শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুইমারায় ভোটার পাসপোর্ট করতে এসে রোহিঙ্গা যুবক আটক

চক্রটি অনেকদিন ধরেই টাকার বিনিময়ে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ভোটার বানাচ্ছে বলে জানা গেছে। গুইমারা উপজেলার ২নং হাফছড়ি ইউপির ৬নং বড়পিলাক ওয়ার্ডে একই পরিবারের ৯ জন রোহিঙ্গার নামে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনুসন্ধানে ৬ জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ২০১৪ সাল থেকে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতি করে আসছে গুইমারা কেন্দ্রিক চক্রটি। ৯ মার্চ খাগড়াছড়িতে পাসপোর্ট করতে এসে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ মার্চ খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। ১৩ মার্চ আটক রোহিঙ্গা যুবককে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আলম। এছাড়াও বিষয়টি তদন্তে দুদককে অনুসন্ধানের আদেশ দেন। একই সাথে জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি সংশিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে মামলায় সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আটক যুবকের নাম মো: মাতালম, পিতার নাম মো: আবু সৈয়দ, মাতার নাম মৃত রহিমা বেগম। এন আইডি নং ৬০০৬১৫০০৯৫। অনুসন্ধানে জানা যায়, আটক রোহিঙ্গা যুবক মো: মাতালম বড়পিলাকে আসেন তার স্ত্রীর ভাইয়ের শশুর বাড়ির সুবাধে। তার নাম মো: শামসু মন্ডল, এনআইডি নং ৮৬৮৮৭৬২৫৩৬। সে তার প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অন্যজনকে পিতা মাতা বানিয়ে ভোটার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তার এনআইডিতে পিতার নাম মো: দুলাল মিয়া, মাতার নাম হাজেরা বেগম। মুলত মো: শামসু মন্ডলের আসল পিতা-মাতার নাম মো: আব্দুল মালেক, এনআইডি নং ৪২০১৬৯৩৫৪৮, মাতার নাম মোছা: আম্বিয়া খাতুন, এনআইডি নং ৯১৫১৬৬৫৯৪১। আটককৃত যুবকের স্ত্রীর নাম দিলারা বেগম এনআইডি নং ২৮৫৬২৩৬৭৯৫। এছাড়াও হালনাগাদ ভোটর তালিকায় নতুন করে মো: জাফর আলম, এনআইডি নং ১৯৭৪১৫৪৮০৭, পিতার নাম মো: আব্দুল মালেক মাতার নাম মোছা: আম্বিয়া খাতুন নামের রোহিঙ্গা যুবকের ভোটার তালিকাভুক্ত ও খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট করেছে বলে জানা যায়। সে মো: শামসু মন্ডলের আপন ছোট ভাই। এছাড়াও মো: শামসু মন্ডলের আর এক বোন ও তার মেয়ের ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মো: শামসু মন্ডলের স্ত্রী সবুজ আক্তার স্বীকার করেন, মো: শামসু মন্ডল যখন প্রবাসে ছিল তখন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জন্মনিব্ধন করা হয়েছে স্থানীয় একটি চক্রের মাধ্যমে। তার পরিচয় বলতে অপরগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা যুবক মো: শামসু মন্ডল নিজেকে ও তার পরিবারের সকলে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেন। এবং হালনাগাদ ভোটার তালিকায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার ছোট ভাই জাফর আলমের ভোটার তালিকাভুক্তি ও পাসপোর্ট করার কথাও স্বীকার করেন। ভোটার তালিকাভুক্তির ব্যাপারে গুইমারা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল বলেন, স্থানীয় মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্রত্যয়ন ও জন্মনিবন্ধন ছাড়া ভোটার হওয়া যায়না। চেয়ারম্যান-মেম্বার চূড়ান্ত করলেই আমরা ভোটার তালিকাভুক্তি করি। তারা সহযোগিতা না করলে রোহিঙ্গারা ভোটার হতে পারতোনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গুইমারায় ভোটার পাসপোর্ট করতে এসে রোহিঙ্গা যুবক আটক

