এবার সরাসরি সুপার টুয়েলভ খেলতে নামা বাংলাদেশ গতবার খেলেছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গিয়েছিল টাইগাররা। তাতে বাছাইপর্ব উৎরানো নিয়েও বেঁধেছিল ঘোর সংশয়। এবারও সেই স্কটল্যান্ড খেলছে বাছাইপর্ব। সবশেষ বিশ্বকাপের পর মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছে তারা। দুটোতেই হেরেছে। ফের নামছে বিশ্বকাপ মিশনে। এবার তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছে বুকের ভেতর এক আগুন নিয়ে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দলটি যে তারাই। ২০১২ ও ২০১৬ সালের শিরোপা গেছে তাদের ঘরেই। দুটো বিশ্বকাপের আসর বসেছিল উপমহাদেশে। শ্রীলংকা ও ভারত স্বাগতিক থাকা স্বত্ত্বেও ডেরেন সামির নেতৃত্বধীন ক্যারিবীয়নরা স্বাদ পায় বিশ্ব জয়ের।
অথচ সেই দলকেই কিনা বিশ্বকাপের মূল পর্ব খেলতে হবে বাছাইপর্ব পেরিয়ে এসে। যে আগুন নিয়ে গতকাল খেলতে নেমে নামিবিয়ার কাছে হেরে গেছে এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা। মূলত র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলো তাদের বিপক্ষে খেলছে টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড। অথচ এক দশক আগের বিশ্বকাপেই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলংকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়েছে সাতবার। এই সাত আসরে সবচেয়ে বেশি রান, সবচেয়ে বেশি উইকেট, টুর্নামেন্টসেরা ব্যাটিং, টুর্নামেন্টসেরা বোলিংয়ের বেশির ভাগ তালিকাতেই শীর্ষ নামগুলো এ দুই দলের।
ব্যাটিংয়ের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রান শ্রীলংকার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনের। ২০১৪ সালে শেষবার টি-টোয়েন্টি খেলা এই ব্যাটসম্যান ৩১ ম্যাচে করেছেন ১০১৬ রান। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আরও দুটি আসর পেরিয়ে গেছে, জয়াবর্ধনে এখনো শীর্ষে।
৮৯৭ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় যিনি তৃতীয়, সেই তিলকারত্নে দিলশানও শ্রীলংকান। টি-টোয়েন্টিতে লংকান ও ক্যারিবিয়ানদের দাপট কেমন ছিল বুঝতে আরেকটি তথ্যেও চোখ রাখতে পারেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৬৫ রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের। সবচেয়ে বেশি দুটি সেঞ্চুরি আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নয়টি ফিফটিও গেইলের।
সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার তালিকার তৃতীয় ও পঞ্চম স্থান দুটি দুই শ্রীলংকানের—লাসিথ মালিঙ্গার ৩৮, আর অজন্তা মেন্ডিসের ৩৫।
একক আসর হিসাব করলে সাতবারের মধ্যে দুবার সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছেন লংকান ব্যাটসম্যানরা। ২০০৯ সালে দিলশান (৩১৯ রান), ২০১০ আসরে জয়াবর্ধনে (৩০২ রান)। উইকেটেও একই সাফল্য। ২০১২ আসরের সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট নিয়েছিলেন মেন্ডিস। গত বছর হওয়া সর্বশেষ আসরে ১৬ উইকেট ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার।
ব্যক্তিগত এসব অর্জনে ভর করে শ্রীলংকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেয়েছিল দলগত সাফল্য। তিনবার ফাইনাল খেলে একবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া লংকানরা ৪৩ ম্যাচ খেলে জিতেছে ২৭টিতে। ৩৬ ম্যাচ খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ১৮টিতে, আছে এক ড্র আর এক টাই।
শিরোপা লড়াইয়ে নামার আগে আপাতত ‘ছোট’দের সঙ্গে লড়তে হবে দুটি দলকেই। গ্রুপ ‘এ’তে শ্রীলংকার প্রতিপক্ষ নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। গ্রুপ ‘বি’তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলবে স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সফল দুই দলের একটি শ্রীলংকা বুকের আগুন মাঠে পারফরম্যান্সে দেখাতে পারেনি। উল্টো সেই আগুন তারাই পুড়ে ছাড়খাড় হয়েছে। নামিবিয়ার সঙ্গে তারা হেরে গেছে ৫৫ রানের ব্যবধানে। এবার সেই একই আগুন নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যে আগুন পারফরম্যান্সেও দেখার অপেক্ষায়।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























