বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ড সিরিজেও পরীক্ষা চলবে: সাকিব

এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিটি ম্যাচেই ছিল ভিন্ন ভিন্ন একাদশ। টিম ম্যানেজমেন্ট যেন বিশ্বকাপের আগে চূড়ান্ত পরীক্ষাই করতে চাইছে এই টুর্নামেন্টে। তাওহিদ হৃদয় নিজের পজিশন বদলেছেন, রাতারাতি ওপেনার বনে গিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটন দাসকে চিরচেনা ওপেনিং ছেড়ে দেখা গিয়েছে ওয়ানডাউনে।

সব সিদ্ধান্তই অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে আসেনি। তবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দেখছেন। বিশেষ করে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজে একাধিক পরীক্ষা চালানো হতে পারে। এশিয়া কাপে লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করে, এমন আভাসই দিলেন সাকিব।

টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি ম্যাচ আছে। সেখানে আমরা কিছু জিনিস দেখব। সবারই সুযোগ আছে খেলার। তবে এশিয়া কাপে যারা খেলেছে, তাদের মধ্যে যারা বিশ্বকাপে নিশ্চিত যাবে, তাদের বিশ্রাম থাকতে হবে বলে আমি মনে করি। প্র্যাকটিস ম্যাচ, ট্রাভেলিং মিলিয়ে অনেক বড় সফর বিশ্বকাপে। কারও ইনজুরি হলে সমস্যা হবে। আমাদের হাতে ভালো বিকল্প নেই। সবার ফিট থাকাটা খুব জরুরি। এবাদত নেই, আমি আশা করব চার পেসারই যেন ফিট থাকে।’

বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিং নিয়েই যেন ভুগতে হচ্ছে বেশি। এশিয়া কাপে ব্যর্থ হবার মূল কারণই ব্যাটারদের রানখরা। এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন সাকিব নিজেও, ‘ব্যাটিং নিয়ে অবশ্যই আমরা চিন্তিত। বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা ভালো ব্যাটিং করছি না। সে জায়গাগুলো দেখার এবং চিন্তা করার আছে। বিশ্বকাপের আগে এই টুর্নামেন্ট খুবই কাজে দিয়েছে। রিয়েলিটি চেকটা দরকার ছিল আমাদের।

বড় টুর্নামেন্টে এলেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে দলের উপর, এটাও মেনে নিয়েছেন সাকিব। ‘দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আমরা সব সময়ই ভালো খেলি। বলতে পারবেন না এসব সিরিজে আমরা কখনো খারাপ দল ছিলাম। আমাদের বড় পরীক্ষাগুলো হয় এ রকম বড় টুর্নামেন্টগুলোতে, যেখানে আমরা কখনোই আহামরি কিছু করি না। খেয়াল করলে দেখবেন, ২০০৭ বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ জিতেছি, ২০১১–এর বিশ্বকাপে তিনটি জিতেছি, ২০১৫ বিশ্বকাপে তিনটি জিতেছি, ২০১৯ বিশ্বকাপেও তিনটি ম্যাচই জিতেছি।’

‘আমাদের ইতিহাস নেই বড় টুর্নামেন্টে ভালো করার। যদিও এশিয়া কাপে দু–তিনবার ফাইনাল খেলেছি, তবে জিতলে আরও ভালো হতো। গত ছয় মাসে আমাদের ব্যাটিং খারাপ হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবেই নিচের দিকে যাচ্ছে। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। আসলে অনেকে অনেক কথা বলতে পারে। কিন্তু যখনই রিয়েলিটি চেকটা হয়, তখন কিন্তু আমরা ব্যর্থই হয়েছি। এটা ভালো যে বিশ্বকাপের আগে আগে এই টুর্নামেন্টটা হয়েছে। সবাই অবশ্যই চিন্তা করবে এই সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়।’-যোগ করেন টাইগার দলপতি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিউজিল্যান্ড সিরিজেও পরীক্ষা চলবে: সাকিব

