চাপের মুখে দারুণ বোলিং করেন আর্শদ্বীপ সিং। প্রথম চার বলে দেন মাত্র ৫। এমন মুহূর্তে পঞ্চম বলটি ব্যাটে লাগাতে পারেননি শানাকা, তবে রানের জন্য দৌড় ঠিকই দেন। উইকেটরক্ষক রিশাভ পান্ত বল হাতে নিয়ে ননস্ট্রাইকে থ্রো করেন। সেখান থেকে আরও এক রান বাই। বাই ২ রান নিয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটিতে জয়ের উল্লাসে মাতে লঙ্কানরা।
লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না, আবার সহজও না। তাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন কুশল ম্যান্ডিস ও পাথুম নিশাঙ্কা। তাদের দারুণ উদ্বোধনী জুটির পরেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ভারত। তবে বাঁচামরার লড়াইয়ে শেষ রক্ষা হয়নি। ৬ উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাদের। শুধু তাই নয়, এশিয়া কাপ থেকেও বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে। এখন ফাইনালের আশা শুধুই কাগজে কলমে।
১৭৪ রানে লক্ষ্যে খেলতে নামা প্রথম দুই ওভারে দেখেশুনে শুরু করেন লঙ্কান দুই ওপেনার কুশল মেন্ডিস আর পাথুম নিশাংকা। তোলেন মাত্র ৮ রান। তবে কিছুটা সেট হয়েই তাণ্ডব শুরু করেন তারা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে শ্রীলঙ্কা বিনা উইকেটে তোলে ৫৭ রান। জুটিটা টিকেছে ১১ ওভার পর্যন্ত। ১২তম ওভারে ভারতীয় সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান ইয়ুজবেন্দ্র চাহাল। জোড়া উইকেট তুলে নেন ৪ বলের মধ্যে।
মেন্ডিস-নিশাংকার ৬৭ বলে ৯৭ রানের ঝোড়ো জুটিটি ভাঙে ওভারের প্রথম বলেই। ফিফটি হাঁকানোর পরই রিভার্স সুইপ করতে যান নিশাংকা, ধরা পড়েন রোহিতের হাতে। ৩৭ বলে ৪ চার আর ২ ছক্কায় নিশাংকা করেন ৫২। এর দুই বল পর সুইপ করতে গিয়ে টপএজ হন নতুন ব্যাটার চারিথা আসালাঙ্কা (০)। বিনা উইকেট থেকে ৯৭ রানে ২ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর দানুশকা গুনাথিলাকাও সুবিধা করতে পারেননি। ৬ বল খেলে মাত্র ১ রান করে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের শিকার হন তিনি।
পরের ওভারে চাহাল ফেরান সেট ব্যাটার কুশল মেন্ডিসকে। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তিনি এলবিডব্লিউ করেন কুশলকে। ৩৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৫৭ রানে সাজঘরে ফেরেন লঙ্কান ওপেনার। শ্রীলংকা দুই ওপেনার যেভাবে শুরু করেন, তাতে ভারত পাত্তাই পাচ্ছিল না। ৯৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে সহজ জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কিন্তু সেখান থেকে ১৩ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় পড়ে শ্রীলঙ্কা।
তবে ভানুকা রাজাপাকসে আর দাসুন শানাকা পঞ্চম উইকেটে ৩৪ বলে ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। শানাকা ১৮ বলে ৩৩ আর রাজাপাকসে ১৭ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
নিশাঙ্কা ও ম্যান্ডিসের ৯৭ রানের উদ্বোধনী জুটি জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে দেয় শ্রীলংকাকে। এই জুটি ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনীতে সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে শ্রীলংকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। এর আগে ২০০৯ সালে সানাথ জয়সুরিয়া ও তিলকেরত্নে দিলশানের ১২১ রানের জুটিটি এখনও সর্বোচ্চ।
শেষ ৬ ওভারে শ্রীলংকার প্রয়োজন ছিল ৬৪। টানা দুই ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে লড়াই বাঁচিয়ে রাখেন ভানুকা রাজাপাকসে। তিন ওভারে ৩৩ যখন দরকার, শানাকা হাঁকান একটি ছক্কা। ফলে শেষ ১২ বলে শ্রীলংকা জয়ের জন্য লাগে ২১ রান। ১৯তম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারকে তৃতীয় আর চতুর্থ বলে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন লঙ্কান অধিনায়ক শানাকা। শেষ ওভারে থাকে ৭ রান।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























