বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার মেসি

২০২২ সালটি আজীবন মনে রাখবেন লিওনেল মেসি। শুধু তা-ই নয়, সালটি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সেরা বছর বললেও ভুল হবে না। কেননা পরম আরাধ্যের বিশ্বকাপ শিরোপা উঠেছে তার হাতে। ক্যারিয়ারকে দিয়েছে পূর্ণতা। তাই বছরটিকে সেরা না বলে আর উপায় আছে কি! শিরোপা জয়ের পথে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। প্রথম ফুটবলার হিসেবে পেয়েছেন দ্বিতীয়বার সেরা খেলোয়াড় হওয়ার স্বীকৃতি। বছরটি নিজের করে নেওয়ায় ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটিও এবার উঠল তার হাতেই।

সবশেষ ২০১৯ সালে ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ জিতেছিলেন মেসি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, রবার্ট লেভানডোভস্কির সঙ্গী এনিয়ে দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতলেন আর্জেন্টাইন ও পিএসজি ফরোয়ার্ড। বর্ষসেরা হওয়ার পথে তার বাধা ছিল ফ্রান্সের দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও করিম বেনজেমা। কিন্তু লড়াইয়ে দুজনকেই ছাপিয়ে গেছেন মেসি। গত বছর ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৩৫ গোল ও ৩০ অ্যাসিস্ট করেন এই ফরোয়ার্ড। যদিও পুরস্কারের ক্ষেত্রে সময় বিবেচনা করা হয়েছে ৮ আগস্ট ২০২১ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত।

প্যারিসের সালে প্লেল কনসার্ট হলে অনুষ্ঠিত ফিফা দ্য বেস্ট-২০২২ এর শুরুতেই  ফুটবল সম্রাট পেলেকে শ্রদ্ধা জানান ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। গত ২৯ ডিসেম্বর মারা যাওয়া এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির সম্মানে একটি পুরস্কার দেওয়া হয়। আরেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোর হাত থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন পেলের স্ত্রী মার্সিয়া। অনুষ্ঠানের প্রায় আধঘণ্টা সময় কেবলই ছিল পেলেময়।

আবেগী এই মুহূর্তের পর বর্ষসেরা নারী গোলকিপারের পুরস্কার দেওয়া হয় ইংল্যান্ডের ম্যারি ইয়ার্পসকে। থিবো কোর্তোয়া, বুনোকে টপকে বর্ষসেরা পুরুষ গোলকিপার হয়েছেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেস। কাতার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের পেছনে অবদান রাখেন তিনি। পুরস্কার হাতে নেওয়ার পর চোখ দিয়ে অচিরেই পানি বের হয়ে আসে এই গোলকিপারের।

বর্ষসেরা গোলের জন্য পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জেতেন মার্সিন ওলেক্সি। এই প্রথমবার পেশাদার ফুটবলারের বাইরে অ্যাম্পিউট কোনো ফুটবলারের হাতে উঠলো এই পুরস্কার। স্ক্র্যাচে ভর করে বাইসাইকেল কিকে অসাধারণ এক গোল করেছিলেন ওলেক্সি।

বর্ষসেরা মহিলা কোচ হন ইংল্যান্ডকে ইউরো জেতানো সারিনা উইগম্যান। বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল স্কালোনির নামের পাশে যোগ হয় বর্ষসেরা পুরুষ কোচের খেতাব। পুরস্কারটি জয়ের পথে পেছনে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলাকে। ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন জর্জিয়ার লুকা লোকোশভলি এবং ফ্যান অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন কাতার বিশ্বকাপ দেখতে আসা আর্জেন্টাইন সমর্থকরা।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন স্পেন ও বার্সেলোনার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। সবশেষে দেওয়া হয় বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলারের পুরস্কার। ফিফা প্রেসিডেন্টের হাত থেকে যা গ্রহণ করেন মেসি।

ফিফা ফিফপ্রো বর্ষসেরা একাদশ 

গোলরক্ষক: থিবো কোর্তোয়া (বেলজিয়াম ও রিয়াল মাদ্রিদ)।
ডিফেন্ডার: আশরাফ হাকিমি (মরক্কো ও পিএসজি), জোয়াও কানসেলো (পর্তুগাল ও বায়ার্ন মিউনিখ), ভার্জিল ফন ডাইক (নেদারল্যান্ডস ও লিভারপুল)।
মিডফিল্ডার: কেভিন ডি ব্রুইনা (বেলজিয়াম ও ম্যানচেস্টার সিটি), লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া ও রিয়াল মাদ্রিদ), কাসেমিরো (ব্রাজিল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা ও পিএসজি), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স ও পিএসজি), করিম বেনজেমা (ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদ) ও আরলিং হালান্ড (নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটি)।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার মেসি

