মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐক্য আর বন্ধুত্বের ‘সাকরাইন’ উৎসব

বাংলাদেশের প্রাচীন উৎসবগুলোর মধ্যে পুরান ঢাকার ‘সাকরাইন’ অন্যতম। যদিও সারা বাংলাদেশে পালিত হয় না এই উৎসব, তবে এটি পুরান ঢাকার খুব জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি।

পৌষসংক্রান্তি, অর্থাৎ পৌষে মাসের শেষ দিন বিকালে ঘুড়ি উড়িয়ে উদযাপন করা হয় এই উৎসব। একে ঐক্য এবং বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।

পৌষসংক্রান্তির শেষ দিন বিকালজুড়ে ঘুড়ি ওড়ানো আর সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি; রং-বেরঙের ফানুসে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী আকাশ। সাকরাইন উৎসব পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, তবে সেখানকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতেই বেশি জমজমাটভাবে উদযাপিত হয় এই উৎসব।

শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, গোয়ালনগর, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, লালবাগ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে ছোট, বড় সকলেই মেতে ওঠেন এই উৎসবে।

এই দিন সারাবিকাল ছাদে কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়ান বিভিন্ন বয়সের মানুষ। অধিকাংশ সময়ে ভোঁ কাট্টা’র প্রতিযোগিতা চলে। একজন অপরজনের ঘুড়ির সুতা কাটার কসরৎ করেই উৎসবে মেতে ওঠেন সবাই।

আর রাত নামলে আতশবাজির আলোয় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে পুরান ঢাকার আকাশ। আগুন মুখে নিয়ে খেলা দেখানো কসরৎবিদরা ছাদে দাঁড়িয়ে দর্শকদের দেখান তাদের কারুকাজ। সন্ধ্যার পর আকাশে ওড়ে রঙবেরঙের ফানুস। আর ঘরে ঘরে তৈরি হয় পিঠাপুলি।

সাকরাইন শব্দটি সংস্কৃত শব্দ সংক্রাণ থেকে এসেছে। যার আভিধানিক অর্থ বিশেষ মুহূর্ত। অর্থাৎ বিশেষ মুহূর্তকে সামনে রেখে যে উৎসব পালিত হয় তাকেই বলা হয় সাকরাইন।

এই সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনেক দেশেই এই উৎসব পালন করে। তবে ভিন্ন ভিন্ন নামে। বাংলায় দিনটি পৌষ সংক্রান্তি এবং ভারতীয় উপমহাদেশে মকর সংক্রান্তি নামে পরিচিত।

ইতিহাস বলছে, ১৭৪০ সালের এই দিনে মোঘল আমলে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি ওড়ানো হত। সেই থেকে এই দিনটি কেন্দ্র করে বর্তমানে এটি একটি অন্যতম উৎসবের আমেজে পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ না রেখে সকলে এই উৎসব পালন করে থাকেন।-একুশে টেলিভিশন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঐক্য আর বন্ধুত্বের ‘সাকরাইন’ উৎসব

প্রকাশিত সময় : ০২:১৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২২

বাংলাদেশের প্রাচীন উৎসবগুলোর মধ্যে পুরান ঢাকার ‘সাকরাইন’ অন্যতম। যদিও সারা বাংলাদেশে পালিত হয় না এই উৎসব, তবে এটি পুরান ঢাকার খুব জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি।

পৌষসংক্রান্তি, অর্থাৎ পৌষে মাসের শেষ দিন বিকালে ঘুড়ি উড়িয়ে উদযাপন করা হয় এই উৎসব। একে ঐক্য এবং বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।

পৌষসংক্রান্তির শেষ দিন বিকালজুড়ে ঘুড়ি ওড়ানো আর সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি; রং-বেরঙের ফানুসে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী আকাশ। সাকরাইন উৎসব পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, তবে সেখানকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতেই বেশি জমজমাটভাবে উদযাপিত হয় এই উৎসব।

শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, গোয়ালনগর, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, লালবাগ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে ছোট, বড় সকলেই মেতে ওঠেন এই উৎসবে।

এই দিন সারাবিকাল ছাদে কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়ান বিভিন্ন বয়সের মানুষ। অধিকাংশ সময়ে ভোঁ কাট্টা’র প্রতিযোগিতা চলে। একজন অপরজনের ঘুড়ির সুতা কাটার কসরৎ করেই উৎসবে মেতে ওঠেন সবাই।

আর রাত নামলে আতশবাজির আলোয় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে পুরান ঢাকার আকাশ। আগুন মুখে নিয়ে খেলা দেখানো কসরৎবিদরা ছাদে দাঁড়িয়ে দর্শকদের দেখান তাদের কারুকাজ। সন্ধ্যার পর আকাশে ওড়ে রঙবেরঙের ফানুস। আর ঘরে ঘরে তৈরি হয় পিঠাপুলি।

সাকরাইন শব্দটি সংস্কৃত শব্দ সংক্রাণ থেকে এসেছে। যার আভিধানিক অর্থ বিশেষ মুহূর্ত। অর্থাৎ বিশেষ মুহূর্তকে সামনে রেখে যে উৎসব পালিত হয় তাকেই বলা হয় সাকরাইন।

এই সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনেক দেশেই এই উৎসব পালন করে। তবে ভিন্ন ভিন্ন নামে। বাংলায় দিনটি পৌষ সংক্রান্তি এবং ভারতীয় উপমহাদেশে মকর সংক্রান্তি নামে পরিচিত।

ইতিহাস বলছে, ১৭৪০ সালের এই দিনে মোঘল আমলে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি ওড়ানো হত। সেই থেকে এই দিনটি কেন্দ্র করে বর্তমানে এটি একটি অন্যতম উৎসবের আমেজে পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ না রেখে সকলে এই উৎসব পালন করে থাকেন।-একুশে টেলিভিশন