মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেসিকে বলেছি, আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই বিশ্বকাপ জিতব: নেইমার

দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপ। নিজেদের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে দলগুলো। বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও শক্তিরও জানান দিচ্ছে ফেভারিটরা। যার মধ্যে রয়েছেন ব্রাজিল তারকা নেইমারও। কাতার বিশ্বকাপে নিজের দল নিয়ে বেশ ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেছেন, এই বিশ্বকাপটা বেশ স্পেশাল হবে। শুধু তাই নয় ওই সাক্ষাৎকারে ব্রাজিল তারকা আরও বলেছেন,  ক্লাব ফুটবলে সতীর্থ তারকা মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতবে ব্রাজিল।  যদিও নেইমার যোগ করেছেন, কথাটা তিনি মজার ছলেই বলেছেন মেসিক

পিএসজির হয়ে খেলার সময় জাতীয় দল নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না তারা। কিন্তু খুনসুটি তো করাই যায়! নেইমার বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ নিয়ে খুব একটা আলোচনা করি না, তবে মাঝেমধ্যে মজা করি যে, ফাইনালে একে অপরকে গুঁড়িয়ে দেবো। আমি মেসিকে বলেছি যে, তোমাদের বিপক্ষে জিতেই আমি চ্যাম্পিয়ন হব এবং আমরা দুজনেই সেটা নিয়ে হাসাহাসি করেছি । ‘

মেসির সঙ্গে যতই মজা হোক, বিশ্বকাপে নেইমারের লক্ষ্যটা একই থাকছে। গত দুই আসরে তার ওপরই সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ব্রাজিলের। কিন্তু দুইবারই ফিরতে হয়েছে হতাশায় ডুবে। সামনে আরো একটি সুযোগ। কাতারে এবার ২১৪ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান ও বিশ্বের নানান অংশের ব্রাজিল সমর্থকদের ২০ বছরের আক্ষেপ মেটাতে চান নেইমার, ‘যেদিন থেকে ফুটবল বুঝতে শুরু করেছি সেদিন থেকেই বিশ্বকাপ আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এখন আরেকটি সুযোগ পেয়েছি, আশা করি এবার জিততে পারব। ‘

‘দুটো বিশ্বকাপই আমার কাছে স্পেশাল, কারণ একটি ব্রাজিল আয়োজন করেছে এবং অন্যটি ছিল আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। এবং আমি বিশ্বাস করি এই বিশ্বকাপও খুব স্পেশাল হবে । ২০০২ সালে যখন ব্রাজিল জিতেছিল, তখন বাবা ও পরিবারের সঙ্গে তা দেখেছিলাম। এটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ যা আমি ভালোভাবে অনুসরণ করি। ‘

নেইমার আরো যোগ করেন, ‘১৯৯৪ বিশ্বকাপের কেবল ভিডিও দেখেছি তবে আমি এখনো রোমারিওর কিছু মুহূর্ত উপভোগ করি, যাকে কিনা আমি খুব পছন্দ করি। আমার আদর্শ অনেকেই। অবশ্যই পেলে, রোনালদো, রোমারিও, কাকা, রোনালদিনহো। তারা সবাই আমার প্রিয়। ‘

ব্রাজিলের হয়ে ১২১ ম্যাচে ৭৫ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। আর তিনটি গোল করলেই কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হবেন তিনি। বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে আকার-ঈঙ্গিতের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন, এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ।’

এবারও যদি সফল না হোন, তাহলে কি ক্যারিয়ারে অপূর্ণতা থেকে যাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সজোরেই ‘না’ শব্দটি উচ্চারণ করেন নেইমার, ‘আমার ক্যারিয়ারে আমি এমন কিছু অর্জন করেছি, যা কোনোদিন কল্পনাতেও ভাবিনি। তাই যদি আজই যদি ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়, তাহলেও বলব আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ। ‘

বিশ্বকাপ সবসময়ই চমক নিয়ে আসে। সেই অপেক্ষায় আছেন নেইমারও। বললেন, ‘বিশ্বকাপ চমকে ভরপুর। এমন দল যাদের উপর খুব বেশি প্রত্যাশা থাকে না, কিন্তু তারা টুর্নামেন্টে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। তবে আমি বিশ্বাস করি আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন ও ফ্রান্স ফেভারিট। আমি মনে করি এই চার দলের সঙ্গে ব্রাজিলও ফাইনালে পৌঁছাতে পুরোপুরি সক্ষম। ‘