প্রকাশিত সময় : ০৭:৫১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

২০২২ সালটি আজীবন মনে রাখবেন লিওনেল মেসি। শুধু তা-ই নয়, সালটি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সেরা বছর বললেও ভুল হবে না। কেননা পরম আরাধ্যের বিশ্বকাপ শিরোপা উঠেছে তার হাতে। ক্যারিয়ারকে দিয়েছে পূর্ণতা। তাই বছরটিকে সেরা না বলে আর উপায় আছে কি! শিরোপা জয়ের পথে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। প্রথম ফুটবলার হিসেবে পেয়েছেন দ্বিতীয়বার সেরা খেলোয়াড় হওয়ার স্বীকৃতি। বছরটি নিজের করে নেওয়ায় ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটিও এবার উঠল তার হাতেই।

সবশেষ ২০১৯ সালে ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ জিতেছিলেন মেসি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, রবার্ট লেভানডোভস্কির সঙ্গী এনিয়ে দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতলেন আর্জেন্টাইন ও পিএসজি ফরোয়ার্ড। বর্ষসেরা হওয়ার পথে তার বাধা ছিল ফ্রান্সের দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও করিম বেনজেমা। কিন্তু লড়াইয়ে দুজনকেই ছাপিয়ে গেছেন মেসি। গত বছর ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৩৫ গোল ও ৩০ অ্যাসিস্ট করেন এই ফরোয়ার্ড। যদিও পুরস্কারের ক্ষেত্রে সময় বিবেচনা করা হয়েছে ৮ আগস্ট ২০২১ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত।

প্যারিসের সালে প্লেল কনসার্ট হলে অনুষ্ঠিত ফিফা দ্য বেস্ট-২০২২ এর শুরুতেই  ফুটবল সম্রাট পেলেকে শ্রদ্ধা জানান ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। গত ২৯ ডিসেম্বর মারা যাওয়া এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির সম্মানে একটি পুরস্কার দেওয়া হয়। আরেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোর হাত থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন পেলের স্ত্রী মার্সিয়া। অনুষ্ঠানের প্রায় আধঘণ্টা সময় কেবলই ছিল পেলেময়।

আবেগী এই মুহূর্তের পর বর্ষসেরা নারী গোলকিপারের পুরস্কার দেওয়া হয় ইংল্যান্ডের ম্যারি ইয়ার্পসকে। থিবো কোর্তোয়া, বুনোকে টপকে বর্ষসেরা পুরুষ গোলকিপার হয়েছেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেস। কাতার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের পেছনে অবদান রাখেন তিনি। পুরস্কার হাতে নেওয়ার পর চোখ দিয়ে অচিরেই পানি বের হয়ে আসে এই গোলকিপারের।

বর্ষসেরা গোলের জন্য পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জেতেন মার্সিন ওলেক্সি। এই প্রথমবার পেশাদার ফুটবলারের বাইরে অ্যাম্পিউট কোনো ফুটবলারের হাতে উঠলো এই পুরস্কার। স্ক্র্যাচে ভর করে বাইসাইকেল কিকে অসাধারণ এক গোল করেছিলেন ওলেক্সি।

বর্ষসেরা মহিলা কোচ হন ইংল্যান্ডকে ইউরো জেতানো সারিনা উইগম্যান। বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল স্কালোনির নামের পাশে যোগ হয় বর্ষসেরা পুরুষ কোচের খেতাব। পুরস্কারটি জয়ের পথে পেছনে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলাকে। ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন জর্জিয়ার লুকা লোকোশভলি এবং ফ্যান অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন কাতার বিশ্বকাপ দেখতে আসা আর্জেন্টাইন সমর্থকরা।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন স্পেন ও বার্সেলোনার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। সবশেষে দেওয়া হয় বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলারের পুরস্কার। ফিফা প্রেসিডেন্টের হাত থেকে যা গ্রহণ করেন মেসি।

ফিফা ফিফপ্রো বর্ষসেরা একাদশ 

গোলরক্ষক: থিবো কোর্তোয়া (বেলজিয়াম ও রিয়াল মাদ্রিদ)।
ডিফেন্ডার: আশরাফ হাকিমি (মরক্কো ও পিএসজি), জোয়াও কানসেলো (পর্তুগাল ও বায়ার্ন মিউনিখ), ভার্জিল ফন ডাইক (নেদারল্যান্ডস ও লিভারপুল)।
মিডফিল্ডার: কেভিন ডি ব্রুইনা (বেলজিয়াম ও ম্যানচেস্টার সিটি), লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া ও রিয়াল মাদ্রিদ), কাসেমিরো (ব্রাজিল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা ও পিএসজি), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স ও পিএসজি), করিম বেনজেমা (ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদ) ও আরলিং হালান্ড (নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটি)।