প্রকাশিত সময় : ১২:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩

চক্রটি অনেকদিন ধরেই টাকার বিনিময়ে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ভোটার বানাচ্ছে বলে জানা গেছে। গুইমারা উপজেলার ২নং হাফছড়ি ইউপির ৬নং বড়পিলাক ওয়ার্ডে একই পরিবারের ৯ জন রোহিঙ্গার নামে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনুসন্ধানে ৬ জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ২০১৪ সাল থেকে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতি করে আসছে গুইমারা কেন্দ্রিক চক্রটি। ৯ মার্চ খাগড়াছড়িতে পাসপোর্ট করতে এসে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ মার্চ খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। ১৩ মার্চ আটক রোহিঙ্গা যুবককে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আলম। এছাড়াও বিষয়টি তদন্তে দুদককে অনুসন্ধানের আদেশ দেন। একই সাথে জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি সংশিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে মামলায় সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আটক যুবকের নাম মো: মাতালম, পিতার নাম মো: আবু সৈয়দ, মাতার নাম মৃত রহিমা বেগম। এন আইডি নং ৬০০৬১৫০০৯৫। অনুসন্ধানে জানা যায়, আটক রোহিঙ্গা যুবক মো: মাতালম বড়পিলাকে আসেন তার স্ত্রীর ভাইয়ের শশুর বাড়ির সুবাধে। তার নাম মো: শামসু মন্ডল, এনআইডি নং ৮৬৮৮৭৬২৫৩৬। সে তার প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অন্যজনকে পিতা মাতা বানিয়ে ভোটার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তার এনআইডিতে পিতার নাম মো: দুলাল মিয়া, মাতার নাম হাজেরা বেগম। মুলত মো: শামসু মন্ডলের আসল পিতা-মাতার নাম মো: আব্দুল মালেক, এনআইডি নং ৪২০১৬৯৩৫৪৮, মাতার নাম মোছা: আম্বিয়া খাতুন, এনআইডি নং ৯১৫১৬৬৫৯৪১। আটককৃত যুবকের স্ত্রীর নাম দিলারা বেগম এনআইডি নং ২৮৫৬২৩৬৭৯৫। এছাড়াও হালনাগাদ ভোটর তালিকায় নতুন করে মো: জাফর আলম, এনআইডি নং ১৯৭৪১৫৪৮০৭, পিতার নাম মো: আব্দুল মালেক মাতার নাম মোছা: আম্বিয়া খাতুন নামের রোহিঙ্গা যুবকের ভোটার তালিকাভুক্ত ও খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট করেছে বলে জানা যায়। সে মো: শামসু মন্ডলের আপন ছোট ভাই। এছাড়াও মো: শামসু মন্ডলের আর এক বোন ও তার মেয়ের ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মো: শামসু মন্ডলের স্ত্রী সবুজ আক্তার স্বীকার করেন, মো: শামসু মন্ডল যখন প্রবাসে ছিল তখন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জন্মনিব্ধন করা হয়েছে স্থানীয় একটি চক্রের মাধ্যমে। তার পরিচয় বলতে অপরগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা যুবক মো: শামসু মন্ডল নিজেকে ও তার পরিবারের সকলে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেন। এবং হালনাগাদ ভোটার তালিকায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার ছোট ভাই জাফর আলমের ভোটার তালিকাভুক্তি ও পাসপোর্ট করার কথাও স্বীকার করেন। ভোটার তালিকাভুক্তির ব্যাপারে গুইমারা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল বলেন, স্থানীয় মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্রত্যয়ন ও জন্মনিবন্ধন ছাড়া ভোটার হওয়া যায়না। চেয়ারম্যান-মেম্বার চূড়ান্ত করলেই আমরা ভোটার তালিকাভুক্তি করি। তারা সহযোগিতা না করলে রোহিঙ্গারা ভোটার হতে পারতোনা।