বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় মে দিবস”

“শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি” প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর পালিত হচ্ছে মে দিবস। ১ লা মে আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয় মে দিবসের কথা, স্বরণ করিয়ে দেয় দৈনিন্দন জীবনে শ্রমিকদের অবদানের কথা।

মে দিবস মানেই শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের এ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হে মার্কেটের অকুতোভয় কিছু শ্রমিকরা তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন শ্রমিকদের অধিকার।

বাংলাদেশে প্রতিবছর মে দিবস আসলেই তড়িঘড়ি কিছু কর্মসূচি নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়না তার অধিকাংশই। মে দিবস চলে গেলেই কতৃস্থানিয়রা ভুলে যান তাদের করনীয়। ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ শ্রমিকদের দেশেই অবহেলিত হচ্ছে শ্রমিকরা।

এসব অবহেলিত-উপেক্ষিত শ্রমিক ও মে দিবসকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা রকম ভাবনা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজ রাজ বলেন, শ্রমিকরা হলো আমাদের মেরুদণ্ড তাদেরকে উপেক্ষা করে আমাদের এ সমাজ, দেশ, পৃথীবি সচল রাখা কোনো ভাবেই সম্ভব না।

উন্নয়নের সুউচ্চ শিখরে পৌছাতে শ্রমিক শ্রেণি ছাড়া কল্পনা করা সম্ভব নয়।

সুতারাং তাদের ভালো-মন্দ,  সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বেলায়েত হোসেন রাজিব বলেন, শ্রমিক আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অধিকাংশ  পোশাক কারখানা গুলোতে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হচ্ছে। কোনোটিতে আবার ১৪-১৫ ঘণ্টাও করানো হয়।

এমন অমানবিক কাজের জন্য পোশাক খাতের শ্রমিকরা ৩৫-৪০ বছর বয়সেই অকেজো হয়ে যাচ্ছে যা ভবিষ্যৎ তৈরী পোশাক খাতের জন্য হুমকি সরূপ।

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুমা খাতুন বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবছরই বেতন-ভাতা নিয়ে কতৃপক্ষের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়ে থাকে। এসব সংঘর্ষে অনেক সময় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি প্রাণ হারান ফলে সেসব পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়েন।

এ ধরনের শ্রমিক-মালিক সংঘর্ষ যেন কোনোভাবেই না হয় সে ব্যপারে কতৃপক্ষের নজর দিতে হবে।

শ্রমিকরা যেন সময় মতো সঠিক বেতন পায় সেজন্য প্রয়োজন হলে কঠোর আইন করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারফানা ইয়াসমিন জুথি বলেন, মে দিবসের কর্মসূচী হিসাবে বাংলাদেশের শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষন দিয়ে আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু জনশক্তি রপ্তানি করা হয়। এসব জনশক্তিকে যদি ভালোমানের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে প্রেরণ করা যায় তাহলে বহির্বিশ্ব থেকে সুনাম ও বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স অর্জন করা সম্ভব

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় মে দিবস”

প্রকাশিত সময় : ০২:১৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ মে ২০২৩

“শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি” প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর পালিত হচ্ছে মে দিবস। ১ লা মে আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয় মে দিবসের কথা, স্বরণ করিয়ে দেয় দৈনিন্দন জীবনে শ্রমিকদের অবদানের কথা।

মে দিবস মানেই শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের এ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হে মার্কেটের অকুতোভয় কিছু শ্রমিকরা তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন শ্রমিকদের অধিকার।

বাংলাদেশে প্রতিবছর মে দিবস আসলেই তড়িঘড়ি কিছু কর্মসূচি নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়না তার অধিকাংশই। মে দিবস চলে গেলেই কতৃস্থানিয়রা ভুলে যান তাদের করনীয়। ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ শ্রমিকদের দেশেই অবহেলিত হচ্ছে শ্রমিকরা।

এসব অবহেলিত-উপেক্ষিত শ্রমিক ও মে দিবসকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা রকম ভাবনা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজ রাজ বলেন, শ্রমিকরা হলো আমাদের মেরুদণ্ড তাদেরকে উপেক্ষা করে আমাদের এ সমাজ, দেশ, পৃথীবি সচল রাখা কোনো ভাবেই সম্ভব না।

উন্নয়নের সুউচ্চ শিখরে পৌছাতে শ্রমিক শ্রেণি ছাড়া কল্পনা করা সম্ভব নয়।

সুতারাং তাদের ভালো-মন্দ,  সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বেলায়েত হোসেন রাজিব বলেন, শ্রমিক আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অধিকাংশ  পোশাক কারখানা গুলোতে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হচ্ছে। কোনোটিতে আবার ১৪-১৫ ঘণ্টাও করানো হয়।

এমন অমানবিক কাজের জন্য পোশাক খাতের শ্রমিকরা ৩৫-৪০ বছর বয়সেই অকেজো হয়ে যাচ্ছে যা ভবিষ্যৎ তৈরী পোশাক খাতের জন্য হুমকি সরূপ।

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুমা খাতুন বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবছরই বেতন-ভাতা নিয়ে কতৃপক্ষের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়ে থাকে। এসব সংঘর্ষে অনেক সময় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি প্রাণ হারান ফলে সেসব পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়েন।

এ ধরনের শ্রমিক-মালিক সংঘর্ষ যেন কোনোভাবেই না হয় সে ব্যপারে কতৃপক্ষের নজর দিতে হবে।

শ্রমিকরা যেন সময় মতো সঠিক বেতন পায় সেজন্য প্রয়োজন হলে কঠোর আইন করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারফানা ইয়াসমিন জুথি বলেন, মে দিবসের কর্মসূচী হিসাবে বাংলাদেশের শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষন দিয়ে আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু জনশক্তি রপ্তানি করা হয়। এসব জনশক্তিকে যদি ভালোমানের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে প্রেরণ করা যায় তাহলে বহির্বিশ্ব থেকে সুনাম ও বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স অর্জন করা সম্ভব