শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে কাউন্সিলর প্রার্থীর মিছিলে ককটেল হামলা অভিযোগ

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের এক কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রচার মিছিলে শনিবার (১৭ জুন) বিকেলে ককটেল হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী মতিউর রহমান মতির মিছিলে এই হামলা হয়। মতি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা। মতির অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের জহিরুল ইসলাম রুবেলের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছেন। হামলায় মতির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রুবেলের সমর্থকরা নগরীর রাজপাড়া থানা ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে রুবেলের সমর্থকরা দাবি করেছেন, মতির মিছিল থেকেই রুবেলের বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল ফোটানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (১৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে কাউন্সিলর প্রার্থী মতির নেতৃত্বে তাঁর একটি নির্বাচনী প্রচার মিছিল নগরীল ভাটাপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়। মিছিলটি চন্ডিপুর হয়ে শ্রীরামপুরের দিকে যাওয়ার সময় চন্ডিপুর এলাকায় অপর প্রার্থী রুবেলের লোকজন অতির্কিত ককটেল হামলা করে। এসময় মিছিলকারী ছুটাছুটি শুরু করলে লাঠি দিয়ে তাঁদেরকে পেটাতে থাকেন রুবেলের লোকজন। এতে মতির অন্তত ১০ কর্মী-সমর্থক আহত হন। পরে কয়েকজনকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডেরর বর্তমান কাউন্সিলর ও প্রার্থী মতিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘যুবলীগ কর্মী রুবেলের উপস্থিতিতে এ হামলা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকেই রুবেল আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। আমি রাজপাড়া থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। কিন্তু পুলিশ কোনো ভূমিকা নেয়নি। উল্টো আমাদের কয়েকজনকে এর আগেও পেটানো হয়েছে। আজ আবার রুবেলে নেতৃত্বে মিছিলে বোমা হামলা হয়েছে। তার মতো সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’ ঘটনার পর রুবেলসহ তার সমর্থকেরা থানায় যান এবং দাবি করেন যে, মতির মিছিল থেকে রুবেলের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। পরে তারা চন্ডিপুর প্রেসক্লাব মাঠে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রুবেলের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। রুবেলের মোবাইলে ফোন করা হলে তার ছোটভাই পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানান, রুবেল এখন কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। নগরীর রাজপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মইনুল বাশার বলেন, ‘কাউন্সিলর প্রার্থী মতিউরের মিছিলে হামলার ঘটনার অভিযোগ তুলে বেশকিছু নারী পুরুষ থানায় এসেছিলেন। মতি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আরেকপ্রার্থী রুবেল বলছেন, তার বাড়িতে বোমা হামলা হয়েছে। আদৌ বোমা বা ককটেল ছিল কিনা, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে কাউন্সিলর প্রার্থীর মিছিলে ককটেল হামলা অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ০৮:২৬:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের এক কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রচার মিছিলে শনিবার (১৭ জুন) বিকেলে ককটেল হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী মতিউর রহমান মতির মিছিলে এই হামলা হয়। মতি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা। মতির অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের জহিরুল ইসলাম রুবেলের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছেন। হামলায় মতির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রুবেলের সমর্থকরা নগরীর রাজপাড়া থানা ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে রুবেলের সমর্থকরা দাবি করেছেন, মতির মিছিল থেকেই রুবেলের বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল ফোটানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (১৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে কাউন্সিলর প্রার্থী মতির নেতৃত্বে তাঁর একটি নির্বাচনী প্রচার মিছিল নগরীল ভাটাপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়। মিছিলটি চন্ডিপুর হয়ে শ্রীরামপুরের দিকে যাওয়ার সময় চন্ডিপুর এলাকায় অপর প্রার্থী রুবেলের লোকজন অতির্কিত ককটেল হামলা করে। এসময় মিছিলকারী ছুটাছুটি শুরু করলে লাঠি দিয়ে তাঁদেরকে পেটাতে থাকেন রুবেলের লোকজন। এতে মতির অন্তত ১০ কর্মী-সমর্থক আহত হন। পরে কয়েকজনকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডেরর বর্তমান কাউন্সিলর ও প্রার্থী মতিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘যুবলীগ কর্মী রুবেলের উপস্থিতিতে এ হামলা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকেই রুবেল আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। আমি রাজপাড়া থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। কিন্তু পুলিশ কোনো ভূমিকা নেয়নি। উল্টো আমাদের কয়েকজনকে এর আগেও পেটানো হয়েছে। আজ আবার রুবেলে নেতৃত্বে মিছিলে বোমা হামলা হয়েছে। তার মতো সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’ ঘটনার পর রুবেলসহ তার সমর্থকেরা থানায় যান এবং দাবি করেন যে, মতির মিছিল থেকে রুবেলের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। পরে তারা চন্ডিপুর প্রেসক্লাব মাঠে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রুবেলের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। রুবেলের মোবাইলে ফোন করা হলে তার ছোটভাই পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানান, রুবেল এখন কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। নগরীর রাজপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মইনুল বাশার বলেন, ‘কাউন্সিলর প্রার্থী মতিউরের মিছিলে হামলার ঘটনার অভিযোগ তুলে বেশকিছু নারী পুরুষ থানায় এসেছিলেন। মতি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আরেকপ্রার্থী রুবেল বলছেন, তার বাড়িতে বোমা হামলা হয়েছে। আদৌ বোমা বা ককটেল ছিল কিনা, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’