মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভালোবাসার দিন আজ

ভালোবাসার দিন আজ

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস দিবস তরুণ-তরুণীদেরই শুধু নয়, বরং সব বয়সের মানুষের ভালোবাসা প্রকাশের দিন। দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য সব শ্রেণীর মানুষ নিজের ভালোবাসার স্বরূপ বলতে চান প্রিয় মানুষের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে। দিনটির একটি ইতিহাস মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।

পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভ্যালেন্টাইনস বা ভালোবাসা দিবস। এদিন অধিকাংশ তরুণ-তরুণীকে ফুল, চকলেট, কার্ড, ডলস বা টেডি হাতে নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। ভালোবাসা দিবসে কী করা যায় এই নিয়ে অনেকেই জানতে চান। এদিন প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কোথাও ভ্রমণ করা যেতে পারে। প্রিয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে উপহার দেয়া যেতে পারে। মেয়েদেরকে দেয়ার মতো উপহার হতে পারে চকলেট, কার্ড, ডলস বা টেডি। আর ছেলেদের দেয়ার মতো উপহার হতে পারে টি-শার্ট, শার্ট, হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ। ভালোবাসা দিবসে কোথাও ঘুরতে বের হয়ে একসঙ্গে সময় কাটালে পুরনো অভিমান ভেঙে যাবে। সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

১৪ ফেব্রুয়ারি কোথা থেকে এলো এই প্রশ্নের জবাবে অনেকে বলেন প্রাচীন রোমান উৎসব লোপারকেলিয়াকে কেন্দ্র করে ভালোবাসা দিবস এসেছে। রোমানরা মেয়ে ও বিবাহের দেবতা হিসেবে যোনোর সম্মানে এই উৎসব পালন করতো। এদিন মেয়েরা চিরকুটে ভালোবাসার নোট লিখে কলসের মতো একটি জারে রেখে দিতো যা বিলেটস নামে পরিচিত। এরপর ছেলেরা চিরকুটটি জার থেকে তুলতো। সেই চিরকুটে যে মেয়ের নাম লেখা থাকতো সেই মেয়ের সন্ধানে বের হতো ছেলেরা। একই সঙ্গে সেই মেয়ের নাম ছেলেটি তার শার্টে লিখে রাখতো ও লোকজনকে তার ভালোবাসার মানুষ সম্পর্কে জানিয়ে দিতো।

ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে আরেকটি জনশ্রুতি হলো রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস যুদ্ধের জন্য সব ধরনের বিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সম্রাটের ঘোষণার প্রতিবাদে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে এক চিকিৎসক ১৪ ফেব্রুয়ারি এক জুটির বিয়ে সম্পন্ন করেন। এই কারণেই এদিন ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তবে ভালোবাসা দিবসের মূল ইতিহাস হলো চিকিৎসক ও পাদ্রী সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে কেন্দ্র করে। ইতালির রোম শহরে একজন চিকিৎসক ছিলেন যার নাম ছিলো সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি চিকিৎসাপেশার পাশাপাশি ছিলেন পাদ্রী।

২৬৯ খ্রিস্টাব্দে তখনকার রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন সম্রাটের নির্দেশ অমান্য করে ধর্মপ্রচার করেন। ফলে তাঁকে এই অভিযোগে বন্দী রাখা হয়। কারাগারে বন্দী অবস্থায় জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এর মধ্য দিয়ে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

কারাবন্দী ভ্যালেন্টাইনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। যেদিন তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছিলো সেদিনে ছিলো ১৪ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তীতে ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ সেন্ট জেলাসিও ভ্যালেন্টাইনকে স্মরণ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস দিবস ঘোষণা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভালোবাসার দিন আজ

প্রকাশিত সময় : ১২:০৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস দিবস তরুণ-তরুণীদেরই শুধু নয়, বরং সব বয়সের মানুষের ভালোবাসা প্রকাশের দিন। দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য সব শ্রেণীর মানুষ নিজের ভালোবাসার স্বরূপ বলতে চান প্রিয় মানুষের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে। দিনটির একটি ইতিহাস মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।

পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভ্যালেন্টাইনস বা ভালোবাসা দিবস। এদিন অধিকাংশ তরুণ-তরুণীকে ফুল, চকলেট, কার্ড, ডলস বা টেডি হাতে নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। ভালোবাসা দিবসে কী করা যায় এই নিয়ে অনেকেই জানতে চান। এদিন প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কোথাও ভ্রমণ করা যেতে পারে। প্রিয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে উপহার দেয়া যেতে পারে। মেয়েদেরকে দেয়ার মতো উপহার হতে পারে চকলেট, কার্ড, ডলস বা টেডি। আর ছেলেদের দেয়ার মতো উপহার হতে পারে টি-শার্ট, শার্ট, হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ। ভালোবাসা দিবসে কোথাও ঘুরতে বের হয়ে একসঙ্গে সময় কাটালে পুরনো অভিমান ভেঙে যাবে। সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

১৪ ফেব্রুয়ারি কোথা থেকে এলো এই প্রশ্নের জবাবে অনেকে বলেন প্রাচীন রোমান উৎসব লোপারকেলিয়াকে কেন্দ্র করে ভালোবাসা দিবস এসেছে। রোমানরা মেয়ে ও বিবাহের দেবতা হিসেবে যোনোর সম্মানে এই উৎসব পালন করতো। এদিন মেয়েরা চিরকুটে ভালোবাসার নোট লিখে কলসের মতো একটি জারে রেখে দিতো যা বিলেটস নামে পরিচিত। এরপর ছেলেরা চিরকুটটি জার থেকে তুলতো। সেই চিরকুটে যে মেয়ের নাম লেখা থাকতো সেই মেয়ের সন্ধানে বের হতো ছেলেরা। একই সঙ্গে সেই মেয়ের নাম ছেলেটি তার শার্টে লিখে রাখতো ও লোকজনকে তার ভালোবাসার মানুষ সম্পর্কে জানিয়ে দিতো।

ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে আরেকটি জনশ্রুতি হলো রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস যুদ্ধের জন্য সব ধরনের বিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সম্রাটের ঘোষণার প্রতিবাদে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে এক চিকিৎসক ১৪ ফেব্রুয়ারি এক জুটির বিয়ে সম্পন্ন করেন। এই কারণেই এদিন ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তবে ভালোবাসা দিবসের মূল ইতিহাস হলো চিকিৎসক ও পাদ্রী সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে কেন্দ্র করে। ইতালির রোম শহরে একজন চিকিৎসক ছিলেন যার নাম ছিলো সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি চিকিৎসাপেশার পাশাপাশি ছিলেন পাদ্রী।

২৬৯ খ্রিস্টাব্দে তখনকার রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন সম্রাটের নির্দেশ অমান্য করে ধর্মপ্রচার করেন। ফলে তাঁকে এই অভিযোগে বন্দী রাখা হয়। কারাগারে বন্দী অবস্থায় জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এর মধ্য দিয়ে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

কারাবন্দী ভ্যালেন্টাইনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। যেদিন তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছিলো সেদিনে ছিলো ১৪ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তীতে ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ সেন্ট জেলাসিও ভ্যালেন্টাইনকে স্মরণ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস দিবস ঘোষণা করেন।