সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিয়ে না দেয়ায় বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে কিশোরের আত্মহত্যা

বিয়ে না দেয়ায় বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে গলায় ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে হৃদয় হোসেন (১৬) নামের এক কিশোর। সে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের দুলালের হোসেনের ছেলে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের চালার ডাবের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় হৃদয়ের মরদেহ দেখতে পায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হৃদয় বিয়ে করতে চাইতো। প্রায়ই বিয়ে নিয়ে পরিবারে অশান্তি করতো। কিন্তু নিদিষ্ট কর্ম ও বিয়ের বয়স না হওয়ায় অভিভাবকরা তাকে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। মঙ্গলবার রাতে হৃদয়ের কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশিদের ডেকে এনে দরজা ভেঙ্গে দেখে হৃদয়ের দেহ চালার ডাবের সাথে ঝুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়নাল হোসেন জানান, হৃদয় প্রায়ই বিয়ে করার জন্য বাবা ও মাকে বলতেন। একাধিকবার এ নিয়ে পারিবারিকভাবে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। প্রায় তিন মাসে আগে বিয়ের দাবিতে হৃদয় বিষপানও করেছিলেন। দ্রত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায় সে প্রাণে রা পায়।

মুলাডুলি ইউপি সদস্য (মেম্বার) বানেছ আলী প্রামানিক বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে শুনতে পেলাম ছেলেটি বিয়ে করতে চেয়েছিল কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল না। ছেলেটিও কোন কর্ম করে না। তাই ছেলের বাবা বলেছিল কিছুদিন পরে বিয়ে দিবে বলে সান্তনা দিয়েছিল। কিন্তু ছেলে না শুনে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান আসাদ বিয়ে না দেয়ায় আত্মহত্যার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। হৃদয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিয়ে না দেয়ায় বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে কিশোরের আত্মহত্যা

প্রকাশিত সময় : ১০:০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ মার্চ ২০২২

বিয়ে না দেয়ায় বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে গলায় ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে হৃদয় হোসেন (১৬) নামের এক কিশোর। সে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের দুলালের হোসেনের ছেলে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের চালার ডাবের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় হৃদয়ের মরদেহ দেখতে পায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হৃদয় বিয়ে করতে চাইতো। প্রায়ই বিয়ে নিয়ে পরিবারে অশান্তি করতো। কিন্তু নিদিষ্ট কর্ম ও বিয়ের বয়স না হওয়ায় অভিভাবকরা তাকে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। মঙ্গলবার রাতে হৃদয়ের কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশিদের ডেকে এনে দরজা ভেঙ্গে দেখে হৃদয়ের দেহ চালার ডাবের সাথে ঝুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়নাল হোসেন জানান, হৃদয় প্রায়ই বিয়ে করার জন্য বাবা ও মাকে বলতেন। একাধিকবার এ নিয়ে পারিবারিকভাবে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। প্রায় তিন মাসে আগে বিয়ের দাবিতে হৃদয় বিষপানও করেছিলেন। দ্রত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায় সে প্রাণে রা পায়।

মুলাডুলি ইউপি সদস্য (মেম্বার) বানেছ আলী প্রামানিক বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে শুনতে পেলাম ছেলেটি বিয়ে করতে চেয়েছিল কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল না। ছেলেটিও কোন কর্ম করে না। তাই ছেলের বাবা বলেছিল কিছুদিন পরে বিয়ে দিবে বলে সান্তনা দিয়েছিল। কিন্তু ছেলে না শুনে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান আসাদ বিয়ে না দেয়ায় আত্মহত্যার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। হৃদয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন।