মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘লড়াইয়ে হাল ছাড়ি না’

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : ১১:৩৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২২
  • ১১১

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে নেদারল্যান্ডসের কোচ ফন গাল বলেছিলেন মেসিকে রুখে দিলে আর্জেন্টিনার আর কিছু করার থাকবে না। আর ডাচ দলের কোচের এ কথায় তাতিয়ে দিয়েছে মেসিকে।

ফন গালের মেসিকে আটকে রাখার অতীত রেকর্ডও আছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। তখনো নেদারল্যান্ডসের কোচ ফন গালই ছিলেন। তিনি মেসিকে রক্ষণে ঢুকতে না দিয়ে নিচে আটকে রেখেছিলেন। তার পেছনে লাগিয়েছিলেন নাইজেল ডি ইয়ংকে এবং সেটি কার্যকর হয়েছিল। গোটা ম্যাচেই নিষ্প্রভ ছিলেন মেসি।

সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই কিনা, ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ডাচ কোচ বলেছিলেন ‘আর্জেন্টিনার পায়ে যখন বল থাকে না, মেসি তখন কিছুই করে না। এটিকেই কাজে লাগাতে চান।’ মেসি কথাটা মোটেই ভালোভাবে নেননি।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শুক্রবার রাতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফন গালের তাকে আটকানোর কৌশল তো ভেঙেছেনই, সঙ্গে ম্যাচশেষে মেসি বলেছেনÑ ফন গালের ওই কথাতে তিনি অপমানিত হয়েছেন। ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফন গালের এ কথায় আমি অপমানিত বোধ করেছি। খেলার সময়েও অনেক ডাচ ফুটবলার বেশি কথা বলেছে। ফন গাল মনে করেন, সে ভালো ফুটবল খেলায়। প্রতিপক্ষের বক্সে ফরোয়ার্ড রেখে লম্বা লম্বা পাস দেওয়ায়। কিন্তু আমরাই সেমিফাইনালে খেলার যোগ্য ছিলাম এবং সেটিই হয়েছে। আর্জেন্টিনাকে জেতানোর আরেক নায়ক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তার দাবি, ফন গাল ফুটবলারদের বলেছেন আমরা পেনাল্টি হলে এগিয়ে থাকব। টাইব্রেকারে আমরা জিতে যাব। ফন গালের এ কথায় খেপেছেন মার্তিনেজও, ‘আমার মনে হয়, ফন গালের মুখটা বন্ধ রাখা উচিত।’

অনেক উত্তেজনার মোড় পেরিয়ে ম্যাচ যখন টাইব্রেকারে গড়াল, শট নিতে আগ্রহী হিসেবে এগিয়ে এলেন দলের অনেকেই। কোচ লিওনেল স্কালোনির দাবি এমনটিই।

সেখানে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জিতে নেয় ম্যাচ। তাদের হয়ে এনজো ফার্নান্দেসের শট লক্ষ্যে না থাকলেও ভুল করেননি অন্যরা। ম্যাচশেষে কোচ জানালেন টাইব্রেকারের আগে দলের চিত্র কেমন ছিল।

তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো এ ধরনের পরিস্থিতিগুলো খুব কঠিন ছেলেরা এড়িয়ে যেতে চায়। তবে এবার এত বেশি আগ্রহীকে পেয়েছি আমরা, আমাদের স্রেফ ঠিক করতে হয়েছে, কে কখন শট নেবে।’ নির্ধারিত সময়ে জয়ের মতো অবস্থায় থেকেও টাইব্রেকারের ঝুঁকিতে ম্যাচ চলে যাওয়া আদর্শ নয় কখনই। সেটি মানছেন স্কালোনিও। তবে তিনি মনে করিয়ে দিলেন ফুটবলের বাস্তবতা, শোনালেন দল নিয়ে তৃপ্তির কথাও।

তিনি আরও বলেন. ‘এটি সত্যি যে, পেনাল্টি শুটআউটে না যাওয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। তবে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়েছি। দ্বিতীয়ার্ধ খুব কঠিন ছিল। আমরাই খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছি, তবে এটিও তো জানা যে ফুটবলে কত কিছু হয়! স্কালোনি বলেন, ‘দারুণ একটি খেলা এটি। যখন ভাববেন যে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে, তখনই কোনো চমক পেয়ে যাবেন! এই দলের অভিজ্ঞতা আছে, তারুণ্য আছে, গর্ব আছে এবং এসবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা লড়াইয়ে হাল ছাড়ি না।’

