রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি

মধ্য ত্রিশ পার করলেন লিওনেল মেসি। অনেকের কাছে তিনি গোট, মানে সর্বকালের সেরা। বিশ্ব ফুটবলের আইকন। আজ তার ৩৫তম জন্মদিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসছেন মেসি।

জিমি পল নামে একজনের টুইট, ‘ফুটবলের ঈশ্বর। শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি।’ইতালির সাবেক ফুটবলার ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরি একবার বলেছিলেন, ‘মেসি একজন জাদুকর। ফুটবলের হ্যারি পটার। যেদিন সে খেলা বন্ধ করবে আমি আমার টিভি ছুড়ে ফেলবো। আমি আর টিভিতে কাজ করবো না। নেটফ্লিক্স দেখবো। কারণ সে যখন খেলা বন্ধ করবে তখন আর দেখার কিছু নেই।’ ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে হুট করে স্প্যানিশ জায়ান্ট এফসি বার্সেলোনায় পা পড়ে তার। নাটকীয়ভাবেই চুক্তিটা হয়েছিল ন্যাপকিন পেপারে। তারপরের গল্প আর অজানা নয়। একের পর এক রেকর্ড তার পায়ে লুটিয়ে পড়েছে।

২০০৯-১০ মৌসুমের কথাই ধরুন। সাবেক বার্সা তারকা ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে গোল্ডেন বুট, পিচিচি ট্রফি ও ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। ট্রফি খচিত ক্যারিয়ারে সম্মানজনক গোল্ডেন শু পেয়েছেন ছয়বার। তার চেয়ে বেশি এই স্বীকৃতি পায়নি আর কেউ।  ২০১২ সালে এক বর্ষপঞ্জিকায় সর্বোচ্চ ৯১ গোলের রেকর্ডও তার। সবচেয়ে বেশি আটটি পিচিচি ট্রফিও তার।

বার্সার সঙ্গে ১০টি লা লিগা, ৮টি স্প্যানিশ সুপার কাপ, ৭টি কোপা দেল রে, ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ, তিনটি ক্লাব বিশ্বকাপ ও তিনটি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ জিতেছেন মেসি। একই ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি কাতালানদের জার্সিতে ৬৭২ গোল করে। 

এত এত রেকর্ড যখন ভেঙে চুরমার, তখনও মেসির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সন্দেহ ছিল কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি না জেতার কারণে। সেটাও দূর করে দেন গত বছর কোপা আমেরিকা জিতে। আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘুচে যায় তার হাত ধরে। এখানেই শেষ নয়। মেসি এতটাই অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন আর্জেন্টিনাকে যে, এবারের কাতার বিশ্বকাপের হট ফেভারিট তারা। ২০১৪ সালে একটুর জন্য ছোঁয়া হয়নি অধরা ট্রফিটা। এবার অনুপ্রাণিত আর্জেন্টিনাকে সোনালি ট্রফি এনে দিতে পারবেন তো মেসি!

কোপায় যেভাবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই একই ধারাবাহিকতায় চললে হয়তো এই একমাত্র অপ্রাপ্তিও প্রাপ্তিতে গিয়ে ঠেকবে। এই তো চলতি মাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করা প্রথম ফুটবলার হন মেসি। এস্তোনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৫-০ গোলের জয়ে সব গোল করেন তিনি। টানা ৩৩ ম্যাচ অজেয় থাকার রেকর্ড তাদের।

যদিও পিএসজিতে প্রথম মৌসুমে ফর্মে ছিলেন না মেসি। কিন্তু তিনি বলে দিয়েছেন, সামনে ভালো কিছু আসছে। ক্লাব প্রেসিডেন্ট নাসের আল খেলাইফিরও বিশ্বাস, সামনের মৌসুমে মেসির সর্বকালের সেরা রূপ দেখা যাবে। বোঝাই যাচ্ছে- নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন নিয়ে ৩৫তম জন্মদিন পালন করছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। শুভ জন্মদিন লিও মেসি!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি

