শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশুর জন্মের কতদিনের মধ্যে আকিকা দেওয়া উত্তম

ইসলাম শাশ্বত সত্য ধর্ম। এতে দেয়া আছে জীবনের চলার ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজের বিধিবিধান। শিশুর জন্মের পর আকিকা দেওয়ার বিধান ইসলামে দেয়া আছে। আকিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

প্রিয়নবী রাসূল (সা.) আকিকা করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। আকিকার মাধ্যমে সন্তানের বালা মুসিবত, বিপদ আপদ দূর হয়। প্রত্যেক পরিবারের উচিত সন্তান জন্মের পর রাসূল (সা.) এর নির্দেশ অনুযায়ী আকিকা দিয়ে দেয়া।

নবজাতকের বাবার পক্ষ থেকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়পূর্বক বালা-মুসিবত থেকে হেফাজতের নিয়তে সন্তানের আকিকা দেওয়া হয়। হাদিসে পাকে জন্মের ৭ম দিনে আকিকা দেওয়ার কথা বলেছেন বিশ্বনবী। কিন্তু এ দিন গণনা শুরু হবে কীভাবে? কখন থেকে গুনতে হবে দিন?

সন্তানের আকিকার দিন গুনতে হবে চাঁদের হিসাবে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আকিকার দিন গণনা শুরু করতে অনেকেই এ ভুলটি করে থাকেন। এটি একটি অসতর্কতা। আকিকার ব্যাপারে হাদিসে এসেছে-

হজরত সামুরাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন-

كُلُّ غُلاَمٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ

‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সঙ্গে বন্ধক থাকে। সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকিকা করতে হয়।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

ইসলামি শরিয়তের যেসব মাসআলা দিন-তারিখ, মাস-বছরের সঙ্গে সম্পৃক্ত; সেগুলো চাঁদের হিসাবে গণনা করতে হয়। সুতরাং শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৭ম দিনে আকিকা করতে হলে চাঁদের হিসাব অনুযায়ী করতে হবে। আর চাঁদের হিসাবে দিন-তারিখ সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হয়।

সুতরাং কোনো সন্তান যদি সোমবার সূর্যাস্তের পর জন্ম নেয় তবে তার অর্থ হলো সে মঙ্গলবারে জন্ম নিল। সে ক্ষেত্রে ৭ম দিন গণনা শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে; সোমবার থেকে নয়। আর চাঁদের এ হিসাব অনুযায়ী (আকিকার জন্য নির্ধারিত) সপ্তম দিন হবে পরের সোমবার। যদি কেউ সোমবারকে প্রথম দিন ধরে ৭ম দিন গণণা করে থাকে তবে দিনটি হবে পরের রোববার। যা চাঁদের হিসাবে ভুল।

মনে রাখতে হবে
সন্তান যদি সূর্যাস্তের আগে (সোমবার) জন্ম নেয় তবে জন্মের দিন (সোমবার) থেকে গণনা শুরু হবে। সূর্যাস্তের পরে জন্ম নিলেই পরের দিন থেকেই হিসাব করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে দিন-তারিখ, মাস-বছরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ধর্মীয় ইবাদত যথাযথভাবে পালন করার এবং সুন্নাতের অনুসরণে আমল করার তাওফিক দান করুন। হিজরি তারিখের হিসাব রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন। ডেইলি বাংলাদেশ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শিশুর জন্মের কতদিনের মধ্যে আকিকা দেওয়া উত্তম

প্রকাশিত সময় : ০২:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১

ইসলাম শাশ্বত সত্য ধর্ম। এতে দেয়া আছে জীবনের চলার ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজের বিধিবিধান। শিশুর জন্মের পর আকিকা দেওয়ার বিধান ইসলামে দেয়া আছে। আকিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

প্রিয়নবী রাসূল (সা.) আকিকা করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। আকিকার মাধ্যমে সন্তানের বালা মুসিবত, বিপদ আপদ দূর হয়। প্রত্যেক পরিবারের উচিত সন্তান জন্মের পর রাসূল (সা.) এর নির্দেশ অনুযায়ী আকিকা দিয়ে দেয়া।

নবজাতকের বাবার পক্ষ থেকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়পূর্বক বালা-মুসিবত থেকে হেফাজতের নিয়তে সন্তানের আকিকা দেওয়া হয়। হাদিসে পাকে জন্মের ৭ম দিনে আকিকা দেওয়ার কথা বলেছেন বিশ্বনবী। কিন্তু এ দিন গণনা শুরু হবে কীভাবে? কখন থেকে গুনতে হবে দিন?

সন্তানের আকিকার দিন গুনতে হবে চাঁদের হিসাবে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আকিকার দিন গণনা শুরু করতে অনেকেই এ ভুলটি করে থাকেন। এটি একটি অসতর্কতা। আকিকার ব্যাপারে হাদিসে এসেছে-

হজরত সামুরাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন-

كُلُّ غُلاَمٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ

‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সঙ্গে বন্ধক থাকে। সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকিকা করতে হয়।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

ইসলামি শরিয়তের যেসব মাসআলা দিন-তারিখ, মাস-বছরের সঙ্গে সম্পৃক্ত; সেগুলো চাঁদের হিসাবে গণনা করতে হয়। সুতরাং শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৭ম দিনে আকিকা করতে হলে চাঁদের হিসাব অনুযায়ী করতে হবে। আর চাঁদের হিসাবে দিন-তারিখ সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হয়।

সুতরাং কোনো সন্তান যদি সোমবার সূর্যাস্তের পর জন্ম নেয় তবে তার অর্থ হলো সে মঙ্গলবারে জন্ম নিল। সে ক্ষেত্রে ৭ম দিন গণনা শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে; সোমবার থেকে নয়। আর চাঁদের এ হিসাব অনুযায়ী (আকিকার জন্য নির্ধারিত) সপ্তম দিন হবে পরের সোমবার। যদি কেউ সোমবারকে প্রথম দিন ধরে ৭ম দিন গণণা করে থাকে তবে দিনটি হবে পরের রোববার। যা চাঁদের হিসাবে ভুল।

মনে রাখতে হবে
সন্তান যদি সূর্যাস্তের আগে (সোমবার) জন্ম নেয় তবে জন্মের দিন (সোমবার) থেকে গণনা শুরু হবে। সূর্যাস্তের পরে জন্ম নিলেই পরের দিন থেকেই হিসাব করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে দিন-তারিখ, মাস-বছরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ধর্মীয় ইবাদত যথাযথভাবে পালন করার এবং সুন্নাতের অনুসরণে আমল করার তাওফিক দান করুন। হিজরি তারিখের হিসাব রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন। ডেইলি বাংলাদেশ