শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিই প্রাপ্তি

লিটন দাস যখন আউট হলেন তখন মাত্র ৫৮ রান। নেই বাংলাদেশের ৫ উইকেট। এমন দৃশ্য দেখে যারা টিভি বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা নিশ্চিত মিস করে গেছেন। পাহাড় চূড়া লক্ষ্য দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেটা ছুঁতে গিয়ে যেন হাঁসফাস ব্যাটসম্যানদের। তবে হাল ধরেছিলেন যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে চলে না বলে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল সেই তিনিই। করেছেন সেঞ্চুরি। তাতে অবশ্য শেষ পর্যন্ত চূড়ায় ওঠা হয়নি টাইগারদের। হারতে হয়েছে ম্যাচ। তবু ‘বাতিল’ রিয়াদের সেঞ্চুরিতে সম্মানজনক পরাজয়।

৩৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সতর্ক শুরু করেছিলেন লিটন দাস ও তানজিদ তামিম। তবে তাতে কাজ হয়নি। ৬ ওভারে তাদের ব্যাটে আসে ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি। সেটাতেই থাবা বসান মার্কো ইয়ানসেন। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম দুই বলেই তিনি ফেরান তানজিদ ও শান্তকে। জুনিয়র তামিম ১২ রান করে আউট হলেও শান্ত রান না করেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।

পরের ওভারেই ফিরে যান সাকিব। লিজাড উইলিয়ামসের অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে নিজের তৃতীয় ক্যাচটি নিয়েছেন হেইনরিখ ক্লাসেন। তিনি করেন মাত্র ১ রান। ৮ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা। সেই সামলাতে গিয়ে উল্টো ফাঁদে পড়েন মুশফিকুর রহিম। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট লেংথের বলে তিনি ফ্ল্যাশ করেছিলেন। সরাসরি ক্যাচ গেছে ডিপ থার্ডে। জেরাল্ড কোয়েৎজির উদ্‌যাপন অবশ্য হয়েছে দেখার মতোই।

৪২ রানে যখন ৪ উইকেট হারিয়ে কঠিন চাপে বাংলাদেশ তখন মাঠে নামেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখনও ওপেনার লিটন দাস ছিলেন মাঠে। তাকে নিয়ে এগোচ্ছিলেন রিয়াদ। কিন্তু ১৬ রানের জুটি হতেই লিটনকে থামিয়ে দেন রাবাদা। সিমের বল ঘুরিয়ে খেলতে গিয়ে মিস করে যান। আম্পায়ার জোয়েল উইলসনের দেওয়া এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও লাভ হয়নি। লিটন আউট ৪৪ বলে ২২ রান করে।

মাত্র ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের শাসন চলতেই থাকে। কেশভ মহারাজের বলে এলবিডব্লু হাত থেকে বেঁচেছিলেন মিরাজ। স্লগ সুইপ করে এবার আর বাঁচলেন না। বদলি ফিল্ডার আন্দিলে ফিকোয়াওয়ের হাতে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন তিনি। ৬ উইকেট হারায় ৮১ রানে।

সেই খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার হাল ধরেন রিয়াদ। তাকে সঙ্গ দেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। মিরাজের বিদায়ের পর মাঠে নামা নাসুম আহমেদের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১২২ রানে বিদায় নেন নাসুম। জেরাল্ড কোয়েৎজির আরেকটি শর্ট বলে এল আরেকটি উইকেট। নাসুম আহমেদ তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন কোয়েৎজির হাতেই। তারপর মাঠে নামেন হাসান মাহমুদ। তার সঙ্গে যোগ করেন আরও ৩৯ রান। ৮.১ ওভার এ জুটি হতাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। হাসান ক্যাচ তুলেন রাবাদার বলে। বিদায় নেন তিনি ১৫ রান করে।

