রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোনালদোর এক কথায় কোকাকোলার মাথায় হাত

রোনালদোর এক কথায় কোকাকোলার মাথায় হাত

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কোকাকোলার বোতল সরিয়ে পানি খাওয়ার আহ্বানে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বেশ বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি। শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় প্রায় চারশ কোটি ডলার (বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা) হারিয়েছে তারা। মঙ্গলবার (১৫ জুন) ক্রীড়া বিষয়ক স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা কোকাকোলার শেয়ার ধসের খবরটি জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীসংখ্যায় রোনালদোর ধারেকাছে নেই কেউ। ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে ৫৩ কোটি মানুষ তাঁকে অনুসরণ করেন। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামেই অনুসারী বেশি তাঁর। ইনস্টাগ্রামে ২৯ কোটি ৮০ লাখ ব্যবহারকারী রোনালদোর প্রতিটি নতুন পোস্টের অপেক্ষায় থাকেন। আর ইনস্টাগ্রামের অনুসারীসংখ্যা রোনালদোর জন্য অনেক বড় আয়ের উৎস। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে ইনস্টাগ্রামে পণ্যের দূতিয়ালি করার জন্য প্রতি পোস্ট বাবদ ৯ লাখ ৭৫ হাজার ডলার আয় করতে পারেন রোনালদো।

২০১৯ সালে নাকি বছরে ইনস্টাগ্রাম থেকে তাঁর আয় ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলার ছিল। তখন রোনালদোর অনুসারী ছিল ১৭ কোটি ৭০ লাখের মতো। এখন আরও ১২ কোটি অনুসারী বেড়েছে। ফলে পণ্য দূতিয়ালির বাজারে রোনালদো অনেক বড় ভূমিকা রাখেন।

রোনালদো কাণ্ডে এভাবেই কোকাকোলার দম কমে যায়। ছবি: টুইটার

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগাল-হাঙ্গেরির ম্যাচের আধা ঘণ্টা আগে ইউরোপে শেয়ারবাজার খোলে। সেসময় কোকাকোলার শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৫৬.১০ ডলার করে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে বড় ধরনের দরপতন। যখন ফেরেঙ্ক পুসকাস স্টেডিয়ামে পর্তুগাল-হাঙ্গেরির ম্যাচ শুরু হয়, তখন কোকাকোলার শেয়ারের দাম কমে হয় ৫৫.২২ ডলার।

স্বাস্থ্য সচেতন রোনালদো অবশ্য এর আগেও কোকাকোলার বিপক্ষে কথা বলেছিলেন। সেটা একটু অন্যভাবে। নিজের ছেলেকে কীভাবে শাসন করেন, সে প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে কড়া শাসনে রাখি। মাঝেমধ্যে সে কোক বা ফান্টা খায়, চিপসও খায়। সে জানে আমি এটা পছন্দ করি না।’

৩৬ বছরেও তরুণদের মতো শরীরী গঠন ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেন রোনালদো। আর সে জন্য অতিথিদেরও ভুগতে হয় তাঁর বাসায়। এ নিয়ে প্যাট্রিক এভরা একবার বলেছিলেন, ‘তার বাসায় গিয়েছিলাম ক্ষুধা নিয়ে। কিন্তু খাবার টেবিলে দেখলাম শুধু একটা সালাদ, মুরগির বুকের মাংস আর পানি। কোনো পানীয় নেই!’

পর্তুগাল-হাঙ্গেরির ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনের টেবিল থেকে কোকাকোলার বোতল দূরে সরিয়ে পানির বোতল তুলে ধরেন পর্তুগিজ অধিনায়ক রোনালদো। 

২০২০ ইউরোর অফিসিয়াল স্পন্সর কোকাকোলা। তবে পর্তুগাল-হাঙ্গেরির ম্যাচের আগে সোমবার অবাক করা এ কাণ্ড ঘটান পর্তুগিজ অধিনায়ক রোনালদো। সংবাদ সম্মেলনে কক্ষে গিয়ে টেবিল থেকে কোকাকোলার বোতল দূরে সরিয়ে রাখেন তিনি। এরপর পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা একটি পানির বোতল সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন। ইঙ্গিতটা ছিল পরিষ্কার। কোমল পানীয় নয়, পানি খাওয়ার তাগিদ দেন সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রোনালদোর এক কথায় কোকাকোলার মাথায় হাত

