোবাইলে ধারণকৃত ওই ভিডিও ওই বছরের ৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

গণমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর নড়েছড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনায় ওইদিন রাতে ১৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতা। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি আসামি মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ মেম্বারের সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে বাদ দিয়ে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সেপেক্টর মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী।

৩০ কর্মদিবসে ৪০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর এ রায় প্রদান করা হয়।  আসামিদের মধ্যে ৯ জন জেলহাজতে থাকলেও বাকি ৪ জন এখনও পলাতক রয়েছে।

এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মামলার বাদী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তাতে আসামিদের দেখা না যাওয়া ও কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়া শুধু মামলার ভিত্তিতে আসামিদের ১০ বছরের দণ্ড দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

এদিকে, রায়কে স্বাগত জানিয়ে আগামীতে এমন কাজ করতে আসামিরা ভীত হবে বলে জানিয়েছেন মানবাধীকার কর্মী ও নারী নেত্রীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিবস্ত্র করে নারী নির্যাতন, ১৩ আসামির ১০ বছর করে সাজা

প্রকাশিত সময় : ০৩:০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে চাঞ্চল্যকর নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ৩ মাস বিনাশ্রম সাজা ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন এই রায় ঘোষণা করেন।

২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর ওই নারীকে তার ঘরে ডুকে সংঘবদ্ধভাবে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা করে মামলার প্রধান আসামি নুর হোসেন বাদল তার লোকজন। নির্যাতনের সময় মোবাইলে ধারণকৃত ওই ভিডিও ওই বছরের ৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

গণমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর নড়েছড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনায় ওইদিন রাতে ১৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতা। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি আসামি মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ মেম্বারের সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে বাদ দিয়ে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সেপেক্টর মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী।

৩০ কর্মদিবসে ৪০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর এ রায় প্রদান করা হয়।  আসামিদের মধ্যে ৯ জন জেলহাজতে থাকলেও বাকি ৪ জন এখনও পলাতক রয়েছে।

এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মামলার বাদী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তাতে আসামিদের দেখা না যাওয়া ও কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়া শুধু মামলার ভিত্তিতে আসামিদের ১০ বছরের দণ্ড দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

এদিকে, রায়কে স্বাগত জানিয়ে আগামীতে এমন কাজ করতে আসামিরা ভীত হবে বলে জানিয়েছেন মানবাধীকার কর্মী ও নারী নেত্রীরা।