শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবীজি (সা.) ইফতারে যা খেতেন

সাদাসিধে ইফতার প্রিয় নবী (সা.)-এর পছন্দ ছিল। কিছু আধা-পাকা অথবা পূর্ণ পাকা (শুকনা) খেজুর দিয়ে এবং তা না পাওয়া গেলে পানি দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) নামাজের আগে কিছু আধা-পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তা না পেলে পূর্ণ পাকা (শুকনা) খেজুর দিয়ে এবং তাও না পেলে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে নিতেন।

’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৯৬, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২০৬৫)

মহানবী (সা.) খুব সাদাসিধে ইফতার পছন্দ করতেন। আবদুল্লাহ বিন আবি আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রোজায় আমরা রাসুল (সা.)-এর সফরসঙ্গী ছিলাম। সূর্যাস্তের সময় তিনি একজনকে ডেকে বললেন, ছাতু ও পানি মিশিয়ে ইফতার পরিবেশন করো। ’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৯৯)

অনেকে মাহে রমজানে ইফতারের সময় বহু আইটেমের ইফতারি প্রস্তুত করে। নানা ধরনের শাক-সব্জি, ফল-মূল, শরবত-জুস ও ক্ষীর-পায়েশ-সেমাই-পিঠা-পুরি ইত্যাদির সম্ভার প্রস্তুত করে। যার অনেকাংশ অপ্রয়োজনীয়। এর অতিরিক্ত অংশ ফেলে দিতে হয়। এটি নিঃসন্দেহে বর্জনীয়। রমজান আমাদের কাছে তা চায় না। তাছাড়া অপচয় ইসলামে নিষিদ্ধ ও নিন্দিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘….আর তোমরা খাও এবং পান কোরো। আর অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। ’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৩১)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কিছুতেই অপব্যয় কোরো না। কারণ, অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। ’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬-২৭)

এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উচিৎ। উচিৎ নয় কৃপণদের পথ অবলম্বন করা। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী ইফতার করবে। আমর ইবনু শুআইব (রহ.) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর বাবা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তাঁর দাদা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ তাঁর দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন তাঁর বান্দার ওপর দেখতে ভালোবাসেন। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮১৯)

আবার অপচয় ও অপব্যয়ের পথ গ্রহণ করাও বৈধ নয়। বরং ইফতারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে।

ইফতারের সময় ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবারও ত্যাগ করা উচিত। কেননা রোজায় মধ্যে সুস্থতার উপাদান আছে। কাজেই নিজেদের খাদ্যাভ্যাসের কারণে নিজেকে অসুস্থতা ও রুগ্ণতার দিকে ঠেলে দেওয়া কাম্য নয়।

কেউ চাইলে ইফতারের আগে রাতের খাবার খেয়ে নিতে পারে। আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রাতের খাবার উপস্থিত হলে মাগরিবের নামাজ পড়ার আগে তোমরা তা খেয়ে নাও। আর সে খাবার খেতে তাড়াহুড়া কোরো না। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৭২, মুসলিম, হাদিস : ৫৫৭)

মহান আল্লাহ আমাদের সিয়াম-কিয়াম ও সাহরি-ইফতার কবুল করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নবীজি (সা.) ইফতারে যা খেতেন

প্রকাশিত সময় : ০৩:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ এপ্রিল ২০২২

সাদাসিধে ইফতার প্রিয় নবী (সা.)-এর পছন্দ ছিল। কিছু আধা-পাকা অথবা পূর্ণ পাকা (শুকনা) খেজুর দিয়ে এবং তা না পাওয়া গেলে পানি দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) নামাজের আগে কিছু আধা-পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তা না পেলে পূর্ণ পাকা (শুকনা) খেজুর দিয়ে এবং তাও না পেলে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে নিতেন।

’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৯৬, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২০৬৫)

মহানবী (সা.) খুব সাদাসিধে ইফতার পছন্দ করতেন। আবদুল্লাহ বিন আবি আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রোজায় আমরা রাসুল (সা.)-এর সফরসঙ্গী ছিলাম। সূর্যাস্তের সময় তিনি একজনকে ডেকে বললেন, ছাতু ও পানি মিশিয়ে ইফতার পরিবেশন করো। ’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৯৯)

অনেকে মাহে রমজানে ইফতারের সময় বহু আইটেমের ইফতারি প্রস্তুত করে। নানা ধরনের শাক-সব্জি, ফল-মূল, শরবত-জুস ও ক্ষীর-পায়েশ-সেমাই-পিঠা-পুরি ইত্যাদির সম্ভার প্রস্তুত করে। যার অনেকাংশ অপ্রয়োজনীয়। এর অতিরিক্ত অংশ ফেলে দিতে হয়। এটি নিঃসন্দেহে বর্জনীয়। রমজান আমাদের কাছে তা চায় না। তাছাড়া অপচয় ইসলামে নিষিদ্ধ ও নিন্দিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘….আর তোমরা খাও এবং পান কোরো। আর অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। ’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৩১)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কিছুতেই অপব্যয় কোরো না। কারণ, অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। ’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬-২৭)

এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উচিৎ। উচিৎ নয় কৃপণদের পথ অবলম্বন করা। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী ইফতার করবে। আমর ইবনু শুআইব (রহ.) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর বাবা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তাঁর দাদা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ তাঁর দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন তাঁর বান্দার ওপর দেখতে ভালোবাসেন। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮১৯)

আবার অপচয় ও অপব্যয়ের পথ গ্রহণ করাও বৈধ নয়। বরং ইফতারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে।

ইফতারের সময় ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবারও ত্যাগ করা উচিত। কেননা রোজায় মধ্যে সুস্থতার উপাদান আছে। কাজেই নিজেদের খাদ্যাভ্যাসের কারণে নিজেকে অসুস্থতা ও রুগ্ণতার দিকে ঠেলে দেওয়া কাম্য নয়।

কেউ চাইলে ইফতারের আগে রাতের খাবার খেয়ে নিতে পারে। আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রাতের খাবার উপস্থিত হলে মাগরিবের নামাজ পড়ার আগে তোমরা তা খেয়ে নাও। আর সে খাবার খেতে তাড়াহুড়া কোরো না। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৭২, মুসলিম, হাদিস : ৫৫৭)

মহান আল্লাহ আমাদের সিয়াম-কিয়াম ও সাহরি-ইফতার কবুল করুন। আমিন।