সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ পয়লা আষাঢ়

আজ পয়লা আষাঢ়। রূপময় ঋতুর প্রথম দিন। ঋতুচক্রের পরিক্রমায় আবার ফিরে এসেছে বর্ষা। আজ থেকে শুরু হলো প্রকৃতির নবযৌবনের উচ্ছ্বাস। নবধারা জলে স্নান করে শীতল হওয়ার আহ্বান এখন প্রকৃতিতে। গ্রীষ্মের খরতাপের ধূসর নাগরিক জীবন আর প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন জাগায় বর্ষা। আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে এই ঋতু চলবে শ্রাবণের শেষ দিন পর্যন্ত। গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্ণতাকে ধুয়ে ফেলে গাঢ় সবুজের সমারোহে প্রকৃতি সাজে পূর্ণতায়। রিমঝিম বৃষ্টি, কখনো বা মুষলধারে ভারী বর্ষণও হবে। আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। এ সময় জলীয় বাষ্পবাহী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে প্রচুর বৃষ্টি হয়। তাই চারপাশের পরিবেশ রূপ নেয় চিরসবুজের আভরণে। কদম, বেলি, বকুল, জুঁই, দোলনচাঁপা, গন্ধরাজ, হাসনাহেনার ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। পেখম মেলে ময়ূর। বৃষ্টির পানি গায়ে নিয়ে আনন্দে নেচে ওঠে তারা। বর্ষায় গ্রামবাংলার হাওর এলাকার চেহারাই বদলে যায়। গ্রীষ্মে যে হাওর হেঁটে পাড়ি দেয়া যায়, সেখানে বর্ষায় থাকে অথৈ পানি। দেশের ভাটি অঞ্চলের বাবা-মায়েরা নৌকায় করে মেয়েকে নাইওর আনেন। বিয়ে-শাদিও হয় প্রচুর। নৌকায় করেই বিয়ে করতে যান বর। ফসল উৎপাদনেও বিশেষ ভূমিকা রাখে বর্ষা। বর্ষা সবার কাছে বেশ উপভোগ্য হলেও, এই ঋতুতেই ভাঙে অনেকের সুখের ঘর। বন্যায়, ভারী বর্ষণে, পাহাড়ি ঢলে গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যায়। বন্যাকবলিত নিচু এলাকার মানুষ তাই আতঙ্কে পার করে বর্ষা। কখন বন্যায় তলিয়ে যায় ফসল। তারপরও বাঙালি জীবনে বর্ষা এক অনন্য ঋতু। বৃষ্টিতে ভেজা শৈশবের দুরন্ত স্মৃতিগুলো সব বাঙালির জীবনেই শ্রেষ্ঠ সময়। বাংলাদেশ বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র। বর্ষার প্রবল বর্ষণে নির্জনে ভালোবাসার সাধ জাগে, চিত্তচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। শত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার ভিড়েও কোথায় যেন মেলে এক চিলতে বিশুদ্ধ সুখ। কদম ফুলের মতো তুলতুলে নরম, রঙিন স্বপ্ন দুই চোখের কোণে ভেসে ওঠে। ঠিক যেমন করে আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। তবে হঠাৎ বর্ষা যেমন আনন্দের, বর্ষার নির্মম নৃত্য তেমনি হঠাৎ বিষাদে ভরিয়ে তোলে জনপদ। তবুও বর্ষা বাঙালি জীবনে নতুনের আবাহন। সবুজের সমারোহে, মাটিতে নতুন পলির আস্তরণে আনে জীবনেরই বারতা। সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাঙলা মায়ের নবজন্ম এই বর্ষাতেই। সারা বছরের খাদ্য-শস্য-বীজের উন্মেষ তো ঘটবে বর্ষার ফেলে যাওয়া অফুরন্ত সম্ভাবনার পলিমাটি থেকে। প্রতি বছরের মতো এবারো বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গানের দল আয়োজন করছে বর্ষাবরণের। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও থাকছে নানা আয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