প্রকাশিত সময় : ০৭:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কোকাকোলার বোতল সরিয়ে পানি খাওয়ার আহ্বানে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বেশ বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি। শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় প্রায় চারশ কোটি ডলার (বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা) হারিয়েছে তারা। মঙ্গলবার (১৫ জুন) ক্রীড়া বিষয়ক স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা কোকাকোলার শেয়ার ধসের খবরটি জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীসংখ্যায় রোনালদোর ধারেকাছে নেই কেউ। ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে ৫৩ কোটি মানুষ তাঁকে অনুসরণ করেন। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামেই অনুসারী বেশি তাঁর। ইনস্টাগ্রামে ২৯ কোটি ৮০ লাখ ব্যবহারকারী রোনালদোর প্রতিটি নতুন পোস্টের অপেক্ষায় থাকেন। আর ইনস্টাগ্রামের অনুসারীসংখ্যা রোনালদোর জন্য অনেক বড় আয়ের উৎস। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে ইনস্টাগ্রামে পণ্যের দূতিয়ালি করার জন্য প্রতি পোস্ট বাবদ ৯ লাখ ৭৫ হাজার ডলার আয় করতে পারেন রোনালদো।

২০১৯ সালে নাকি বছরে ইনস্টাগ্রাম থেকে তাঁর আয় ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলার ছিল। তখন রোনালদোর অনুসারী ছিল ১৭ কোটি ৭০ লাখের মতো। এখন আরও ১২ কোটি অনুসারী বেড়েছে। ফলে পণ্য দূতিয়ালির বাজারে রোনালদো অনেক বড় ভূমিকা রাখেন।

রোনালদো কাণ্ডে এভাবেই কোকাকোলার দম কমে যায়। ছবি: টুইটার

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগাল-হাঙ্গেরির ম্যাচের আধা ঘণ্টা আগে ইউরোপে শেয়ারবাজার খোলে। সেসময় কোকাকোলার শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৫৬.১০ ডলার করে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে বড় ধরনের দরপতন। যখন ফেরেঙ্ক পুসকাস স্টেডিয়ামে পর্তুগাল-হাঙ্গেরির ম্যাচ শুরু হয়, তখন কোকাকোলার শেয়ারের দাম কমে হয় ৫৫.২২ ডলার।

স্বাস্থ্য সচেতন রোনালদো অবশ্য এর আগেও কোকাকোলার বিপক্ষে কথা বলেছিলেন। সেটা একটু অন্যভাবে। নিজের ছেলেকে কীভাবে শাসন করেন, সে প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে কড়া শাসনে রাখি। মাঝেমধ্যে সে কোক বা ফান্টা খায়, চিপসও খায়। সে জানে আমি এটা পছন্দ করি না।’

৩৬ বছরেও তরুণদের মতো শরীরী গঠন ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেন রোনালদো। আর সে জন্য অতিথিদেরও ভুগতে হয় তাঁর বাসায়। এ নিয়ে প্যাট্রিক এভরা একবার বলেছিলেন, ‘তার বাসায় গিয়েছিলাম ক্ষুধা নিয়ে। কিন্তু খাবার টেবিলে দেখলাম শুধু একটা সালাদ, মুরগির বুকের মাংস আর পানি। কোনো পানীয় নেই!’

পর্তুগাল-হাঙ্গেরির ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনের টেবিল থেকে কোকাকোলার বোতল দূরে সরিয়ে পানির বোতল তুলে ধরেন পর্তুগিজ অধিনায়ক রোনালদো। 

২০২০ ইউরোর অফিসিয়াল স্পন্সর কোকাকোলা। তবে পর্তুগাল-হাঙ্গেরির ম্যাচের আগে সোমবার অবাক করা এ কাণ্ড ঘটান পর্তুগিজ অধিনায়ক রোনালদো। সংবাদ সম্মেলনে কক্ষে গিয়ে টেবিল থেকে কোকাকোলার বোতল দূরে সরিয়ে রাখেন তিনি। এরপর পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা একটি পানির বোতল সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন। ইঙ্গিতটা ছিল পরিষ্কার। কোমল পানীয় নয়, পানি খাওয়ার তাগিদ দেন সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার।