সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে জিতে বেশ ফুরফুরে ছিল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। একই সঙ্গে সিরিজ জয়ের আনন্দ স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ ছিল সিকান্দার রাজাদের সামনে। তবে তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ, অভিষিক্ত পেসার ইবাদত হোসেনের দাপুটে বোলিংয়ের সঙ্গে মিরাজ ও তাইজুলের ঘূর্ণিতে স্বপ্নকে আর সত্যিতে বাস্তবায়ন করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংয়ে আজ বুধবার (১০ আগস্ট) দুই ব্যাটার দলের স্কোরবোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ রান সংগ্রহ করলেও বল হাতে প্রত্যেকেই জ¦লে উঠেন আপন শক্তিতে। ১৫১ রানেই গুটিয়ে ফেলেছে স্বাগতিকদের। ১০৫ রানের বড় জয় পেয়ে সফর শেষ করে টাইগাররা।হারারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন আফিফ হোসেন

জিম্বাবুয়ে সফরে এটি টাইগারদের দ্বিতীয় জয়। নিজেদের ৪০০তম ওয়ানডে ম্যাচে আজ জয়ের বিকল্প ছিলো না টাইগারদের। কেননা আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দাপুটে সিরিজ জয়ের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রায় হোয়াইটওয়াশ হতে বসছিল তামিম ইকবালরা। সিরিজ জয়ে বোলাররা অবদান রাখতে ব্যর্থ হলেও হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বেশ কার্যকরী অবদান রেখেছেন প্রত্যেকে। বল হাতে প্রথম ওভারে সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ। এরপর দ্বিতীয় ওভারে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্ট্যাম্প ছেড়ে লম্বা শট খেলতে বেরিয়ে আসা মারুমানিকে বোল্ড করেন মিরাজ। এরপর ষষ্ঠ ওভারে গিয়ে পরপর দুই বলে জোড় আঘাত হানেন অভিষিক্ত ইবাদত হোসেন। মাঠে নামার আগে মোস্তাফিজের হাতে অভিষেক ক্যাপ পড়েন ইবাদত। এই ইবাদতের বাউন্সে পরাস্ত হয়ে মাধেভেরে ক্যাচ তুলে দেন মিরাজের হাতে। পরের বলেই গত দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের জয়ের নায়ক সিকান্দার রাজাকে বোল্ড করেন ইবাদত। অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করলেও শেষপর্যন্ত হ্যাটট্রিক করতে পারেননি তিনি। এরপর ইনোসেন্ট কাইয়াকে লেগ বিফোরে ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। ষষ্ঠ উইকেটে টনি মুনিঙ্গাকেও স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। এরপর শেষ ৪ উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে লুকি জঙ্গিকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খুলেন তিনি। ২৩তম ওভারের তৃতীয় ও শেষ বলে সাজঘরে ফেরান মাদান্দি ও ব্রড ইভান্সকে। ৮৩ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে শেষ উইকেটে ৬৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রিচার্ড এনগারাভা ও ভিক্টর নৌচি। শেষ পর্যন্ত ১৫১ রানের মাথায় ভিক্টর নৌচিকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন রিচার্ড এগারাভা। টাইগারদের হয়ে ৪ উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমান, ২টি করে পান ইবাদত হোসেন ও তাইজুল ইসলাম এবং একটি করে পান হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের হোয়াইটওয়াশ এড়াতে আজ স্বাগতিকদের মাত্র ২৫৭ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আজ বুধবার টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটের বিনিময়ে ২৫৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয় বেশ দেখেশুনে শুরু করেছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত রান আউটের ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল। এরপর এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেন এই দুই ব্যাটারে কল্যাণে স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহ অর্জন করতে পেরেছে। এনামুল হক বিজয় ৬ চার ও ৪ ছক্কার সাহায্যে ৭১ বলে ৭৬ রান করেছেন। এছাড়া আফিফ হোসেন ৬ চার ও ২ ছক্কার সাহায্যে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া তামিম ইকবাল ১৯, মাহমুদউল্লাহ ৩৯, তাইজুল ইসলাম ৫ রান করেন। নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজু রহমান ও এবাদত হোসেন রানের খাতাই খুলতে পারেননি। স্বাগতিক বোলারদের মধ্যে ২টি করে উইকেট পেয়েছেন ব্রড ইভান্স ও লুকি জঙ্গি। এছাড়া একটি করে উইকেট পেয়েছেন রিচার্ড এনগারাভা ও সিকান্দার রাজা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল বাংলাদেশ