প্রকাশিত সময় : ০৭:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিটি ম্যাচেই ছিল ভিন্ন ভিন্ন একাদশ। টিম ম্যানেজমেন্ট যেন বিশ্বকাপের আগে চূড়ান্ত পরীক্ষাই করতে চাইছে এই টুর্নামেন্টে। তাওহিদ হৃদয় নিজের পজিশন বদলেছেন, রাতারাতি ওপেনার বনে গিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটন দাসকে চিরচেনা ওপেনিং ছেড়ে দেখা গিয়েছে ওয়ানডাউনে।

সব সিদ্ধান্তই অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে আসেনি। তবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দেখছেন। বিশেষ করে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজে একাধিক পরীক্ষা চালানো হতে পারে। এশিয়া কাপে লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করে, এমন আভাসই দিলেন সাকিব।

টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি ম্যাচ আছে। সেখানে আমরা কিছু জিনিস দেখব। সবারই সুযোগ আছে খেলার। তবে এশিয়া কাপে যারা খেলেছে, তাদের মধ্যে যারা বিশ্বকাপে নিশ্চিত যাবে, তাদের বিশ্রাম থাকতে হবে বলে আমি মনে করি। প্র্যাকটিস ম্যাচ, ট্রাভেলিং মিলিয়ে অনেক বড় সফর বিশ্বকাপে। কারও ইনজুরি হলে সমস্যা হবে। আমাদের হাতে ভালো বিকল্প নেই। সবার ফিট থাকাটা খুব জরুরি। এবাদত নেই, আমি আশা করব চার পেসারই যেন ফিট থাকে।’

বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিং নিয়েই যেন ভুগতে হচ্ছে বেশি। এশিয়া কাপে ব্যর্থ হবার মূল কারণই ব্যাটারদের রানখরা। এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন সাকিব নিজেও, ‘ব্যাটিং নিয়ে অবশ্যই আমরা চিন্তিত। বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা ভালো ব্যাটিং করছি না। সে জায়গাগুলো দেখার এবং চিন্তা করার আছে। বিশ্বকাপের আগে এই টুর্নামেন্ট খুবই কাজে দিয়েছে। রিয়েলিটি চেকটা দরকার ছিল আমাদের।

বড় টুর্নামেন্টে এলেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে দলের উপর, এটাও মেনে নিয়েছেন সাকিব। ‘দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আমরা সব সময়ই ভালো খেলি। বলতে পারবেন না এসব সিরিজে আমরা কখনো খারাপ দল ছিলাম। আমাদের বড় পরীক্ষাগুলো হয় এ রকম বড় টুর্নামেন্টগুলোতে, যেখানে আমরা কখনোই আহামরি কিছু করি না। খেয়াল করলে দেখবেন, ২০০৭ বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ জিতেছি, ২০১১–এর বিশ্বকাপে তিনটি জিতেছি, ২০১৫ বিশ্বকাপে তিনটি জিতেছি, ২০১৯ বিশ্বকাপেও তিনটি ম্যাচই জিতেছি।’

‘আমাদের ইতিহাস নেই বড় টুর্নামেন্টে ভালো করার। যদিও এশিয়া কাপে দু–তিনবার ফাইনাল খেলেছি, তবে জিতলে আরও ভালো হতো। গত ছয় মাসে আমাদের ব্যাটিং খারাপ হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবেই নিচের দিকে যাচ্ছে। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। আসলে অনেকে অনেক কথা বলতে পারে। কিন্তু যখনই রিয়েলিটি চেকটা হয়, তখন কিন্তু আমরা ব্যর্থই হয়েছি। এটা ভালো যে বিশ্বকাপের আগে আগে এই টুর্নামেন্টটা হয়েছে। সবাই অবশ্যই চিন্তা করবে এই সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়।’-যোগ করেন টাইগার দলপতি।