বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে অনিন্দ্য স্থাপত্যশৈলীর কাজী আশরাফ মসজিদ 

শ্রীমঙ্গলে অনিন্দ্য স্থাপত্যশৈলীর কাজী আশরাফ মসজিদ 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজারের ‘কাজী ট্রাংক’ চেনেন না সিলেট অঞ্চলে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। ৮০-৯০ দশকে এ অঞ্চলের  ঘরে ঘরে জনপ্রিয়  এ কাজী ট্রাংক দেখা যেত। কাজী আশরাফ আলী ছিলেন কাজী ট্রাংক ফ্যক্টরীর সত্বাধিকারী। কাজী আশরাফ এর মৃত্যু আর প্লাস্টিক পণ্যের আধিপত্যে স্টীলের তৈরি ‘কাজী ট্রাংক’ এর সেই কদর না থাকলেও  মরহুম কাজী সাহেবের সুযোগ্য সন্তানরা পৈতৃক সেই ব্যবসা এখনও আঁকড়ে ধরে আছেন। ছেলে মেয়েরা এখন দেশ বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। বাবার মৃত্যুর পর সন্তানরা বাবা স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে পিছপা হননি। মূলতঃ বাবার স্মৃতি ধরে রাখতেই কাজী আশরাফ আলী জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্বে সিঁন্দুরখান রোডের টিকরিয়া, বি-চক এলাকায় ১৩ শতাংশ জায়গাজুড়ে এর অবস্থান। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হলেও মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। শেষ হয় এবছরের ২২ ফেব্রুয়ারিতে।  টার্কিশ স্থাপত্য শৈলী  অনুসরণে নির্মিত অনিন্দ্য সুন্দর এই মসজিদ নির্মাণ কাজে গম্বুজ তৈরিতে মসজিদে নববীর আদলে অলংকৃত  করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এর নির্মাণ ব্যয় হয় প্রায় এক কোটি টাকা। আধুনিক ডিজাইনের টাইলস, বিদেশী পেইন্টের বৈচিত্র্য,  রাতের আলোকসজ্জা, চোখ জুড়ানো খিলানে নিপুণ হাতের কারুকাজ সবমিলে এক অসাধারণ সৌন্দর্য দেখে যে কারোই প্রাণ জুড়াবে। এরি মধ্যে স্থানীয় ও আশেপাশের এলাকার  মানুষের মধ্যে মসজিদটি নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। অনেকে মসজিদটিতে একবারের জন্য নামাজ পড়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ মিয়া মসজিদ নির্মাণের নক্সা করেন।
শ্রীমঙ্গলের সংবাদকর্মী আহমদ এহসান সুমন বলেন, মসজিদটার কথা অনেক শুনেছি। আশা আছে- নিজের চোখে একবার দেখার এবং জুমা’র নামাজ আদায় করে আসবো।
মরহুম কাজী আশরাফ আলীর লন্ডন প্রবাসী কন্যা কাজী আয়েশা জানান, বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে আমরা কারো অমুদান ছাড়াই পারিবারিক উদ্যোগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছি। মসজিদটি কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা আছে।
কাজী সাহেবের জৈষ্ঠ্য পুত্র কাজী ট্রাংক এর বর্তমান কর্ণধার কাজী জাহাঙ্গীর বলেন, কাজী ট্রাংক এর ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি আব্বা একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। দরিদ্র মানুষের সাহায্য করতেন। অত্র অঞ্চলে তাঁর অনেক সুনাম ছিলো। বাবার মৃত্যুর পর আমরা সব ভাই বোন মিলে বাবার নামে এই মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেই। আল্লাহ তায়া’লার অশেষ মেহেরবানীতে এ বছর মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এখন প্রতিদিনই দূর দুরান্ত থেকে লোকজন এর সৌন্দর্য দেখতে আসছেন।
কাজী আশরাফ আলী জামে মসজিদ’র জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. ইউসুব আলী এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রত্যন্ত বি -চক টিকরিয়া গ্রামে অবস্থিত নান্দনিক সৌন্দর্যের এই মসজিটি এক নজর দেখার জন্য দুর দুরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসতে দেখা গেছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