ব্যাটসম্যানরা যাওয়া আসার মধ্যে থাকলেও রিয়াদ অন্যপ্রান্ত ঠিকই আগলে রাখছিলেন। হাসানের বিদায়ের পর এই ব্যাটসম্যানকে সঙ্গ দিতে মাঠে নামেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার সঙ্গে গড়েন ৬৮ রানের জুটি। এই জুটির মধ্যেই অনেক ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু রিয়াদ তার ব্যাট ঠিকই চালিয়ে যান। তাতে পেয়ে যান ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা।

রাবাদার বলে লেগ সাইডে খেলে ডাবলস। মাহমুদউল্লাহ ৯৯। এরপর শর্ট বলে ফাইন লেগে খেলে সিঙ্গেলে মাহমুদউল্লাহ পেয়েছেন সেঞ্চুরি! উদ্‌যাপনে লাফ দিয়েছেন, এরপর আঙুল দিয়ে ইশারা করেছেন ওপরের দিকে। এরপর দিয়েছেন সিজদা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিটি পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে টানা দুই ম্যাচে ১০০ পেরিয়েছিলেন।। মাহমুদউল্লাহর পরের সেঞ্চুরিটি ছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ২০১৭ সাল কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই সেঞ্চুরিই ছিল মাহমুদউল্লাহর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বশেষ। আজ আরেকটির দেখা পেলেন তিনি। অথচ বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপের দলেও ছিলেন না তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দলে ফেরানো হয়। এরপর বিশ্বকাপ দলেও জায়গা পান। আগের দুই ম্যাচে লড়াই করলেও ইনিংস বড় করার সুযোগ পাননি সেভাবে। আজ ছয়ে এসেছিলেন। দলের অবস্থা সুবিধার ছিল না মোটেও। এখনো যে আছে, তা নয়। তবে লড়াইটা চালিয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। এমন দিনে ব্যক্তিগত অর্জনই হতে পারে সান্ত্বনা!

১১১ বলে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় তিনি ১১১ রান করে আউট হন। তার বিদায়ের পর আর বেশিক্ষণ টিকেনি বাংলাদেশও। গুটিয়ে যায় ২৩৩ রানে। তাতে নিশ্চিত হয় ১৪৯ রানের জয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিই প্রাপ্তি

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩

লিটন দাস যখন আউট হলেন তখন মাত্র ৫৮ রান। নেই বাংলাদেশের ৫ উইকেট। এমন দৃশ্য দেখে যারা টিভি বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা নিশ্চিত মিস করে গেছেন। পাহাড় চূড়া লক্ষ্য দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেটা ছুঁতে গিয়ে যেন হাঁসফাস ব্যাটসম্যানদের। তবে হাল ধরেছিলেন যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে চলে না বলে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল সেই তিনিই। করেছেন সেঞ্চুরি। তাতে অবশ্য শেষ পর্যন্ত চূড়ায় ওঠা হয়নি টাইগারদের। হারতে হয়েছে ম্যাচ। তবু ‘বাতিল’ রিয়াদের সেঞ্চুরিতে সম্মানজনক পরাজয়।

৩৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সতর্ক শুরু করেছিলেন লিটন দাস ও তানজিদ তামিম। তবে তাতে কাজ হয়নি। ৬ ওভারে তাদের ব্যাটে আসে ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি। সেটাতেই থাবা বসান মার্কো ইয়ানসেন। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম দুই বলেই তিনি ফেরান তানজিদ ও শান্তকে। জুনিয়র তামিম ১২ রান করে আউট হলেও শান্ত রান না করেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।

পরের ওভারেই ফিরে যান সাকিব। লিজাড উইলিয়ামসের অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে নিজের তৃতীয় ক্যাচটি নিয়েছেন হেইনরিখ ক্লাসেন। তিনি করেন মাত্র ১ রান। ৮ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা। সেই সামলাতে গিয়ে উল্টো ফাঁদে পড়েন মুশফিকুর রহিম। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট লেংথের বলে তিনি ফ্ল্যাশ করেছিলেন। সরাসরি ক্যাচ গেছে ডিপ থার্ডে। জেরাল্ড কোয়েৎজির উদ্‌যাপন অবশ্য হয়েছে দেখার মতোই।