প্রকাশিত সময় : ১০:২৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে জিতে বেশ ফুরফুরে ছিল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। একই সঙ্গে সিরিজ জয়ের আনন্দ স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ ছিল সিকান্দার রাজাদের সামনে। তবে তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ, অভিষিক্ত পেসার ইবাদত হোসেনের দাপুটে বোলিংয়ের সঙ্গে মিরাজ ও তাইজুলের ঘূর্ণিতে স্বপ্নকে আর সত্যিতে বাস্তবায়ন করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংয়ে আজ বুধবার (১০ আগস্ট) দুই ব্যাটার দলের স্কোরবোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ রান সংগ্রহ করলেও বল হাতে প্রত্যেকেই জ¦লে উঠেন আপন শক্তিতে। ১৫১ রানেই গুটিয়ে ফেলেছে স্বাগতিকদের। ১০৫ রানের বড় জয় পেয়ে সফর শেষ করে টাইগাররা।হারারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন আফিফ হোসেন

জিম্বাবুয়ে সফরে এটি টাইগারদের দ্বিতীয় জয়। নিজেদের ৪০০তম ওয়ানডে ম্যাচে আজ জয়ের বিকল্প ছিলো না টাইগারদের। কেননা আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দাপুটে সিরিজ জয়ের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রায় হোয়াইটওয়াশ হতে বসছিল তামিম ইকবালরা। সিরিজ জয়ে বোলাররা অবদান রাখতে ব্যর্থ হলেও হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বেশ কার্যকরী অবদান রেখেছেন প্রত্যেকে। বল হাতে প্রথম ওভারে সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ। এরপর দ্বিতীয় ওভারে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্ট্যাম্প ছেড়ে লম্বা শট খেলতে বেরিয়ে আসা মারুমানিকে বোল্ড করেন মিরাজ। এরপর ষষ্ঠ ওভারে গিয়ে পরপর দুই বলে জোড় আঘাত হানেন অভিষিক্ত ইবাদত হোসেন। মাঠে নামার আগে মোস্তাফিজের হাতে অভিষেক ক্যাপ পড়েন ইবাদত। এই ইবাদতের বাউন্সে পরাস্ত হয়ে মাধেভেরে ক্যাচ তুলে দেন মিরাজের হাতে। পরের বলেই গত দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের জয়ের নায়ক সিকান্দার রাজাকে বোল্ড করেন ইবাদত। অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করলেও শেষপর্যন্ত হ্যাটট্রিক করতে পারেননি তিনি। এরপর ইনোসেন্ট কাইয়াকে লেগ বিফোরে ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। ষষ্ঠ উইকেটে টনি মুনিঙ্গাকেও স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। এরপর শেষ ৪ উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে লুকি জঙ্গিকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খুলেন তিনি। ২৩তম ওভারের তৃতীয় ও শেষ বলে সাজঘরে ফেরান মাদান্দি ও ব্রড ইভান্সকে। ৮৩ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে শেষ উইকেটে ৬৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রিচার্ড এনগারাভা ও ভিক্টর নৌচি। শেষ পর্যন্ত ১৫১ রানের মাথায় ভিক্টর নৌচিকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন রিচার্ড এগারাভা। টাইগারদের হয়ে ৪ উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমান, ২টি করে পান ইবাদত হোসেন ও তাইজুল ইসলাম এবং একটি করে পান হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের হোয়াইটওয়াশ এড়াতে আজ স্বাগতিকদের মাত্র ২৫৭ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আজ বুধবার টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটের বিনিময়ে ২৫৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয় বেশ দেখেশুনে শুরু করেছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত রান আউটের ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল। এরপর এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেন এই দুই ব্যাটারে কল্যাণে স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহ অর্জন করতে পেরেছে। এনামুল হক বিজয় ৬ চার ও ৪ ছক্কার সাহায্যে ৭১ বলে ৭৬ রান করেছেন। এছাড়া আফিফ হোসেন ৬ চার ও ২ ছক্কার সাহায্যে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া তামিম ইকবাল ১৯, মাহমুদউল্লাহ ৩৯, তাইজুল ইসলাম ৫ রান করেন। নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজু রহমান ও এবাদত হোসেন রানের খাতাই খুলতে পারেননি। স্বাগতিক বোলারদের মধ্যে ২টি করে উইকেট পেয়েছেন ব্রড ইভান্স ও লুকি জঙ্গি। এছাড়া একটি করে উইকেট পেয়েছেন রিচার্ড এনগারাভা ও সিকান্দার রাজা।