শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইভিএম নিয়ে সন্দেহ থাকলে আদালতে যান : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘নির্বাচনের আচরণবিধি প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আর ইভিএম নিয়ে সন্দেহ থাকলে আদালতে যান। আমাদের কাছে আর প্রশ্ন তুলবেন না। কারণ, এ বিষয়ে আর শুনতে চাই না। এ পর্যন্ত যদি ৭০০ থেকে ৮০০ নির্বাচন হয়ে থাকে, এর মধ্যে আমরা কোনো ভূত-পেত্নী দেখতে পাইনি।’ বুধবার (৬ জুন) দুপুরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। সিইসি বলেন, ‘ইভিএমে এখন পর্যন্ত অনিয়ম, ম্যানুপুলেশন দেখতে পাইনি। যদি দেখতে পেতাম, তাহলে আমরা অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম। আমরা অসৎ নই, আমরাও সততায় বিশ্বাস করি।’ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কারো প্রতিনিধিত্ব করে না। এমনকি সরকারেরও প্রতিনিধিত্ব করে না। আমরা স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা। ভোটাররা যেন তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধানতম দায়িত্ব। তাই আচরণবিধির প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে। অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবাই আশা করছেন জিতবেন, কিন্তু আসলে তা হবে না। মেয়র পদে চারজন দাঁড়িয়েছেন, একজন জিতবেন। কাউন্সিলর পদে একজন করেই জিতবেন। আমরা সবসময় অংশগ্রহনমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে বিশ্বাসী। গণতন্ত্রকে যদি প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হয় তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।’ নির্বাচনের আচরণবিধি নিয়ে ইসি বলেন, ‘প্রশাসনের উপর আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে, আপনাদের নিরপেক্ষ থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যতায় যেন না হয়। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড লাগবে। হয়ত আপেক্ষিক অর্থে কম-বেশি হতে পারে তবে এটা সম্ভব হতে পারে আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে। তবে নির্বাচনের দিন যেন আচরণবিধি মানা হয় সেটি দেখতে হবে।’ নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশণার বলেন, ‘নির্বাচনের স্বচ্ছতার বিষয়টা আমরা প্রথাগতভাবে জানবো মিডিয়ার তরফ থেকে। আমরা সেদিন সব চ্যানেল ওপেন রাখি। মিডিয়ায় কীভাবে নির্বাচনের বিষয়টা উঠে আসছে সেটাও দেখবো। আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী।’ তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার ছবি তুলতে বাধা নেই। তারা ছবি তুলতে পারবেন, শুধু ছোট বুথে যেতে পারবেন না। ভোটকক্ষে সাংবাদিকরা দুইজন করে যাবেন, আবার আসবেন। এখানে ১০ মিনিটের বেশি থাকা যাবে না। মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারবো কতটা সুস্থ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হচ্ছে।’ তিনি নির্বাচনের বিশৃঙ্খলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমি সবাইকে বলবো নির্বাচনের দিন শান্ত হয়ে যান। আপনাদের সর্মথকদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করুন। সবাই যেন সুন্দরভাবে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করুন। নির্বাচনের দিন যদি ভোটররা ভোট দিতে না পারে পোলিং এজেন্ট, প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা এসিন্টেন্ট প্রিজাইডিং কর্মকতারা যদি বাধা সৃষ্টি করেন, তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। এছাড়াও প্রার্থীরা যদি পেশীশক্তি ব্যবহার করেন, আর আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। আমাদের হাতে অনিয়মের পর্যপ্ত তথ্য এলে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হবে।’ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব খান, নির্বাচন কমিশনের সচিব জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সিটি নির্বাচনের মেয়রপ্রার্থী, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইভিএম নিয়ে সন্দেহ থাকলে আদালতে যান : সিইসি

প্রকাশিত সময় : ০৬:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘নির্বাচনের আচরণবিধি প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আর ইভিএম নিয়ে সন্দেহ থাকলে আদালতে যান। আমাদের কাছে আর প্রশ্ন তুলবেন না। কারণ, এ বিষয়ে আর শুনতে চাই না। এ পর্যন্ত যদি ৭০০ থেকে ৮০০ নির্বাচন হয়ে থাকে, এর মধ্যে আমরা কোনো ভূত-পেত্নী দেখতে পাইনি।’ বুধবার (৬ জুন) দুপুরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। সিইসি বলেন, ‘ইভিএমে এখন পর্যন্ত অনিয়ম, ম্যানুপুলেশন দেখতে পাইনি। যদি দেখতে পেতাম, তাহলে আমরা অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম। আমরা অসৎ নই, আমরাও সততায় বিশ্বাস করি।’ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কারো প্রতিনিধিত্ব করে না। এমনকি সরকারেরও প্রতিনিধিত্ব করে না। আমরা স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা। ভোটাররা যেন তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধানতম দায়িত্ব। তাই আচরণবিধির প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে। অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবাই আশা করছেন জিতবেন, কিন্তু আসলে তা হবে না। মেয়র পদে চারজন দাঁড়িয়েছেন, একজন জিতবেন। কাউন্সিলর পদে একজন করেই জিতবেন। আমরা সবসময় অংশগ্রহনমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে বিশ্বাসী। গণতন্ত্রকে যদি প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হয় তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।’ নির্বাচনের আচরণবিধি নিয়ে ইসি বলেন, ‘প্রশাসনের উপর আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে, আপনাদের নিরপেক্ষ থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যতায় যেন না হয়। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড লাগবে। হয়ত আপেক্ষিক অর্থে কম-বেশি হতে পারে তবে এটা সম্ভব হতে পারে আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে। তবে নির্বাচনের দিন যেন আচরণবিধি মানা হয় সেটি দেখতে হবে।’ নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশণার বলেন, ‘নির্বাচনের স্বচ্ছতার বিষয়টা আমরা প্রথাগতভাবে জানবো মিডিয়ার তরফ থেকে। আমরা সেদিন সব চ্যানেল ওপেন রাখি। মিডিয়ায় কীভাবে নির্বাচনের বিষয়টা উঠে আসছে সেটাও দেখবো। আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী।’ তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার ছবি তুলতে বাধা নেই। তারা ছবি তুলতে পারবেন, শুধু ছোট বুথে যেতে পারবেন না। ভোটকক্ষে সাংবাদিকরা দুইজন করে যাবেন, আবার আসবেন। এখানে ১০ মিনিটের বেশি থাকা যাবে না। মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারবো কতটা সুস্থ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হচ্ছে।’ তিনি নির্বাচনের বিশৃঙ্খলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমি সবাইকে বলবো নির্বাচনের দিন শান্ত হয়ে যান। আপনাদের সর্মথকদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করুন। সবাই যেন সুন্দরভাবে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করুন। নির্বাচনের দিন যদি ভোটররা ভোট দিতে না পারে পোলিং এজেন্ট, প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা এসিন্টেন্ট প্রিজাইডিং কর্মকতারা যদি বাধা সৃষ্টি করেন, তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। এছাড়াও প্রার্থীরা যদি পেশীশক্তি ব্যবহার করেন, আর আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। আমাদের হাতে অনিয়মের পর্যপ্ত তথ্য এলে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হবে।’ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব খান, নির্বাচন কমিশনের সচিব জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সিটি নির্বাচনের মেয়রপ্রার্থী, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন।