মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণহারে মাস্টার্স করার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে

অনার্সকে টার্মিনাল (প্রান্তিক) ডিগ্রি বাস্তবায়ন করে গণহারে মাস্টার্স করার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন নীতি বাস্তবায়নের কথা বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বলছে, গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থায় যেতে হলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হলে যে আবাসন সংকট সেটা থেকেও তারা বেরিয়ে আসতে পারবে। এর বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ হলেও এমনটি হলে তা গবেষণা অঙ্গনে ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে এমনটা প্রত্যাশা তাদের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, স্নাতকই হবে প্রান্তিক ডিগ্রি। এটাই হচ্ছে আমাদের মূল বার্তা। বাংলাদেশে এটা আছে। অনার্স পাস করে বিসিএসে অংশ নিয়ে মাস্টার্স ছাড়া সিনিয়র সচিবও হতে পারে। কোনো সমস্যা নেই। এরপর যারা উচ্চতর শিক্ষা যেমন এমফিল-পিএইচডি, শিক্ষকতা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যেতে চায় তাদের মাস্টার্সের সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে যারা মাস্টার্স করে, তারা স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ নিয়ে করে। আমরা সবাইকে গণহারে না দিয়ে যারা মাস্টার্স করতে পারবে তাদের স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের আওতায় নিয়ে আসতে পারব। কিন্তু সেটা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার মতো রিসোর্স আমাদের নেই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বহু আগে থেকেই অনার্সকে টার্মিনাল (প্রান্তিক) ডিগ্রি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষক হিসেবে তখন প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম, এটা যদি টার্মিনাল ডিগ্রি হয় তাহলে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোয় মাস্টার্স না চেয়ে অনার্সই চাইত। তাহলেই এটা যে টার্মিনাল ডিগ্রি সেটা প্রমাণিত হবে। আমি অনার্সকে টার্মিনাল ডিগ্রি করে দিয়ে যদি সবার কাছে মাস্টার্স চাই তাহলে এটা টার্মিনাল ডিগ্রি হলো? সরকার যদি নির্দেশনা দেয় আমরাও সেটা মান্য করব অবশ্যই। কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রেও সেটা মান্য করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গণহারে মাস্টার্স করার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২২

অনার্সকে টার্মিনাল (প্রান্তিক) ডিগ্রি বাস্তবায়ন করে গণহারে মাস্টার্স করার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন নীতি বাস্তবায়নের কথা বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বলছে, গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থায় যেতে হলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হলে যে আবাসন সংকট সেটা থেকেও তারা বেরিয়ে আসতে পারবে। এর বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ হলেও এমনটি হলে তা গবেষণা অঙ্গনে ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে এমনটা প্রত্যাশা তাদের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, স্নাতকই হবে প্রান্তিক ডিগ্রি। এটাই হচ্ছে আমাদের মূল বার্তা। বাংলাদেশে এটা আছে। অনার্স পাস করে বিসিএসে অংশ নিয়ে মাস্টার্স ছাড়া সিনিয়র সচিবও হতে পারে। কোনো সমস্যা নেই। এরপর যারা উচ্চতর শিক্ষা যেমন এমফিল-পিএইচডি, শিক্ষকতা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যেতে চায় তাদের মাস্টার্সের সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে যারা মাস্টার্স করে, তারা স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ নিয়ে করে। আমরা সবাইকে গণহারে না দিয়ে যারা মাস্টার্স করতে পারবে তাদের স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের আওতায় নিয়ে আসতে পারব। কিন্তু সেটা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার মতো রিসোর্স আমাদের নেই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বহু আগে থেকেই অনার্সকে টার্মিনাল (প্রান্তিক) ডিগ্রি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষক হিসেবে তখন প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম, এটা যদি টার্মিনাল ডিগ্রি হয় তাহলে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোয় মাস্টার্স না চেয়ে অনার্সই চাইত। তাহলেই এটা যে টার্মিনাল ডিগ্রি সেটা প্রমাণিত হবে। আমি অনার্সকে টার্মিনাল ডিগ্রি করে দিয়ে যদি সবার কাছে মাস্টার্স চাই তাহলে এটা টার্মিনাল ডিগ্রি হলো? সরকার যদি নির্দেশনা দেয় আমরাও সেটা মান্য করব অবশ্যই। কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রেও সেটা মান্য করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।