রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈসা (আ.) এর ১০ বৈশিষ্ট্য

বনি ইসরাঈলের সর্বশেষ নবী ও কিতাবধারী রাসূল ছিলেন ঈসা (আ.)। তার ওপর অবতীর্ণ কিতাবের নাম ইনজিল। তার পর থেকে শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আবির্ভাব পর্যন্ত আর কোনো নবী আগমন করেননি। এই সময়টাকে ‘রাসূল আগমনের বিরতিকাল’ বলা হয়।

ঈসা (আ.) সম্পর্কে পবিত্র কোরআনুল কারিমে মোট ১৫টি সূরায় ৯৮টি আয়াত বর্ণিত হয়েছে। কিছু আয়াতে ঈসা (আ.) এর কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো-

(১) তিনি ছিলেন পিতাবিহীন একমাত্র নবী। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৬)

(২) আল্লাহ স্বয়ং তার নাম রেখেছেন ঈসা মাসিহ। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৫)

(৩) তিনি শয়তানের অনিষ্টতা থেকে মুক্ত ছিলেন। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৩৬-৩৭)

(৪) দুনিয়া ও আখিরাতে তিনি ছিলেন মহাসম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর একান্ত প্রিয়জনদের অন্যতম। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৫)

(৫) তিনি মাতৃক্রোড়ে থেকেই সারগর্ভ বক্তব্য দেন। (সূরা: মারইয়াম, আয়াত: ২৭-৩৩, সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৬)

(৬) তিনি বনি ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৯) এবং শেষ নবী ‘আহমাদ’ (সা.) এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। (সূরা: ছফ, আয়াত: ৬)

(৭) ঈসা (আ.)-কে বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হলো-

(ক) তিনি মাটির তৈরি পাখিতে ফুঁক দিলেই তা জীবন্ত হয়ে উড়ে যেত।

(খ) তিনি জন্মান্ধকে চক্ষুষ্মান ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করতে পারতেন।

(গ) তিনি মৃতকে জীবিত করতে পারতেন।

(ঘ) তিনি বলে দিতে পারতেন, মানুষ বাড়ি থেকে যা খেয়ে আসে এবং যা সে ঘরে সঞ্চিত রেখে আসে। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৯, সূরা: মায়িদা, আয়াত : ১১০)

(৮) তিনি আল্লাহর কিতাব ইনজিল লাভ করেছিলেন এবং আগের গ্রন্থ তাওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। তবে তাওরাতে হারামকৃত অনেক বিষয়কে তিনি আল্লাহর হুকুমে হালাল করেন। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৫০)

(৯) আল্লাহ তাকে সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেন। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৫২, ৫৪, ৫৫, সূরা: নিসা, আয়াত: ১৫৮)

(১০) তিনিই একমাত্র নবী, যাকে মহান আল্লাহ জীবিত অবস্থায় দুনিয়া থেকে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। শত্রুরা তারই মতো আরেকজনকে সন্দেহের বশে শূলে চড়িয়ে হত্যা করে এবং তারা নিশ্চিতভাবেই ঈসাকে হত্যা করতে পারেনি। (সূরা: নিসা, আয়াত: ১৫৭)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

ঈসা (আ.) এর ১০ বৈশিষ্ট্য

প্রকাশিত সময় : ০৩:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

বনি ইসরাঈলের সর্বশেষ নবী ও কিতাবধারী রাসূল ছিলেন ঈসা (আ.)। তার ওপর অবতীর্ণ কিতাবের নাম ইনজিল। তার পর থেকে শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আবির্ভাব পর্যন্ত আর কোনো নবী আগমন করেননি। এই সময়টাকে ‘রাসূল আগমনের বিরতিকাল’ বলা হয়।

ঈসা (আ.) সম্পর্কে পবিত্র কোরআনুল কারিমে মোট ১৫টি সূরায় ৯৮টি আয়াত বর্ণিত হয়েছে। কিছু আয়াতে ঈসা (আ.) এর কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো-

(১) তিনি ছিলেন পিতাবিহীন একমাত্র নবী। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৬)

(২) আল্লাহ স্বয়ং তার নাম রেখেছেন ঈসা মাসিহ। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৫)

(৩) তিনি শয়তানের অনিষ্টতা থেকে মুক্ত ছিলেন। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৩৬-৩৭)

(৪) দুনিয়া ও আখিরাতে তিনি ছিলেন মহাসম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর একান্ত প্রিয়জনদের অন্যতম। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৫)

(৫) তিনি মাতৃক্রোড়ে থেকেই সারগর্ভ বক্তব্য দেন। (সূরা: মারইয়াম, আয়াত: ২৭-৩৩, সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৬)

(৬) তিনি বনি ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৯) এবং শেষ নবী ‘আহমাদ’ (সা.) এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। (সূরা: ছফ, আয়াত: ৬)

(৭) ঈসা (আ.)-কে বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হলো-

(ক) তিনি মাটির তৈরি পাখিতে ফুঁক দিলেই তা জীবন্ত হয়ে উড়ে যেত।

(খ) তিনি জন্মান্ধকে চক্ষুষ্মান ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করতে পারতেন।

(গ) তিনি মৃতকে জীবিত করতে পারতেন।

(ঘ) তিনি বলে দিতে পারতেন, মানুষ বাড়ি থেকে যা খেয়ে আসে এবং যা সে ঘরে সঞ্চিত রেখে আসে। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৪৯, সূরা: মায়িদা, আয়াত : ১১০)

(৮) তিনি আল্লাহর কিতাব ইনজিল লাভ করেছিলেন এবং আগের গ্রন্থ তাওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। তবে তাওরাতে হারামকৃত অনেক বিষয়কে তিনি আল্লাহর হুকুমে হালাল করেন। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৫০)

(৯) আল্লাহ তাকে সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেন। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৫২, ৫৪, ৫৫, সূরা: নিসা, আয়াত: ১৫৮)

(১০) তিনিই একমাত্র নবী, যাকে মহান আল্লাহ জীবিত অবস্থায় দুনিয়া থেকে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। শত্রুরা তারই মতো আরেকজনকে সন্দেহের বশে শূলে চড়িয়ে হত্যা করে এবং তারা নিশ্চিতভাবেই ঈসাকে হত্যা করতে পারেনি। (সূরা: নিসা, আয়াত: ১৫৭)