এক ম্যাচে কত কী! প্রথম ইনিংসে শ্রীলংকার ব্যাটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসে ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ‘টাইমড আউট’ হন। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলংকার ২৮০ রানের লক্ষ্যে সাকিব আল হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে বাংলাদেশের যখন হেসেখেলে জয় পাওয়ার কথা তখনই ৫৯ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এ সময় চলে শ্রীলংকান ক্রিকেটারদের স্লেজিংও। শেষ পর্যন্ত সবকিছু উতড়ে ৫৩ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর টানা ছয় ম্যাচ হারার পর এল এই জয়। যার ফলে পয়েন্ট তালিকাতে সমান পয়েন্ট থাকলেও রান রেটে লংকানদের পেছনে ফেলল বাংলাদেশ। ৮ ম্যাচ শেষ করা দুই দলের পয়েন্টই ৪। বাংলাদেশের রানরেট -১.১৪২ আর শ্রীলংকার -১.১৬০। পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান সাতে, আর শ্রীলংকার আটে। বাংলাদেশ নয় নম্বর থেকে এই স্থানে উঠে আসল। শ্রীলংকা ছাড়াও পেছনে ফেলল নেদারল্যান্ডসকে।
এদিন, শ্রীলংকার দেওয়া ২৮০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৭ ওভারের মধ্যেই হারিয়ে বসে বসেছিল দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও লিটন দাসকে। তৃতীয় উইকেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৪১ রান থেকে দলকে নিয়ে যান ২১১ রান পর্যন্ত এই রানে সাকিবকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। দলের সঙ্গে আর ১ রান যোগ হতে এই ম্যাথিউসের শিকার হয়েই ফেরেন শান্ত। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। তবে ২৪৯ রানে মুশফিক ও ২৫৫ রানে মাহমুদউল্লাহ ফিরলে শুরু হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। এরপর ২৬৯ রানের মাথায় মিরাজ ফিরলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তাওহীদ হৃদয় ৭ বলে ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
এর আগে, নির্ধারিত ৫০ ওভারের ৩ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অলআউট হলেও ২৭৯ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে লংকানরা। প্রথম ওভারেই বিপদে পড়ে শ্রীলংকা। শরিফুল ইসলামের বলে কুশল পেরেরা শট খেলতে গেলে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। সেখানেই লাফ দিয়ে দারুণ এক ক্যাচ লুফে নেন উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। শ্রীলংকার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসকে ১২তম ওভারে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলীয় ৬৬ রানের মাথায় ১৯ রানে থাকা মেন্ডিস তুলে মারলেও বাউন্ডারি লাইন থেকে দারুণ ক্যাচ নেন শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারেই ওভারে পাথুম নিশাঙ্কাকে ইনসাইডেজ বোল্ড করেন বিশ্বকাপ অভিষেক হওয়া তানজিম হাসান সাকিব। নিশাঙ্কা ৩৬ বলে ৪১ রান করেন।
৭২ রানে ৩ উইকেট হারানো শ্রীলংকার হাল এরপর ধরেন সাদিরা সামারাবিক্রামা ও চারিথ আসালাঙ্কা। ১৩৫ রানের মাথায় সাকিব ফেরান সাদিরাকে (৪১)। এরপরই সেই নাটুকে আউট হন ম্যাথিউস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটার হিসেবে কোনো বল না খেলেই টাইমড আউট হন তিনি।
ম্যাথিউসের বিদায়েও একপাশে বাংলাদেশের বোলারদের তুলোধুনো করতে থাকেন চারিথ আসালঙ্কা। ষষ্ঠ উইকেটে ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে নিয়ে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। দলীয় ৩৮তম ওভারের শেষ বলে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দারুণ স্ট্যাম্পিং করেন মুশফিকুর রহিম। শ্রীলংকার রান তখন ২১৩। এরপর মহেশ থিকসানাকে নিয়েও ৪৫ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন আসালঙ্কা। ২৫৮ রানের মাথায় থিকসানার বিদায়ের পর ২৭৮ রানে অবশেষে আসালঙ্কা আউট হন। তবে এরই মধ্যে স্ট্রাইকরেট একশর ওপরে রেখে ১০৮ রান করে ফেলেন তিনি। আসালঙ্কাকে আউট করা সেই ৪৯তম ওভারেই নবম ব্যাটার হিসেবে কাসুন রাজিথাকে ফেরান তানজিম সাকিব। শরিফুল ইসলামের করা পরের ওভারেই অলআউট হয় লংকানরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারের ৩ বল বাকি থাকলেও ২৭৯ রান করে তারা।
বল হাতে দলের সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিলেও এদিন ১০ ওভারে ৮০ রান দেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ৯ ওভার ৩ বল করে ২ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। এছাড়া সাকিবও ২টি এবং মিরাজ নেন ১টি উইকেট।

রিপোর্টারের নাম 

