অনেক বাধা পেরিয়ে আসা এই জয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে উচ্ছ্বাসের স্রোতে ভেসে যেতে চান না তিনি। তার নজর এখন সেমিফাইনালে। গত আসরের রানার্সআপদের মুখোমুখি হওয়ার আগে সতর্কবার্তা দিলেন তিনি দলকে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে মেসি আগভাগেই বলেছেন, ‘কঠিন ম্যাচ হবে। ক্রোয়েশিয়া দেখিয়েছে, তারা দারুণ একটি দল। আজ তারা ব্রাজিলের সঙ্গে সমানে-সমান খেলেছে। এমনকি মাঝে মধ্যে ব্রাজিলের চেয়ে ভালো ছিল তারা। তাদের খেলতে দিলে, দলটিতে খুব ভালো খেলোয়াড় আছে, যারা বল খুব ভালোভাবে খেলে, বিশেষ করে মিডফিল্ডে।’

নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়দের আচরণেও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মেসি। পুরো ম্যাচেই ডাচ খেলোয়াড়রা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে পাশাপাশি মুখেরন ভাষা দিয়েও তাতিয়েছে ম্যাচে। রেফারি নিয়ে কথা বলেছেন মেসি। পুরস্কার বিতরণীর পর সংবাদ সম্মেলনে যখন মেসি কথা বলছিলেন, তখন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন নেদারল্যান্ডসের গোলদাতা উইগ উইঘর্স্ট। সাক্ষাৎকার মাঝপথে থামিয়েই মেসি বলে ওঠেন, ‘এদিকে তাকিয়ে কী দেখছ নির্বোধ? যাও এখান থেকে সরে যাও।’ আসলে নেদারল্যান্ডসের শারীরিক ফুটবল একেবারেই পছন্দ হয়নি মেসির। তাকেও বহুবার ফাউলের শিকার হতে হয়েছে। একের পর এক হলুদ কার্ড দেখিয়ে ম্যাচ আরও উত্তপ্ত করে তোলে রেফারি।

ম্যাচের মধ্যে রেফারির সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় মেসির। ম্যাচশেষে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার বলেন, ‘রেফারি সম্পর্কে আমি কিছু বলব না। কারণ সবার সামনে যা বলব সেটি সত্যি হবে না।

আমার মনে হয় ফিফার ভেবে দেখা প্রয়োজন, এ রকম ম্যাচে এ ধরনের রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত কিনা। এমন রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়, যে কাজটার যোগ্য নয়।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘লড়াইয়ে হাল ছাড়ি না’

প্রকাশিত সময় : ১১:৩৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২২

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে নেদারল্যান্ডসের কোচ ফন গাল বলেছিলেন মেসিকে রুখে দিলে আর্জেন্টিনার আর কিছু করার থাকবে না। আর ডাচ দলের কোচের এ কথায় তাতিয়ে দিয়েছে মেসিকে।

ফন গালের মেসিকে আটকে রাখার অতীত রেকর্ডও আছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। তখনো নেদারল্যান্ডসের কোচ ফন গালই ছিলেন। তিনি মেসিকে রক্ষণে ঢুকতে না দিয়ে নিচে আটকে রেখেছিলেন। তার পেছনে লাগিয়েছিলেন নাইজেল ডি ইয়ংকে এবং সেটি কার্যকর হয়েছিল। গোটা ম্যাচেই নিষ্প্রভ ছিলেন মেসি।

সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই কিনা, ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ডাচ কোচ বলেছিলেন ‘আর্জেন্টিনার পায়ে যখন বল থাকে না, মেসি তখন কিছুই করে না। এটিকেই কাজে লাগাতে চান।’ মেসি কথাটা মোটেই ভালোভাবে নেননি।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শুক্রবার রাতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফন গালের তাকে আটকানোর কৌশল তো ভেঙেছেনই, সঙ্গে ম্যাচশেষে মেসি বলেছেনÑ ফন গালের ওই কথাতে তিনি অপমানিত হয়েছেন। ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফন গালের এ কথায় আমি অপমানিত বোধ করেছি। খেলার সময়েও অনেক ডাচ ফুটবলার বেশি কথা বলেছে। ফন গাল মনে করেন, সে ভালো ফুটবল খেলায়। প্রতিপক্ষের বক্সে ফরোয়ার্ড রেখে লম্বা লম্বা পাস দেওয়ায়। কিন্তু আমরাই সেমিফাইনালে খেলার যোগ্য ছিলাম এবং সেটিই হয়েছে। আর্জেন্টিনাকে জেতানোর আরেক নায়ক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তার দাবি, ফন গাল ফুটবলারদের বলেছেন আমরা পেনাল্টি হলে এগিয়ে থাকব। টাইব্রেকারে আমরা জিতে যাব। ফন গালের এ কথায় খেপেছেন মার্তিনেজও, ‘আমার মনে হয়, ফন গালের মুখটা বন্ধ রাখা উচিত।’