প্রকাশিত সময় : ০৩:৪৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুন ২০২২

মধ্য ত্রিশ পার করলেন লিওনেল মেসি। অনেকের কাছে তিনি গোট, মানে সর্বকালের সেরা। বিশ্ব ফুটবলের আইকন। আজ তার ৩৫তম জন্মদিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসছেন মেসি।

জিমি পল নামে একজনের টুইট, ‘ফুটবলের ঈশ্বর। শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি।’ইতালির সাবেক ফুটবলার ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরি একবার বলেছিলেন, ‘মেসি একজন জাদুকর। ফুটবলের হ্যারি পটার। যেদিন সে খেলা বন্ধ করবে আমি আমার টিভি ছুড়ে ফেলবো। আমি আর টিভিতে কাজ করবো না। নেটফ্লিক্স দেখবো। কারণ সে যখন খেলা বন্ধ করবে তখন আর দেখার কিছু নেই।’ ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে হুট করে স্প্যানিশ জায়ান্ট এফসি বার্সেলোনায় পা পড়ে তার। নাটকীয়ভাবেই চুক্তিটা হয়েছিল ন্যাপকিন পেপারে। তারপরের গল্প আর অজানা নয়। একের পর এক রেকর্ড তার পায়ে লুটিয়ে পড়েছে।

২০০৯-১০ মৌসুমের কথাই ধরুন। সাবেক বার্সা তারকা ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে গোল্ডেন বুট, পিচিচি ট্রফি ও ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। ট্রফি খচিত ক্যারিয়ারে সম্মানজনক গোল্ডেন শু পেয়েছেন ছয়বার। তার চেয়ে বেশি এই স্বীকৃতি পায়নি আর কেউ।  ২০১২ সালে এক বর্ষপঞ্জিকায় সর্বোচ্চ ৯১ গোলের রেকর্ডও তার। সবচেয়ে বেশি আটটি পিচিচি ট্রফিও তার।

বার্সার সঙ্গে ১০টি লা লিগা, ৮টি স্প্যানিশ সুপার কাপ, ৭টি কোপা দেল রে, ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ, তিনটি ক্লাব বিশ্বকাপ ও তিনটি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ জিতেছেন মেসি। একই ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি কাতালানদের জার্সিতে ৬৭২ গোল করে। 

এত এত রেকর্ড যখন ভেঙে চুরমার, তখনও মেসির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সন্দেহ ছিল কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি না জেতার কারণে। সেটাও দূর করে দেন গত বছর কোপা আমেরিকা জিতে। আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘুচে যায় তার হাত ধরে। এখানেই শেষ নয়। মেসি এতটাই অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন আর্জেন্টিনাকে যে, এবারের কাতার বিশ্বকাপের হট ফেভারিট তারা। ২০১৪ সালে একটুর জন্য ছোঁয়া হয়নি অধরা ট্রফিটা। এবার অনুপ্রাণিত আর্জেন্টিনাকে সোনালি ট্রফি এনে দিতে পারবেন তো মেসি!

কোপায় যেভাবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই একই ধারাবাহিকতায় চললে হয়তো এই একমাত্র অপ্রাপ্তিও প্রাপ্তিতে গিয়ে ঠেকবে। এই তো চলতি মাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করা প্রথম ফুটবলার হন মেসি। এস্তোনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৫-০ গোলের জয়ে সব গোল করেন তিনি। টানা ৩৩ ম্যাচ অজেয় থাকার রেকর্ড তাদের।

যদিও পিএসজিতে প্রথম মৌসুমে ফর্মে ছিলেন না মেসি। কিন্তু তিনি বলে দিয়েছেন, সামনে ভালো কিছু আসছে। ক্লাব প্রেসিডেন্ট নাসের আল খেলাইফিরও বিশ্বাস, সামনের মৌসুমে মেসির সর্বকালের সেরা রূপ দেখা যাবে। বোঝাই যাচ্ছে- নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন নিয়ে ৩৫তম জন্মদিন পালন করছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। শুভ জন্মদিন লিও মেসি!