শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যকর্মীর ভুলে ডাবল ডোজ টিকা নিল ৫ শিক্ষার্থী

লালমনিরহাটের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম টিকাদান কেন্দে ভুলবশত ৫ শিক্ষার্থীকে কোভিড-১৯ ’র ডাবল ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ৭দিন ধরে অসুস্থ হয়ে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থাকলেও স্বাস্থ্যবিভাগের কেউ খোঁজ নেননি। বরং শিক্ষার্থীরা মিথ্যা কথা দিয়েছেন বলে দাবি স্বাস্থ্য কর্মীদের।

সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ জানুয়ারি) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা প্রদান ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ওইদিন চর কুলাঘাট দাখিল মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করেন। টিকা কেন্দ্রে ওইসময় টিকা দিয়ে চলে যাওয়ার সময় খোরশেদ আলম, লিমন মিয়া, আতিকুর রহমান ইমতিয়াজ আহম্মেদ ও মমিনুল ইসলামকে এক স্বাস্থ্যকর্মী ডেকে নিয়ে আবারও আরেকটি হাতে করোনা টিকা দেন। এতে ৫ শিক্ষার্থীর ডাবল ডোজ টিকা দিয়ে আতংকিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ভীত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে।

এতে কিছু হবে না বলে ওই টিকাদান কেন্দ্রের কতিপয় স্বাস্থ্যকর্মী তাকে আশ্বাস্ত করে। পরে তাদের টিকা নিয়ে বাড়িতে আসতে না আসতেই সন্ধ্যার পরে ওই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হোন। পরে পরিবার জানতে পেরে সিভিল সার্জনের সাথে যোগযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোনে কল দিলেও না পেয়ে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান শিক্ষার্থীদের পরিবার। সেখানে প্রায় ঘন্টাখানেক রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের আবারও বাড়িতে পাঠিয়ে দেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ওইদিন বিষয়টি গোপন রাখতে শিক্ষার্থীদের পরিবারকে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক নিষেধ করেন। এদিকে টানা ৭দিন পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালের বা স্বাস্থ্যকর্মীরা কেউ খোঁজ নেননি বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীদের পরিবার।

শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম বলেন, টিকা দেয়ার শেষে আমি চলে আসছিলাম। এক হাতে টিকা দেওয়া হয়েছে, এ কথা বলার পরেও ম্যডাম ডেকে আরেক হাতে টিকা দিয়ে দিয়েছেন। পরে বাড়িতে এসেই আমিসহ আরও ৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়ি।

শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলামের বাবা রহিম মিয়া বলেন, করোনা টিকা দিয়ে আসার পর বাড়িতে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা ভুল করে ডাবল টিকা দিল, অথচ তারাই আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। আমরা নাকি এটা নিয়ে বেশি বারাবারি করছি। সন্তানের যদি কোন ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে কি হত আজ। তাই আমি যারা এই ভুল করেছে তাদের শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করে বলেন, ডাবল ডোজ টিকা দেওয়ার কোন উপায় নেই। এটি হয়তো তারা ভুল বলছেন। আর নিলেও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হওয়ার কথা নয় এবং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে টিকা গ্রহণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অধিকার

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্বাস্থ্যকর্মীর ভুলে ডাবল ডোজ টিকা নিল ৫ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত সময় : ০২:১০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২

লালমনিরহাটের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম টিকাদান কেন্দে ভুলবশত ৫ শিক্ষার্থীকে কোভিড-১৯ ’র ডাবল ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ৭দিন ধরে অসুস্থ হয়ে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থাকলেও স্বাস্থ্যবিভাগের কেউ খোঁজ নেননি। বরং শিক্ষার্থীরা মিথ্যা কথা দিয়েছেন বলে দাবি স্বাস্থ্য কর্মীদের।

সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ জানুয়ারি) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা প্রদান ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ওইদিন চর কুলাঘাট দাখিল মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করেন। টিকা কেন্দ্রে ওইসময় টিকা দিয়ে চলে যাওয়ার সময় খোরশেদ আলম, লিমন মিয়া, আতিকুর রহমান ইমতিয়াজ আহম্মেদ ও মমিনুল ইসলামকে এক স্বাস্থ্যকর্মী ডেকে নিয়ে আবারও আরেকটি হাতে করোনা টিকা দেন। এতে ৫ শিক্ষার্থীর ডাবল ডোজ টিকা দিয়ে আতংকিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ভীত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে।

এতে কিছু হবে না বলে ওই টিকাদান কেন্দ্রের কতিপয় স্বাস্থ্যকর্মী তাকে আশ্বাস্ত করে। পরে তাদের টিকা নিয়ে বাড়িতে আসতে না আসতেই সন্ধ্যার পরে ওই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হোন। পরে পরিবার জানতে পেরে সিভিল সার্জনের সাথে যোগযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোনে কল দিলেও না পেয়ে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান শিক্ষার্থীদের পরিবার। সেখানে প্রায় ঘন্টাখানেক রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের আবারও বাড়িতে পাঠিয়ে দেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ওইদিন বিষয়টি গোপন রাখতে শিক্ষার্থীদের পরিবারকে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক নিষেধ করেন। এদিকে টানা ৭দিন পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালের বা স্বাস্থ্যকর্মীরা কেউ খোঁজ নেননি বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীদের পরিবার।

শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম বলেন, টিকা দেয়ার শেষে আমি চলে আসছিলাম। এক হাতে টিকা দেওয়া হয়েছে, এ কথা বলার পরেও ম্যডাম ডেকে আরেক হাতে টিকা দিয়ে দিয়েছেন। পরে বাড়িতে এসেই আমিসহ আরও ৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়ি।

শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলামের বাবা রহিম মিয়া বলেন, করোনা টিকা দিয়ে আসার পর বাড়িতে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা ভুল করে ডাবল টিকা দিল, অথচ তারাই আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। আমরা নাকি এটা নিয়ে বেশি বারাবারি করছি। সন্তানের যদি কোন ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে কি হত আজ। তাই আমি যারা এই ভুল করেছে তাদের শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করে বলেন, ডাবল ডোজ টিকা দেওয়ার কোন উপায় নেই। এটি হয়তো তারা ভুল বলছেন। আর নিলেও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হওয়ার কথা নয় এবং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে টিকা গ্রহণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অধিকার