মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূমিকম্পে ঢাবির মুহসীন হলে খসে পড়ল পলেস্তারা

মাঝারি মানের ভূমিকম্পে কেঁপেছে রাজধানীসহ সারাদেশ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্পে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের বিভিন্ন স্থানে খসে পড়েছে পলেস্তারা। ভেঙে পড়েছে পাঠকক্ষের দরজার গ্লাস। এতে এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫.৬ মাত্রার ভূকম্পন্ন অনুভূত হয়।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাসুদুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতবার ভূমিকম্পে ওই হল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন বুয়েটের বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী হল সংস্কার করা হয়। এবারের বিষয়টিও জানানো হবে কর্তৃপক্ষকে।

এদিকে ভূমিকম্পে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা ভবনের বাইরে ছুটে আসেন।

মুহসীন হলের শিক্ষার্থী আবদূর রহমান জানান, সকালে হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে ভয়ে দৌড়াতে থাকি। কিন্তু নিজেকে রক্ষা করার মত জায়গা ছিল না। মাত্র কয়েকজন নিচে নামতে পেরেছিল। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আমার হাত ছিলে গেছে। এ ভূমিকম্পেই ভবনের কয়েকটি জায়গার প্লাস্টার খসে পড়েছে। আরও বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে কি হবে জানি না, তবে এটা নিশ্চিত অনেক শিক্ষার্থীসহ ভবনটি ধসে পড়তে পারে সহজেই।

অন্য একজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসন ক্যাম্পাসে পার্ক বানাতে বাজেট দিতে পারলেও হল নির্মাণে মেগা প্রজেক্টের দোহাই দেয়। তারা কর্মচারীদের জন্য একাধিক বিশাল ভবন বানালেও শিক্ষার্থীদের জন্য ভাঙাচোরা ভবনই ভালো মনে করে। আমরা অনেকবার প্রশাসনকে জানিয়েছি হলের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় নিয়ে কিন্তু তারা কর্ণপাত করছে না। আরেকটি কালো রাতের অপেক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যেদিন শিক্ষার্থীসহ ভবন মাটিতে মিশে যাবে সেদিন হয়ত প্রশাসনের টনক নড়বে।

তাছাড়া ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কিত হয়ে মুহসীন হলের তৃতীয় তলা থেকে এক শিক্ষার্থী লাফিয়ে পড়েন। তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে সূর্যসেন হলের দোতলা থেকে দুজন শিক্ষার্থী লাফিয়ে পড়েন। তাদের নাম মিনহাজুর রহমান ও পারভেজ আহমেদ। মিনহাজ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ওে পারভেজ ভূগোল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ার ফলে মিনহাজের পা ভেঙে যায় আর পারভেজের পা মচকে যায়। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান বলেন, আজকের ভূমিকম্পে আমাদের হলের কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেমন কেউ আহত হওয়ার খবর আমরা পাইনি। এর আগেরবারের ভূমিকম্পেও আমাদের হলের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তখন বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে দুর্বল স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার করা হয়েছিল। নতুন ভবন নির্মাণের ব্যাপারে আমরা অনেকবার উপরমহলে কথা বলেছি তবে মেগা প্রজেক্ট পাশ হলে তবেই আমরা নতুন ভবন নির্মাণ করতে পারবো।

সারাদেশেই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি পোশাক কারখানার ৭৬ জন পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভূমিকম্পে ঢাবির মুহসীন হলে খসে পড়ল পলেস্তারা

প্রকাশিত সময় : ০৫:২৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

মাঝারি মানের ভূমিকম্পে কেঁপেছে রাজধানীসহ সারাদেশ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্পে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের বিভিন্ন স্থানে খসে পড়েছে পলেস্তারা। ভেঙে পড়েছে পাঠকক্ষের দরজার গ্লাস। এতে এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫.৬ মাত্রার ভূকম্পন্ন অনুভূত হয়।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাসুদুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতবার ভূমিকম্পে ওই হল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন বুয়েটের বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী হল সংস্কার করা হয়। এবারের বিষয়টিও জানানো হবে কর্তৃপক্ষকে।

এদিকে ভূমিকম্পে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা ভবনের বাইরে ছুটে আসেন।

মুহসীন হলের শিক্ষার্থী আবদূর রহমান জানান, সকালে হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে ভয়ে দৌড়াতে থাকি। কিন্তু নিজেকে রক্ষা করার মত জায়গা ছিল না। মাত্র কয়েকজন নিচে নামতে পেরেছিল। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আমার হাত ছিলে গেছে। এ ভূমিকম্পেই ভবনের কয়েকটি জায়গার প্লাস্টার খসে পড়েছে। আরও বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে কি হবে জানি না, তবে এটা নিশ্চিত অনেক শিক্ষার্থীসহ ভবনটি ধসে পড়তে পারে সহজেই।

অন্য একজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসন ক্যাম্পাসে পার্ক বানাতে বাজেট দিতে পারলেও হল নির্মাণে মেগা প্রজেক্টের দোহাই দেয়। তারা কর্মচারীদের জন্য একাধিক বিশাল ভবন বানালেও শিক্ষার্থীদের জন্য ভাঙাচোরা ভবনই ভালো মনে করে। আমরা অনেকবার প্রশাসনকে জানিয়েছি হলের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় নিয়ে কিন্তু তারা কর্ণপাত করছে না। আরেকটি কালো রাতের অপেক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যেদিন শিক্ষার্থীসহ ভবন মাটিতে মিশে যাবে সেদিন হয়ত প্রশাসনের টনক নড়বে।

তাছাড়া ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কিত হয়ে মুহসীন হলের তৃতীয় তলা থেকে এক শিক্ষার্থী লাফিয়ে পড়েন। তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে সূর্যসেন হলের দোতলা থেকে দুজন শিক্ষার্থী লাফিয়ে পড়েন। তাদের নাম মিনহাজুর রহমান ও পারভেজ আহমেদ। মিনহাজ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ওে পারভেজ ভূগোল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ার ফলে মিনহাজের পা ভেঙে যায় আর পারভেজের পা মচকে যায়। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান বলেন, আজকের ভূমিকম্পে আমাদের হলের কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেমন কেউ আহত হওয়ার খবর আমরা পাইনি। এর আগেরবারের ভূমিকম্পেও আমাদের হলের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তখন বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে দুর্বল স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার করা হয়েছিল। নতুন ভবন নির্মাণের ব্যাপারে আমরা অনেকবার উপরমহলে কথা বলেছি তবে মেগা প্রজেক্ট পাশ হলে তবেই আমরা নতুন ভবন নির্মাণ করতে পারবো।

সারাদেশেই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি পোশাক কারখানার ৭৬ জন পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।