বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কষ্টার্জিত জয়ে বার্সার সঙ্গে ব্যবধান কমাল রিয়াল

স্প্যানিশ লা লিগায় ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলছে ‍দুই পরাশক্তি দল বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে। জাভি হার্নান্দেজের শিষ্যরা একবার পয়েন্ট অনেক বাড়িয়ে নেয় তো আরেকবার ব্যবধান কমায় কার্লো আনচেলত্তির দল। আরেকটি জয়ে রিয়াল মাদ্রিদ একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করল। কাদিজের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে দলটি। যা তাদের সঙ্গে বার্সার পয়েন্ট ব্যবধান ১০-এ কমিয়ে আনল। শনিবার (১৫ এপ্রিল) কাদিজের মাঠে খেলতে গিয়েছিল রিয়াল। আসন্ন ম্যাচকে সামনে রেখে আনচেলত্তি ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও টনি ক্রুসসহ কয়েকজন নিয়মিত ফুটবলারকে মাদ্রিদে রেখে যান। তবে দলে ছিলেন বেনজেমা, রদ্রিগো এবং অ্যাসেনসিওরা। ম্যাচে মুহুমুর্হু আক্রমণ করেও এদিন গোল পেতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে দিনশেষে তারা মাঠ ছাড়ে ২-০ গোলের ব্যবধানে। ম্যাচের শুরু থেকেই টানা আক্রমণ শাণাতে থাকে আনচেলত্তির শিষ্যরা। এরই ফাঁকে ১২তম মিনিটে প্রায় গোলে খেয়েই বসেছিল রিয়াল। আলফান্সো এসপিনোর কোনাকুনি নেওয়া শট থিবো কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায়। তবে গোলে পোস্ট বাঁধ সাধায় স্প্যানিশ শিরোপাধারীরা এই যাত্রায় বেঁচে যায়। ১৬তম মিনিটে প্রথম গোলের লক্ষ্যে শট নেন রিয়ালের অ্যাসেনসিও। কিন্তু কাদিজ গোলরক্ষক ডেভিড খিল কর্নারের মাধ্যমে সেটি ঠেকিয়ে দেন। এরপর অ্যাসেনসিও থেকে পাওয়া বলে শট নেন বেনজেমা। কিন্তু এবারও তার সামন ডেভিড খিলের দেয়াল। এরপর ৩৫-৪০ মিনিটের মাঝে তিনটি সুযোগ নষ্ট করে সফরকারীরা। প্রথম দু’বার অবশ্য গোলরক্ষক ও ক্রসবারের কারণে সুযোগ বিফলে যায়। কিন্তু তৃতীয় সুযোগে রদ্রিগো গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। যার ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়ে বিরতিতে যায় দু’দল। দ্বিতীয়ার্ধেও একই তালে সুযোগ হাতছাড়া করতে থাকে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। ৫৭ মিনিটে রদ্রিগো ফাঁকা জাল পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। একপাশে গোলরক্ষক ঝুঁকে পড়ায় আরেক পাশে এই সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ৬৪ মিনিটে আবারও পোস্ট আটকে দেয় বেনজেমাকে। এভাবে একের পর এক গোলের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে হতাশায় মুষড়ে পড়ছিল আনচেলত্তি বাহিনী। তবে ম্যাচের ৭২তম মিনিটে অবশেষে ডেডলক ভাঙতে পারে রিয়াল। অঁরেলিয়ে চুয়ামেনির পাস প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নিচু জোরাল শটে জালে পাঠান স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতার দিনে ডিফেন্ডারকেই তাদের টেনে তুলতে হলো। এরপর চার মিনিটের ব্যবধানে আরেকটি গোল করে রিয়াল। মাঝ বরাবর দিয়ে ওঠা আক্রমণে ভালভার্দের পাস বক্সে পেয়ে বাঁ দিক থেকে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন অ্যাসেনসিও। এর আগে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চেলসির বিপক্ষেও তিনি দলের দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন। এই জয়ে ২৯ ম্যাচে ১৯ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে রিয়াল। তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭২। আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চেলসির বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে তারা মাঠে নামবে। প্রথম লেগে ২-০ গোলে জিতেছে তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কষ্টার্জিত জয়ে বার্সার সঙ্গে ব্যবধান কমাল রিয়াল