আজ পয়লা আষাঢ়

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩

আজ পয়লা আষাঢ়। রূপময় ঋতুর প্রথম দিন। ঋতুচক্রের পরিক্রমায় আবার ফিরে এসেছে বর্ষা। আজ থেকে শুরু হলো প্রকৃতির নবযৌবনের উচ্ছ্বাস। নবধারা জলে স্নান করে শীতল হওয়ার আহ্বান এখন প্রকৃতিতে। গ্রীষ্মের খরতাপের ধূসর নাগরিক জীবন আর প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন জাগায় বর্ষা। আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে এই ঋতু চলবে শ্রাবণের শেষ দিন পর্যন্ত। গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্ণতাকে ধুয়ে ফেলে গাঢ় সবুজের সমারোহে প্রকৃতি সাজে পূর্ণতায়। রিমঝিম বৃষ্টি, কখনো বা মুষলধারে ভারী বর্ষণও হবে। আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। এ সময় জলীয় বাষ্পবাহী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে প্রচুর বৃষ্টি হয়। তাই চারপাশের পরিবেশ রূপ নেয় চিরসবুজের আভরণে। কদম, বেলি, বকুল, জুঁই, দোলনচাঁপা, গন্ধরাজ, হাসনাহেনার ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। পেখম মেলে ময়ূর। বৃষ্টির পানি গায়ে নিয়ে আনন্দে নেচে ওঠে তারা। বর্ষায় গ্রামবাংলার হাওর এলাকার চেহারাই বদলে যায়। গ্রীষ্মে যে হাওর হেঁটে পাড়ি দেয়া যায়, সেখানে বর্ষায় থাকে অথৈ পানি। দেশের ভাটি অঞ্চলের বাবা-মায়েরা নৌকায় করে মেয়েকে নাইওর আনেন। বিয়ে-শাদিও হয় প্রচুর। নৌকায় করেই বিয়ে করতে যান বর। ফসল উৎপাদনেও বিশেষ ভূমিকা রাখে বর্ষা। বর্ষা সবার কাছে বেশ উপভোগ্য হলেও, এই ঋতুতেই ভাঙে অনেকের সুখের ঘর। বন্যায়, ভারী বর্ষণে, পাহাড়ি ঢলে গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যায়। বন্যাকবলিত নিচু এলাকার মানুষ তাই আতঙ্কে পার করে বর্ষা। কখন বন্যায় তলিয়ে যায় ফসল। তারপরও বাঙালি জীবনে বর্ষা এক অনন্য ঋতু। বৃষ্টিতে ভেজা শৈশবের দুরন্ত স্মৃতিগুলো সব বাঙালির জীবনেই শ্রেষ্ঠ সময়। বাংলাদেশ বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র। বর্ষার প্রবল বর্ষণে নির্জনে ভালোবাসার সাধ জাগে, চিত্তচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। শত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার ভিড়েও কোথায় যেন মেলে এক চিলতে বিশুদ্ধ সুখ। কদম ফুলের মতো তুলতুলে নরম, রঙিন স্বপ্ন দুই চোখের কোণে ভেসে ওঠে। ঠিক যেমন করে আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। তবে হঠাৎ বর্ষা যেমন আনন্দের, বর্ষার নির্মম নৃত্য তেমনি হঠাৎ বিষাদে ভরিয়ে তোলে জনপদ। তবুও বর্ষা বাঙালি জীবনে নতুনের আবাহন। সবুজের সমারোহে, মাটিতে নতুন পলির আস্তরণে আনে জীবনেরই বারতা। সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাঙলা মায়ের নবজন্ম এই বর্ষাতেই। সারা বছরের খাদ্য-শস্য-বীজের উন্মেষ তো ঘটবে বর্ষার ফেলে যাওয়া অফুরন্ত সম্ভাবনার পলিমাটি থেকে। প্রতি বছরের মতো এবারো বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গানের দল আয়োজন করছে বর্ষাবরণের। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও থাকছে নানা আয়োজন।