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মেসিকে বলেছি, আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই বিশ্বকাপ জিতব: নেইমার

প্রকাশিত সময় : ১১:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২

দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপ। নিজেদের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে দলগুলো। বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও শক্তিরও জানান দিচ্ছে ফেভারিটরা। যার মধ্যে রয়েছেন ব্রাজিল তারকা নেইমারও। কাতার বিশ্বকাপে নিজের দল নিয়ে বেশ ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেছেন, এই বিশ্বকাপটা বেশ স্পেশাল হবে। শুধু তাই নয় ওই সাক্ষাৎকারে ব্রাজিল তারকা আরও বলেছেন,  ক্লাব ফুটবলে সতীর্থ তারকা মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতবে ব্রাজিল।  যদিও নেইমার যোগ করেছেন, কথাটা তিনি মজার ছলেই বলেছেন মেসিক

পিএসজির হয়ে খেলার সময় জাতীয় দল নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না তারা। কিন্তু খুনসুটি তো করাই যায়! নেইমার বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ নিয়ে খুব একটা আলোচনা করি না, তবে মাঝেমধ্যে মজা করি যে, ফাইনালে একে অপরকে গুঁড়িয়ে দেবো। আমি মেসিকে বলেছি যে, তোমাদের বিপক্ষে জিতেই আমি চ্যাম্পিয়ন হব এবং আমরা দুজনেই সেটা নিয়ে হাসাহাসি করেছি । ‘

মেসির সঙ্গে যতই মজা হোক, বিশ্বকাপে নেইমারের লক্ষ্যটা একই থাকছে। গত দুই আসরে তার ওপরই সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ব্রাজিলের। কিন্তু দুইবারই ফিরতে হয়েছে হতাশায় ডুবে। সামনে আরো একটি সুযোগ। কাতারে এবার ২১৪ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান ও বিশ্বের নানান অংশের ব্রাজিল সমর্থকদের ২০ বছরের আক্ষেপ মেটাতে চান নেইমার, ‘যেদিন থেকে ফুটবল বুঝতে শুরু করেছি সেদিন থেকেই বিশ্বকাপ আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এখন আরেকটি সুযোগ পেয়েছি, আশা করি এবার জিততে পারব। ‘

‘দুটো বিশ্বকাপই আমার কাছে স্পেশাল, কারণ একটি ব্রাজিল আয়োজন করেছে এবং অন্যটি ছিল আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। এবং আমি বিশ্বাস করি এই বিশ্বকাপও খুব স্পেশাল হবে । ২০০২ সালে যখন ব্রাজিল জিতেছিল, তখন বাবা ও পরিবারের সঙ্গে তা দেখেছিলাম। এটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ যা আমি ভালোভাবে অনুসরণ করি। ‘

নেইমার আরো যোগ করেন, ‘১৯৯৪ বিশ্বকাপের কেবল ভিডিও দেখেছি তবে আমি এখনো রোমারিওর কিছু মুহূর্ত উপভোগ করি, যাকে কিনা আমি খুব পছন্দ করি। আমার আদর্শ অনেকেই। অবশ্যই পেলে, রোনালদো, রোমারিও, কাকা, রোনালদিনহো। তারা সবাই আমার প্রিয়। ‘

ব্রাজিলের হয়ে ১২১ ম্যাচে ৭৫ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। আর তিনটি গোল করলেই কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হবেন তিনি। বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে আকার-ঈঙ্গিতের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন, এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ।’

এবারও যদি সফল না হোন, তাহলে কি ক্যারিয়ারে অপূর্ণতা থেকে যাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সজোরেই ‘না’ শব্দটি উচ্চারণ করেন নেইমার, ‘আমার ক্যারিয়ারে আমি এমন কিছু অর্জন করেছি, যা কোনোদিন কল্পনাতেও ভাবিনি। তাই যদি আজই যদি ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়, তাহলেও বলব আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ। ‘

বিশ্বকাপ সবসময়ই চমক নিয়ে আসে। সেই অপেক্ষায় আছেন নেইমারও। বললেন, ‘বিশ্বকাপ চমকে ভরপুর। এমন দল যাদের উপর খুব বেশি প্রত্যাশা থাকে না, কিন্তু তারা টুর্নামেন্টে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। তবে আমি বিশ্বাস করি আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন ও ফ্রান্স ফেভারিট। আমি মনে করি এই চার দলের সঙ্গে ব্রাজিলও ফাইনালে পৌঁছাতে পুরোপুরি সক্ষম। ‘