অনেক উত্তেজনার মোড় পেরিয়ে ম্যাচ যখন টাইব্রেকারে গড়াল, শট নিতে আগ্রহী হিসেবে এগিয়ে এলেন দলের অনেকেই। কোচ লিওনেল স্কালোনির দাবি এমনটিই।

সেখানে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জিতে নেয় ম্যাচ। তাদের হয়ে এনজো ফার্নান্দেসের শট লক্ষ্যে না থাকলেও ভুল করেননি অন্যরা। ম্যাচশেষে কোচ জানালেন টাইব্রেকারের আগে দলের চিত্র কেমন ছিল।

তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো এ ধরনের পরিস্থিতিগুলো খুব কঠিন ছেলেরা এড়িয়ে যেতে চায়। তবে এবার এত বেশি আগ্রহীকে পেয়েছি আমরা, আমাদের স্রেফ ঠিক করতে হয়েছে, কে কখন শট নেবে।’ নির্ধারিত সময়ে জয়ের মতো অবস্থায় থেকেও টাইব্রেকারের ঝুঁকিতে ম্যাচ চলে যাওয়া আদর্শ নয় কখনই। সেটি মানছেন স্কালোনিও। তবে তিনি মনে করিয়ে দিলেন ফুটবলের বাস্তবতা, শোনালেন দল নিয়ে তৃপ্তির কথাও।

তিনি আরও বলেন. ‘এটি সত্যি যে, পেনাল্টি শুটআউটে না যাওয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। তবে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়েছি। দ্বিতীয়ার্ধ খুব কঠিন ছিল। আমরাই খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছি, তবে এটিও তো জানা যে ফুটবলে কত কিছু হয়! স্কালোনি বলেন, ‘দারুণ একটি খেলা এটি। যখন ভাববেন যে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে, তখনই কোনো চমক পেয়ে যাবেন! এই দলের অভিজ্ঞতা আছে, তারুণ্য আছে, গর্ব আছে এবং এসবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা লড়াইয়ে হাল ছাড়ি না।’

অনেক বাধা পেরিয়ে আসা এই জয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে উচ্ছ্বাসের স্রোতে ভেসে যেতে চান না তিনি। তার নজর এখন সেমিফাইনালে। গত আসরের রানার্সআপদের মুখোমুখি হওয়ার আগে সতর্কবার্তা দিলেন তিনি দলকে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে মেসি আগভাগেই বলেছেন, ‘কঠিন ম্যাচ হবে। ক্রোয়েশিয়া দেখিয়েছে, তারা দারুণ একটি দল। আজ তারা ব্রাজিলের সঙ্গে সমানে-সমান খেলেছে। এমনকি মাঝে মধ্যে ব্রাজিলের চেয়ে ভালো ছিল তারা। তাদের খেলতে দিলে, দলটিতে খুব ভালো খেলোয়াড় আছে, যারা বল খুব ভালোভাবে খেলে, বিশেষ করে মিডফিল্ডে।’

নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়দের আচরণেও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মেসি। পুরো ম্যাচেই ডাচ খেলোয়াড়রা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে পাশাপাশি মুখেরন ভাষা দিয়েও তাতিয়েছে ম্যাচে। রেফারি নিয়ে কথা বলেছেন মেসি। পুরস্কার বিতরণীর পর সংবাদ সম্মেলনে যখন মেসি কথা বলছিলেন, তখন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন নেদারল্যান্ডসের গোলদাতা উইগ উইঘর্স্ট। সাক্ষাৎকার মাঝপথে থামিয়েই মেসি বলে ওঠেন, ‘এদিকে তাকিয়ে কী দেখছ নির্বোধ? যাও এখান থেকে সরে যাও।’ আসলে নেদারল্যান্ডসের শারীরিক ফুটবল একেবারেই পছন্দ হয়নি মেসির। তাকেও বহুবার ফাউলের শিকার হতে হয়েছে। একের পর এক হলুদ কার্ড দেখিয়ে ম্যাচ আরও উত্তপ্ত করে তোলে রেফারি।

ম্যাচের মধ্যে রেফারির সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় মেসির। ম্যাচশেষে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার বলেন, ‘রেফারি সম্পর্কে আমি কিছু বলব না। কারণ সবার সামনে যা বলব সেটি সত্যি হবে না।

আমার মনে হয় ফিফার ভেবে দেখা প্রয়োজন, এ রকম ম্যাচে এ ধরনের রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত কিনা। এমন রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়, যে কাজটার যোগ্য নয়।’