রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন 

দেশে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি ও জনগনকে  আরও সচেতন ও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ। এই আয়োজন চলবে আগামী ৭দিনব্যাপী। এ বছরের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”।

 ২৩ জুলাই (শনিবার) সকালে  জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জেলা  মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানিয়া সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য কর্মকর্তা বলেন মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে পৃথিবীর অন্যতম ৪ টি দেশের একটি বাংলাদেশ । সরকারের বাস্তবমুখী কার্যক্রমের ফলে বাংলাদেশ  এখন মাছ ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করেছে। মৎস্যজাত  উৎস থেকে প্রানীজ আমিষের চাহিদা পূরণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট  পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ২০২১-২২ অর্থবছরে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রায় ৪৬৬.৪০ মেট্রিক টন  মাছ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে যার আর্থিক মূল্য ছিল ৮ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে জেলা মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা বলেন  জেলার হাওরাঞ্চলের বিলগুলোতে  যাতে অবাধে মা ও পোনা শিকার করতে না পারে সেজন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।  যাতে অবৈধ জাল ব্যবহার করে পোনা মাছ না ধরতে পারে সে ব্যাপার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষীদের ক্ষতিপূরণের জন্যও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  তিনি বলেন মাছের নিরাপদ বংশবিস্তারের লক্ষে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়  বিলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হবে  এবং প্রান্তিক জেলেরা যাতে জীবিকার উৎস হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য তাদেরকেও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

এ বছর মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ ও  উন্নয়নের লক্ষে জেলা মৎস্য সম্পদ অধিদপ্তর ৭ দিনব্যাপী যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তা হলো প্রথম দিন শনিবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাট বাজারে মাইকিং এর মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা। ২য় দিন রবিবার -পোনামাছ অবমুক্ত করণ,ব্যানার পোস্টার সহযোগে সড়ক র‍্যালি,উদ্বোধনী অনুস্টান ও আলোচনা সভা, স্থানীয় পর্যায়ের সফল মৎস্যচাষীদেরকে মৎস্য পুরস্কার প্রদান করা ও মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্য বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন।

৩য় দিন সোমবার –  প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবিদের  সাথে মত বিনিময়। ৪র্থ দিন মঙ্গলবার- অবৈধ জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট/অভিযান পরিচালনা । ৫ম দিন বুধবার-উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাছ চাষীদের মাছ চাষ বিষয়ক বিশেষ পরামর্শ সেবা প্রদান, পুকুরের মাটি ও পানি পরিক্ষা ও মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্য বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন।  ৬ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার- সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ /বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ। ৭ম দিন শুক্রবারে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের মূল্যায়ন ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মৌলভীবাজারে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন 

প্রকাশিত সময় : ১০:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ জুলাই ২০২২

দেশে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি ও জনগনকে  আরও সচেতন ও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ। এই আয়োজন চলবে আগামী ৭দিনব্যাপী। এ বছরের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”।

 ২৩ জুলাই (শনিবার) সকালে  জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জেলা  মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানিয়া সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য কর্মকর্তা বলেন মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে পৃথিবীর অন্যতম ৪ টি দেশের একটি বাংলাদেশ । সরকারের বাস্তবমুখী কার্যক্রমের ফলে বাংলাদেশ  এখন মাছ ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করেছে। মৎস্যজাত  উৎস থেকে প্রানীজ আমিষের চাহিদা পূরণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট  পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ২০২১-২২ অর্থবছরে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রায় ৪৬৬.৪০ মেট্রিক টন  মাছ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে যার আর্থিক মূল্য ছিল ৮ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে জেলা মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা বলেন  জেলার হাওরাঞ্চলের বিলগুলোতে  যাতে অবাধে মা ও পোনা শিকার করতে না পারে সেজন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।  যাতে অবৈধ জাল ব্যবহার করে পোনা মাছ না ধরতে পারে সে ব্যাপার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষীদের ক্ষতিপূরণের জন্যও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  তিনি বলেন মাছের নিরাপদ বংশবিস্তারের লক্ষে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়  বিলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হবে  এবং প্রান্তিক জেলেরা যাতে জীবিকার উৎস হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য তাদেরকেও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

এ বছর মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ ও  উন্নয়নের লক্ষে জেলা মৎস্য সম্পদ অধিদপ্তর ৭ দিনব্যাপী যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তা হলো প্রথম দিন শনিবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাট বাজারে মাইকিং এর মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা। ২য় দিন রবিবার -পোনামাছ অবমুক্ত করণ,ব্যানার পোস্টার সহযোগে সড়ক র‍্যালি,উদ্বোধনী অনুস্টান ও আলোচনা সভা, স্থানীয় পর্যায়ের সফল মৎস্যচাষীদেরকে মৎস্য পুরস্কার প্রদান করা ও মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্য বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন।

৩য় দিন সোমবার –  প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবিদের  সাথে মত বিনিময়। ৪র্থ দিন মঙ্গলবার- অবৈধ জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট/অভিযান পরিচালনা । ৫ম দিন বুধবার-উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাছ চাষীদের মাছ চাষ বিষয়ক বিশেষ পরামর্শ সেবা প্রদান, পুকুরের মাটি ও পানি পরিক্ষা ও মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্য বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন।  ৬ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার- সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ /বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ। ৭ম দিন শুক্রবারে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের মূল্যায়ন ও সমাপনী অনুষ্ঠান।