৪২ রানে যখন ৪ উইকেট হারিয়ে কঠিন চাপে বাংলাদেশ তখন মাঠে নামেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখনও ওপেনার লিটন দাস ছিলেন মাঠে। তাকে নিয়ে এগোচ্ছিলেন রিয়াদ। কিন্তু ১৬ রানের জুটি হতেই লিটনকে থামিয়ে দেন রাবাদা। সিমের বল ঘুরিয়ে খেলতে গিয়ে মিস করে যান। আম্পায়ার জোয়েল উইলসনের দেওয়া এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও লাভ হয়নি। লিটন আউট ৪৪ বলে ২২ রান করে।

মাত্র ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের শাসন চলতেই থাকে। কেশভ মহারাজের বলে এলবিডব্লু হাত থেকে বেঁচেছিলেন মিরাজ। স্লগ সুইপ করে এবার আর বাঁচলেন না। বদলি ফিল্ডার আন্দিলে ফিকোয়াওয়ের হাতে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন তিনি। ৬ উইকেট হারায় ৮১ রানে।

সেই খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার হাল ধরেন রিয়াদ। তাকে সঙ্গ দেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। মিরাজের বিদায়ের পর মাঠে নামা নাসুম আহমেদের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১২২ রানে বিদায় নেন নাসুম। জেরাল্ড কোয়েৎজির আরেকটি শর্ট বলে এল আরেকটি উইকেট। নাসুম আহমেদ তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন কোয়েৎজির হাতেই। তারপর মাঠে নামেন হাসান মাহমুদ। তার সঙ্গে যোগ করেন আরও ৩৯ রান। ৮.১ ওভার এ জুটি হতাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। হাসান ক্যাচ তুলেন রাবাদার বলে। বিদায় নেন তিনি ১৫ রান করে।

ব্যাটসম্যানরা যাওয়া আসার মধ্যে থাকলেও রিয়াদ অন্যপ্রান্ত ঠিকই আগলে রাখছিলেন। হাসানের বিদায়ের পর এই ব্যাটসম্যানকে সঙ্গ দিতে মাঠে নামেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার সঙ্গে গড়েন ৬৮ রানের জুটি। এই জুটির মধ্যেই অনেক ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু রিয়াদ তার ব্যাট ঠিকই চালিয়ে যান। তাতে পেয়ে যান ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা।

রাবাদার বলে লেগ সাইডে খেলে ডাবলস। মাহমুদউল্লাহ ৯৯। এরপর শর্ট বলে ফাইন লেগে খেলে সিঙ্গেলে মাহমুদউল্লাহ পেয়েছেন সেঞ্চুরি! উদ্‌যাপনে লাফ দিয়েছেন, এরপর আঙুল দিয়ে ইশারা করেছেন ওপরের দিকে। এরপর দিয়েছেন সিজদা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিটি পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে টানা দুই ম্যাচে ১০০ পেরিয়েছিলেন।। মাহমুদউল্লাহর পরের সেঞ্চুরিটি ছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ২০১৭ সাল কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই সেঞ্চুরিই ছিল মাহমুদউল্লাহর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বশেষ। আজ আরেকটির দেখা পেলেন তিনি। অথচ বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপের দলেও ছিলেন না তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দলে ফেরানো হয়। এরপর বিশ্বকাপ দলেও জায়গা পান। আগের দুই ম্যাচে লড়াই করলেও ইনিংস বড় করার সুযোগ পাননি সেভাবে। আজ ছয়ে এসেছিলেন। দলের অবস্থা সুবিধার ছিল না মোটেও। এখনো যে আছে, তা নয়। তবে লড়াইটা চালিয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। এমন দিনে ব্যক্তিগত অর্জনই হতে পারে সান্ত্বনা!

১১১ বলে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় তিনি ১১১ রান করে আউট হন। তার বিদায়ের পর আর বেশিক্ষণ টিকেনি বাংলাদেশও। গুটিয়ে যায় ২৩৩ রানে। তাতে নিশ্চিত হয় ১৪৯ রানের জয়।