অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিহাব মিয়া নামে এক শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুরে নানার বাড়িতে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন সহপাঠীরা।
শিহাবের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুরে উপজেলায়। তার বাবার নাম সাইফুল ইসলাম এবং মাতার নাম বিউটি বেগম। তিন ভাই-বোনের মধ্যে শিহাব ছিলেন সবার বড়।
শিহাবের সহপাঠী আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া রোগে ভুগেছিলেন শিহাব। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসক হাসপাতাল থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় তাকে। বাড়িতে থাকা অবস্থায় শিহাব আজকে আমাদের ছেড়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, শিহাবের মৃত্যুতে সত্যিই আমরা মর্মাহত। আমাদের জন্য তিক্ত সত্য যে ওর মৃত্যুর শূন্যতা এখন বয়ে চলতে হবে। আমরা সহপাঠীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মহান আল্লাহর তায়ালা শিহাবকে যেন জান্নাত নসিব করুক এই প্রার্থনাই করি
শিহাবের মৃত্যুতে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন শোক জানিয়ে বলেন, আমরা আজকে সকালে শুনেছি শিহাব আমাদের মাঝে আর নেই। আমরা সত্যি একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারিয়ে শোকাহত। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিদায় আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
এদিকে তার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া এমন একটি রোগ যাতে অস্থিমজ্জার কোষগুলি যথেষ্ট পরিমাণে নতুন রক্তকোষ উৎপাদন করে না। ফলে রক্তে এই কোষগুলির স্বল্পতা দেখা যায়। অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়াকে বাংলায় অবর্ধক রক্তশূন্যতা বলা হয়। সাধারণত রক্তশূন্যতা বলতে কেবল লোহিত রক্তকণিকার অভাব বোঝালেও, অবর্ধক রক্তশূন্যতায় তিন ধরনের রক্তকোষ- লোহিত কণিকা, শ্বেতকণিকা এবং অণুচক্রিকার উৎপাদন হ্রাস পায়।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























