শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক চক্রের হাতেই শতাধিক গাড়ি ছিনতাই

নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ গাড়ি ছিনতাই চক্রের মূলহোতাসহ ৫ সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব।

আটককৃতরা হলেন- আজিম উদ্দিন, রফিক উল্লাহ, সেলিম, ওমর ফারুক ও কামরুল হাসান। চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক গাড়ি ছিনতাই ও চুরি করে অন্তত কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে।

শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বিলেন, গত ১১ আগস্ট রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে গাড়ি ছিনতাই চক্রের ৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার নারায়নগঞ্জ থেকে মূলহোতা আজিমসহ আরো ৫ জনকে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ৩ টি পিকআপ, ১ টি সিএনজি, ১ টি পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি, ৩ টি ছুরি, ১ টি চাইনিজ কুড়াল ও ৬টি মোবাইল জব্দ করা হয়। এই চক্রে ১৫-২০ জন জড়িত। গত ৫-৬ বছর ধরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে শতাধিক গাড়ি ছিনতাই-চুরি করেছে।

চক্রটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটসহ নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুরের আশপাশের এলাকায় পিকআপ, সিএনজি ছিনতাই/চুরি করে আসছিলো উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, চক্রটি প্রথমত দলের সদস্যরা ছদ্মবেশে গাড়ি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।

আরেকটি গ্রুপ মাঠ পর্যায় হতে গাড়ি ছিনতাই/চুরি করে। এই গ্রুপে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চালক ও মেকানিকরা থাকে। যাতে নির্বিঘ্নে ছিনতাই বা চুরিকৃত গাড়ি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে পারে। পার্কিং অবস্থায় গাড়ির লক ভেঙে নিয়ে যাওয়াসহ ছদ্মবেশে চালককে চেতনা নাশক ওষুধ মেশানো খাবার খাইয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরের ধাপে সেসব গাড়ি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে রাখে। গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা নিয়ে গাড়ি ফেরত দেয়। আবার কখনো গাড়ির রং পরিবর্তন করে বিক্রি করে কিংবা গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দেয়।

কমান্ডার মঈন বলেন, সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা ও গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তারা বিভিন্ন মামলায় আটক হয়ে জেলে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে চক্রের সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।-ভোরের কাগজ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এক চক্রের হাতেই শতাধিক গাড়ি ছিনতাই

প্রকাশিত সময় : ০৩:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২১

নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ গাড়ি ছিনতাই চক্রের মূলহোতাসহ ৫ সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব।

আটককৃতরা হলেন- আজিম উদ্দিন, রফিক উল্লাহ, সেলিম, ওমর ফারুক ও কামরুল হাসান। চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক গাড়ি ছিনতাই ও চুরি করে অন্তত কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে।

শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বিলেন, গত ১১ আগস্ট রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে গাড়ি ছিনতাই চক্রের ৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার নারায়নগঞ্জ থেকে মূলহোতা আজিমসহ আরো ৫ জনকে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ৩ টি পিকআপ, ১ টি সিএনজি, ১ টি পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি, ৩ টি ছুরি, ১ টি চাইনিজ কুড়াল ও ৬টি মোবাইল জব্দ করা হয়। এই চক্রে ১৫-২০ জন জড়িত। গত ৫-৬ বছর ধরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে শতাধিক গাড়ি ছিনতাই-চুরি করেছে।

চক্রটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটসহ নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুরের আশপাশের এলাকায় পিকআপ, সিএনজি ছিনতাই/চুরি করে আসছিলো উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, চক্রটি প্রথমত দলের সদস্যরা ছদ্মবেশে গাড়ি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।

আরেকটি গ্রুপ মাঠ পর্যায় হতে গাড়ি ছিনতাই/চুরি করে। এই গ্রুপে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চালক ও মেকানিকরা থাকে। যাতে নির্বিঘ্নে ছিনতাই বা চুরিকৃত গাড়ি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে পারে। পার্কিং অবস্থায় গাড়ির লক ভেঙে নিয়ে যাওয়াসহ ছদ্মবেশে চালককে চেতনা নাশক ওষুধ মেশানো খাবার খাইয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরের ধাপে সেসব গাড়ি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে রাখে। গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা নিয়ে গাড়ি ফেরত দেয়। আবার কখনো গাড়ির রং পরিবর্তন করে বিক্রি করে কিংবা গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দেয়।

কমান্ডার মঈন বলেন, সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা ও গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তারা বিভিন্ন মামলায় আটক হয়ে জেলে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে চক্রের সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।-ভোরের কাগজ