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৩

স্প্যানিশ লা লিগায় ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলছে ‍দুই পরাশক্তি দল বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে। জাভি হার্নান্দেজের শিষ্যরা একবার পয়েন্ট অনেক বাড়িয়ে নেয় তো আরেকবার ব্যবধান কমায় কার্লো আনচেলত্তির দল। আরেকটি জয়ে রিয়াল মাদ্রিদ একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করল। কাদিজের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে দলটি। যা তাদের সঙ্গে বার্সার পয়েন্ট ব্যবধান ১০-এ কমিয়ে আনল। শনিবার (১৫ এপ্রিল) কাদিজের মাঠে খেলতে গিয়েছিল রিয়াল। আসন্ন ম্যাচকে সামনে রেখে আনচেলত্তি ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও টনি ক্রুসসহ কয়েকজন নিয়মিত ফুটবলারকে মাদ্রিদে রেখে যান। তবে দলে ছিলেন বেনজেমা, রদ্রিগো এবং অ্যাসেনসিওরা। ম্যাচে মুহুমুর্হু আক্রমণ করেও এদিন গোল পেতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে দিনশেষে তারা মাঠ ছাড়ে ২-০ গোলের ব্যবধানে। ম্যাচের শুরু থেকেই টানা আক্রমণ শাণাতে থাকে আনচেলত্তির শিষ্যরা। এরই ফাঁকে ১২তম মিনিটে প্রায় গোলে খেয়েই বসেছিল রিয়াল। আলফান্সো এসপিনোর কোনাকুনি নেওয়া শট থিবো কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায়। তবে গোলে পোস্ট বাঁধ সাধায় স্প্যানিশ শিরোপাধারীরা এই যাত্রায় বেঁচে যায়। ১৬তম মিনিটে প্রথম গোলের লক্ষ্যে শট নেন রিয়ালের অ্যাসেনসিও। কিন্তু কাদিজ গোলরক্ষক ডেভিড খিল কর্নারের মাধ্যমে সেটি ঠেকিয়ে দেন। এরপর অ্যাসেনসিও থেকে পাওয়া বলে শট নেন বেনজেমা। কিন্তু এবারও তার সামন ডেভিড খিলের দেয়াল। এরপর ৩৫-৪০ মিনিটের মাঝে তিনটি সুযোগ নষ্ট করে সফরকারীরা। প্রথম দু’বার অবশ্য গোলরক্ষক ও ক্রসবারের কারণে সুযোগ বিফলে যায়। কিন্তু তৃতীয় সুযোগে রদ্রিগো গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। যার ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়ে বিরতিতে যায় দু’দল। দ্বিতীয়ার্ধেও একই তালে সুযোগ হাতছাড়া করতে থাকে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। ৫৭ মিনিটে রদ্রিগো ফাঁকা জাল পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। একপাশে গোলরক্ষক ঝুঁকে পড়ায় আরেক পাশে এই সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ৬৪ মিনিটে আবারও পোস্ট আটকে দেয় বেনজেমাকে। এভাবে একের পর এক গোলের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে হতাশায় মুষড়ে পড়ছিল আনচেলত্তি বাহিনী। তবে ম্যাচের ৭২তম মিনিটে অবশেষে ডেডলক ভাঙতে পারে রিয়াল। অঁরেলিয়ে চুয়ামেনির পাস প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নিচু জোরাল শটে জালে পাঠান স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতার দিনে ডিফেন্ডারকেই তাদের টেনে তুলতে হলো। এরপর চার মিনিটের ব্যবধানে আরেকটি গোল করে রিয়াল। মাঝ বরাবর দিয়ে ওঠা আক্রমণে ভালভার্দের পাস বক্সে পেয়ে বাঁ দিক থেকে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন অ্যাসেনসিও। এর আগে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চেলসির বিপক্ষেও তিনি দলের দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন। এই জয়ে ২৯ ম্যাচে ১৯ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে রিয়াল। তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭২। আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চেলসির বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে তারা মাঠে নামবে। প্রথম লেগে ২-০ গোলে জিতেছে তারা।