বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লিটনের ব্যাটে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আফগানিস্তানের কাছে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানদের আগের দুই ম্যাচের মতো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়নি। শরীফুল-তাসকিনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৫.২ ওভারে সফরকারীরা অলআউট হয় মাত্র ১২৬ রানে। ১২৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে হয়েছিল। মোহাম্মদ নাঈম, নাজমুল হোসেন শান্ত শুরুতেই ফিরলেও সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের ব্যাটে ভর করে ২৩.৩ ওভারেই বাংলাদেশ জয় তুলে নেয়। অধিনায়ক ৬০ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তার সঙ্গে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন তৌহিদ হৃদয়। সাকিব আল হাসান ৩৯ বলে ৫ চারে ৩৯ রান করে আউট হন। তাকে আউট করেন মোহাম্মদ নবী। আর নাঈম ও শান্তকে সরাসরি বোল্ড করে ফেরান ফজল হক ফারুকি। এই ম্যাচে ৩৯ রান করার মধ্য দিয়ে বিশ্বের একমাত্র অলরাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬০০ উইকেট ও ১৪ হাজার রান করার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। তার আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে। তৃতীয় ওভারে এসে দলীয় ৩ রানে ইব্রাহিম জাদরানকে (১) উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দি করিয়ে প্রথম আঘাত করেন শরীফুল। ওই ওভারের পঞ্চম বলে একইভাবে ফেরান রহমত শাহকেও (০)। ১৪ রানের মাথায় রহমানুল্লাহ গুরবাককে উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান তাসকিন আহমেদ। ২২ বলে ১ চারে ৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। নবম ওভারে এসে মোহাম্মদ নবীকে (১) ফেরান শরীফুল। এলবিডব্লিউ হয়ে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। এরপর দলীয় সংগ্রহ ৩২ পার না হতেই আফগানরা হারিয়ে বসে ৫ উইকেট। এ সময় সাকিব আল হাসান এসে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন নাজিবুল্লাহ জাদরানকে (১০)। মাটি কামড়ে পড়ে থাকা অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহীদিকে বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম। তাতে ৫৩ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। দলীয় ৬৮ রানের মাথায় শরীফুলের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন আব্দুল রহমান। তিনি তাইজুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্যক্তিগত ৪ রানে। ৮৯ রানের মাথায় জিয়া-উর-রেহমানকে বোল্ড করেন তাইজুল। সেখান থেকে মুজিব উর রহমান ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দলীয় সংগ্রহকে নিয়ে যান ১২৫ পর্যন্ত। ১২৫ রানের মাথায় মুজিবকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। আফগান ব্যাটসম্যানদের আসা যাওযার মিছিলে ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তিনি ৭১ বল খেলে ১টি চার ও ৩ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন। দলীয় ১২৬ রানের মাথায় ব্যক্তিগত এই রানে তাসকিনের বলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। আর আফগানিস্তান অলআউট হয় ১২৬ রানে। দলের প্রায় অর্ধেক রান করেন আজমতউল্লাহ। বল হাতে ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন বাংলাদেশের শরীফুল ইসলাম। আর মোট ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হন আফগানিস্তানের পেসার ফজল হক ফারুকি। এই ম্যাচ হারলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে আফগানরা। শুক্রবার থেকে সিলেটে শুরু হবে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লিটনের ব্যাটে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

প্রকাশিত সময় : ১১:৫০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০২৩

প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আফগানিস্তানের কাছে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানদের আগের দুই ম্যাচের মতো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়নি। শরীফুল-তাসকিনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৫.২ ওভারে সফরকারীরা অলআউট হয় মাত্র ১২৬ রানে। ১২৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে হয়েছিল। মোহাম্মদ নাঈম, নাজমুল হোসেন শান্ত শুরুতেই ফিরলেও সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের ব্যাটে ভর করে ২৩.৩ ওভারেই বাংলাদেশ জয় তুলে নেয়। অধিনায়ক ৬০ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তার সঙ্গে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন তৌহিদ হৃদয়। সাকিব আল হাসান ৩৯ বলে ৫ চারে ৩৯ রান করে আউট হন। তাকে আউট করেন মোহাম্মদ নবী। আর নাঈম ও শান্তকে সরাসরি বোল্ড করে ফেরান ফজল হক ফারুকি। এই ম্যাচে ৩৯ রান করার মধ্য দিয়ে বিশ্বের একমাত্র অলরাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬০০ উইকেট ও ১৪ হাজার রান করার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। তার আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে। তৃতীয় ওভারে এসে দলীয় ৩ রানে ইব্রাহিম জাদরানকে (১) উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দি করিয়ে প্রথম আঘাত করেন শরীফুল। ওই ওভারের পঞ্চম বলে একইভাবে ফেরান রহমত শাহকেও (০)। ১৪ রানের মাথায় রহমানুল্লাহ গুরবাককে উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান তাসকিন আহমেদ। ২২ বলে ১ চারে ৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। নবম ওভারে এসে মোহাম্মদ নবীকে (১) ফেরান শরীফুল। এলবিডব্লিউ হয়ে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। এরপর দলীয় সংগ্রহ ৩২ পার না হতেই আফগানরা হারিয়ে বসে ৫ উইকেট। এ সময় সাকিব আল হাসান এসে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন নাজিবুল্লাহ জাদরানকে (১০)। মাটি কামড়ে পড়ে থাকা অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহীদিকে বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম। তাতে ৫৩ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। দলীয় ৬৮ রানের মাথায় শরীফুলের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন আব্দুল রহমান। তিনি তাইজুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্যক্তিগত ৪ রানে। ৮৯ রানের মাথায় জিয়া-উর-রেহমানকে বোল্ড করেন তাইজুল। সেখান থেকে মুজিব উর রহমান ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দলীয় সংগ্রহকে নিয়ে যান ১২৫ পর্যন্ত। ১২৫ রানের মাথায় মুজিবকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। আফগান ব্যাটসম্যানদের আসা যাওযার মিছিলে ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তিনি ৭১ বল খেলে ১টি চার ও ৩ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন। দলীয় ১২৬ রানের মাথায় ব্যক্তিগত এই রানে তাসকিনের বলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। আর আফগানিস্তান অলআউট হয় ১২৬ রানে। দলের প্রায় অর্ধেক রান করেন আজমতউল্লাহ। বল হাতে ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন বাংলাদেশের শরীফুল ইসলাম। আর মোট ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হন আফগানিস্তানের পেসার ফজল হক ফারুকি। এই ম্যাচ হারলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে আফগানরা। শুক্রবার থেকে সিলেটে শুরু হবে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ।