শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নয়াপল্টনে একা ফখরুল, কাল সংবাদ সম্মেলন

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরুর খবর পেয়ে একপর্যায়ে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে পৌঁছান। সরাসরি তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে ডিবির সদস্যরা তাকে বাধা দেন। বারবার চেষ্টা করেও প্রবেশে ব্যর্থ হলে মির্জা ফখরুল কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে বসে পড়েন। এরপর থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই স্থানে তিনি একাই রয়েছেন। তাকে ঘিরে আছেন সাধারণ কর্মী ও সাংবাদিকরা। আশেপাশের এলাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের অবস্থান সম্পর্কে জানা গেলেও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে আসেননি। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে বুধবার দুপুরের আগে থেকেই সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয় নয়া পল্টনে। এদিন দুপুরে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন তাদের অনুসারীরা কার্যালয়ের নিচে অবস্থান করছিলেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। এসময় পুলিশের গুলিতে একজন নিহত ও শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে।

কার্যালয়ের সামনে বসে সাংবাদিকদের সামনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘পুলিশ প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে ব্যাগ নিয়ে ঢুকেছে। এগুলোতে বিস্ফোরক আছে দেখিয়ে পরে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করবে। এর থেকে খারাপ কাজ আর কিছু হতে পারে না। ডিএমপি কমিশনার আমাদের বারবার কথা দিয়েছিলেন, আমরাও বলেছিলাম শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে চাই।’

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একা থাকলেও বিএনপির মহাসচিবের পাশে কাউকে দেখা যায়নি। আশেপাশে দলের সিনিয়র নেতাদের অফিস, বাসা থাকলেও তারা কেউ আসেননি, তারা নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান অসুস্থবোধ করলে তিনি বাসার দিকে ফিরে যান।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বুধবার সন্ধ্যায় জানান, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ অন্যান্য নেতারা বিএনপির কার্যালয়ের দিকে যেতে চান। যদিও পুলিশের বাধায় তারা যেতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা অন্তত ৫০ জননেতাকর্মী বিএনপির কার্যালয়ে যেতে চাইলে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিএনপির অফিসে পুলিশের অভিযান চলছে, তাই পরে যাবেন। আমরা কাউকে অ্যালাউ করবো না।’ রাত ৭টার দিকে জুবায়ের আহমেদ জানান, বিএনপির মহাসচিব আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে পুলিশ অভিযান বন্ধ করে কার্যালয় খুলে দেবে।

কাল সংবাদ সম্মেলন  বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশান হোটেল লেকশোরে সংবাদ সম্মেলন হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নয়াপল্টনে একা ফখরুল, কাল সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত সময় : ১০:০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরুর খবর পেয়ে একপর্যায়ে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে পৌঁছান। সরাসরি তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে ডিবির সদস্যরা তাকে বাধা দেন। বারবার চেষ্টা করেও প্রবেশে ব্যর্থ হলে মির্জা ফখরুল কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে বসে পড়েন। এরপর থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই স্থানে তিনি একাই রয়েছেন। তাকে ঘিরে আছেন সাধারণ কর্মী ও সাংবাদিকরা। আশেপাশের এলাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের অবস্থান সম্পর্কে জানা গেলেও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে আসেননি। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে বুধবার দুপুরের আগে থেকেই সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয় নয়া পল্টনে। এদিন দুপুরে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন তাদের অনুসারীরা কার্যালয়ের নিচে অবস্থান করছিলেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। এসময় পুলিশের গুলিতে একজন নিহত ও শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে।

কার্যালয়ের সামনে বসে সাংবাদিকদের সামনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘পুলিশ প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে ব্যাগ নিয়ে ঢুকেছে। এগুলোতে বিস্ফোরক আছে দেখিয়ে পরে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করবে। এর থেকে খারাপ কাজ আর কিছু হতে পারে না। ডিএমপি কমিশনার আমাদের বারবার কথা দিয়েছিলেন, আমরাও বলেছিলাম শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে চাই।’

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একা থাকলেও বিএনপির মহাসচিবের পাশে কাউকে দেখা যায়নি। আশেপাশে দলের সিনিয়র নেতাদের অফিস, বাসা থাকলেও তারা কেউ আসেননি, তারা নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান অসুস্থবোধ করলে তিনি বাসার দিকে ফিরে যান।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বুধবার সন্ধ্যায় জানান, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ অন্যান্য নেতারা বিএনপির কার্যালয়ের দিকে যেতে চান। যদিও পুলিশের বাধায় তারা যেতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা অন্তত ৫০ জননেতাকর্মী বিএনপির কার্যালয়ে যেতে চাইলে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিএনপির অফিসে পুলিশের অভিযান চলছে, তাই পরে যাবেন। আমরা কাউকে অ্যালাউ করবো না।’ রাত ৭টার দিকে জুবায়ের আহমেদ জানান, বিএনপির মহাসচিব আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে পুলিশ অভিযান বন্ধ করে কার্যালয় খুলে দেবে।

কাল সংবাদ সম্মেলন  বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশান হোটেল লেকশোরে সংবাদ সম্মেলন হবে।