গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে গোপন কক্ষে ‘ডাকাতের’ উপস্থিতি দেখে ভোট বন্ধ করে দেয়ার ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে নির্বাচনি এলাকায়।
সিইসি ভোট বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানোর ঘণ্টা দেড়েক পর বিকেল ৪টার দিকে সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা-বোনারপাড়া সড়কের চৌমাথা মোড়ে অবস্থান নেয় নেতা-কর্মীরা। সেখানে তারা প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান নেন। এরপর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয় সবাই।
এ ছাড়া বেশ কিছু স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও প্রতিবাদ করেন নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন সব যাচাই বাছাই না করে অতি নিরপেক্ষতা দেখাতে গিয়ে ভোট বন্ধ করে দিয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলাতেও বিক্ষোভ করেন নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ভোট বন্ধ করাটা মেনে নেয়া যায় না। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত ছিল।’
তিনি বলেন, সাধারণ ভোটারসহ নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ চলছে। এ নিয়ে পরবর্তীতে আমরা কর্মসূচি দেব।’
ভোট বন্ধে সিইসির শাস্তির দাবিতে আ.লীগের বিক্ষোভ ভোট বন্ধের প্রতিবাদে সাঘাটা-বোনারপাড়া সড়কের চৌমাথা মোড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অবস্থান
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এই আসনের উপনির্বাচনটির দিকে দৃষ্টি ছিল এই কারণে যে, গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম কোনো সংসদীয় আসনে ভোটের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশন অনিয়ম হলে ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে, এই ঘোষণা আগেই ছিল। বর্তমান কমিশনের অধীনে প্রথম ভোট হয় গত ১৫ জুন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদে সেই ভোটের আগে আগে বেশ কিছু এলাকায় নির্বাচন স্থগিত করা হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বা তাদের সমর্থকদের আচরণে। তবে ভোট চলার দিন নির্বাচন স্থগিত করার ঘটনা এই প্রথম ঘটল।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে এই ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