শ্রীমঙ্গলে অনিন্দ্য স্থাপত্যশৈলীর কাজী আশরাফ মসজিদ 

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজারের ‘কাজী ট্রাংক’ চেনেন না সিলেট অঞ্চলে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। ৮০-৯০ দশকে এ অঞ্চলের  ঘরে ঘরে জনপ্রিয়  এ কাজী ট্রাংক দেখা যেত। কাজী আশরাফ আলী ছিলেন কাজী ট্রাংক ফ্যক্টরীর সত্বাধিকারী। কাজী আশরাফ এর মৃত্যু আর প্লাস্টিক পণ্যের আধিপত্যে স্টীলের তৈরি ‘কাজী ট্রাংক’ এর সেই কদর না থাকলেও  মরহুম কাজী সাহেবের সুযোগ্য সন্তানরা পৈতৃক সেই ব্যবসা এখনও আঁকড়ে ধরে আছেন। ছেলে মেয়েরা এখন দেশ বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। বাবার মৃত্যুর পর সন্তানরা বাবা স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে পিছপা হননি। মূলতঃ বাবার স্মৃতি ধরে রাখতেই কাজী আশরাফ আলী জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্বে সিঁন্দুরখান রোডের টিকরিয়া, বি-চক এলাকায় ১৩ শতাংশ জায়গাজুড়ে এর অবস্থান। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হলেও মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। শেষ হয় এবছরের ২২ ফেব্রুয়ারিতে।  টার্কিশ স্থাপত্য শৈলী  অনুসরণে নির্মিত অনিন্দ্য সুন্দর এই মসজিদ নির্মাণ কাজে গম্বুজ তৈরিতে মসজিদে নববীর আদলে অলংকৃত  করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এর নির্মাণ ব্যয় হয় প্রায় এক কোটি টাকা। আধুনিক ডিজাইনের টাইলস, বিদেশী পেইন্টের বৈচিত্র্য,  রাতের আলোকসজ্জা, চোখ জুড়ানো খিলানে নিপুণ হাতের কারুকাজ সবমিলে এক অসাধারণ সৌন্দর্য দেখে যে কারোই প্রাণ জুড়াবে। এরি মধ্যে স্থানীয় ও আশেপাশের এলাকার  মানুষের মধ্যে মসজিদটি নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। অনেকে মসজিদটিতে একবারের জন্য নামাজ পড়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ মিয়া মসজিদ নির্মাণের নক্সা করেন।
শ্রীমঙ্গলের সংবাদকর্মী আহমদ এহসান সুমন বলেন, মসজিদটার কথা অনেক শুনেছি। আশা আছে- নিজের চোখে একবার দেখার এবং জুমা’র নামাজ আদায় করে আসবো।
মরহুম কাজী আশরাফ আলীর লন্ডন প্রবাসী কন্যা কাজী আয়েশা জানান, বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে আমরা কারো অমুদান ছাড়াই পারিবারিক উদ্যোগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছি। মসজিদটি কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা আছে।
কাজী সাহেবের জৈষ্ঠ্য পুত্র কাজী ট্রাংক এর বর্তমান কর্ণধার কাজী জাহাঙ্গীর বলেন, কাজী ট্রাংক এর ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি আব্বা একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। দরিদ্র মানুষের সাহায্য করতেন। অত্র অঞ্চলে তাঁর অনেক সুনাম ছিলো। বাবার মৃত্যুর পর আমরা সব ভাই বোন মিলে বাবার নামে এই মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেই। আল্লাহ তায়া’লার অশেষ মেহেরবানীতে এ বছর মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এখন প্রতিদিনই দূর দুরান্ত থেকে লোকজন এর সৌন্দর্য দেখতে আসছেন।
কাজী আশরাফ আলী জামে মসজিদ’র জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. ইউসুব আলী এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রত্যন্ত বি -চক টিকরিয়া গ্রামে অবস্থিত নান্দনিক সৌন্দর্যের এই মসজিটি এক নজর দেখার জন্য দুর দুরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসতে দেখা গেছে।