রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ানোর মাধ্যমে চান্স পান’ আহসান হাবীব। এ কথা স্বীকার করায় আহসান হাবীবকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়াতে সহায়তাকারী চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আটক হওয়া ছাত্র হাবীবের মা মোছা. রেহেনা বেগম।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর মতিহার থানায় মামলা করেন রেহেনা বেগম।
মামলার আসামিরা হলেন- মুশফিক তাহমিদ তন্ময়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র প্রাঙ্গন, সাকিব, রাজু এবং অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসামি মুশফিক তাহমিদ তন্ময় রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রাজু শেরেবাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তবে, আসামি সাকিবের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
আসামি তন্ময়ের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চাচিয়া মীরগঞ্জ এলাকায়। এর আগেও, প্রক্সিকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে তন্ময়ের নাম উঠে আসে গণমাধ্যমে। গতবছর প্রক্সি পরীক্ষা দিতে এসে আটক হওয়া এক ছাত্র বলেছিলেন, তন্ময় তাকে ওই কাজ দিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে গতবছরের ৪ আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তন্ময়কে বহিষ্কার করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ তাকে বহিষ্কার করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিন মাস পরে অবশ্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছিল। বর্তমানে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতি করছেন তিনি।
আটক আহসান হাবীবের মায়ের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘আমার ছেলে আমাকে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বিজ্ঞান ভবনের পাশে, গাছ তলায় বসিয়ে রেখে ভর্তি হওয়ার জন্য ভিতরে যায়। তারপর বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত আমার ছেলে ফিরে না আসায়, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে ছেলের নিখোঁজ সংক্রান্ত মৌখিক অভিযোগ করি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও প্রক্টরিয়াল বডির লোকজন খোঁজাখুঁজি করে আমার ছেলেকে বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে শের-ই-বাংলা হল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ক্যাম্পাসে আসে। এরপর আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, সে নিজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে আসামিদের সহায়তায় অপরের দ্বারা প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এ জন্য আসামি প্রাঙ্গন এর সঙ্গে চার লাখ আশি হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়।’
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ‘বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে রাজশাহী রেল স্টেশন এর সামনের রাস্তায় চুক্তির নগদ তিন লাখ ৬০ টাকা ও ৬০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। ভর্তি হওয়ার পর বাকি টাকা দেওয়া হবে বলে অঙ্গীকার করে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার পর টাকা না দেওয়ায় আসামিরা আমার ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বিজ্ঞান ভবনের সামনে থেকে অপহরণ করে শের-ই-বাংলা হলের তৃতীয় তলায় নিয়ে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং বাকি টাকা না দিলে ধারালো ছুরি দেখিয়ে হত্যার ভয় দেখায়। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার স্বামীর নিকট ফোন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে টাকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে বলে। না আসিলে ছেলেকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।’
চুক্তি অনুযায়ী প্রক্সি পরীক্ষা দিতে সহায়তাকারীদের দেওয়া অর্থের বিষয়ে আহসান হাবীবের বাবা-মা জানতেন কি না জানার জন্য তার মায়ের মোবাইল নম্বরে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায় এবং বাবা কল রিসিভ করেননি।

রিপোর্টারের নাম 

























