মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকতার মূল কথা হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা

সাংবাদিকতার মূল কথা হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। যেকোনো ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির মত প্রকাশের অধিকার থাকা। স্বাধীনতা প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উচিত অন্যজনকে হেয় না করে এবং মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে না বলা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) “শতবর্ষে আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার প্রাসঙ্গিকতা” শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় (২৪ জানুয়ারি) প্রধান অতিথি দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম এসব কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে আরো বলেন, সাংবাদিকতা হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। কেউ কায়িক শ্রম দিয়ে জীবন -যাপন করতে পারে কিন্তু মানুষ হিসেবে সঠিকভাবে জীবন-যাপন করার ক্ষমতা কম যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা চিন্তার স্বাধীনতা না থাকে। তিনি শহীদ আবুল মনসুর আহমেদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, মনসুর আহমেদকে ভালোভাবে জানতে হলে তার লেখা আত্নকথা, আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর পড়তে হবে৷ প্রতিটি মানুষের মধ্যে তার মূল্যবোধ ধারন করতে হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে “শতবর্ষে আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার প্রাসঙ্গিকতা” প্রবন্ধের লেখক এবং সাংবাদিক ও গবেষক ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, আবুল মনসুর আহমেদ আজীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলেন। তার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি ১৯২৩ সালে ছোলতান পত্রিকার মাধ্যমে সহ সম্পাদক হিসেবে। এসময় রাজনৈতিক স্যাটায়ার করে প্রবন্ধ লেখেন ‘ছহি বড়ো তৈয়বনামা’। দ্বিতীয় দীর্ঘ দার্শনিক রাজনৈতিক প্রবন্ধটি ‘সভ্যতার দ্বৈতশাসন’। দ্বিতীয়বার যুক্ত হন “মোহাম্মদী” পত্রিকায়। পরে সত্যাগ্রাহী, দি মুসলমান এবং খাদেম পত্রিকায় সহ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। মাঝখানে ৯ বছর বিরতির পরে জাতীয়ভাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন কৃষক পত্রিকার মাধ্যমে। এরপর এ.কে ফজলুল হকের “নবযুগে” শ্যাডো এডিটর হিসেবে নিযুক্ত হন,যেখানে সম্পাদক হিসেবে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন,ইত্তেহাদকে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কথা বলায় কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তের চেষ্টা করা হলেও ক্ষমতাসীনদের চাপে সম্ভব হয়ে ওঠে নি। ইত্তেহাদের মাধ্যমে আবুল মনসুর আহমেদ একটি পত্রিকা জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পিছনে কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে আনেন। এর মাধ্যমে চর্চার যে নমুনা হাজির তিনি করেছিলেন একদা তার অনুশীলন ও অনুসরণ জারি আছে আজোবধি, থাকবে আগামীতেও। এবং এসবের মধ্যেই নীরবে-নিভৃতে আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার প্রাসঙ্গিকতা দেদীপ্যমান রয়েছে। আলোচনাসভায় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রাবন্ধিক- লেখক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন লেখক ও দৈনিক সমকালের প্ল্যানিং এডিটর ফারুক ওয়াসিফ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর তানভীর আহমদ এবং আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পরিষদ, ঢাকার আহ্বায়ক এবং কবি ইমরান মাহফুজ।

উল্লেখ্য খ্যাতনামা সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও লেখক আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার শতবর্ষ উপলক্ষে রাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পরিষদের যৌথ আয়োজনে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকতার মূল কথা হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা

প্রকাশিত সময় : ১০:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪

সাংবাদিকতার মূল কথা হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। যেকোনো ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির মত প্রকাশের অধিকার থাকা। স্বাধীনতা প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উচিত অন্যজনকে হেয় না করে এবং মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে না বলা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) “শতবর্ষে আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার প্রাসঙ্গিকতা” শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় (২৪ জানুয়ারি) প্রধান অতিথি দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম এসব কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে আরো বলেন, সাংবাদিকতা হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। কেউ কায়িক শ্রম দিয়ে জীবন -যাপন করতে পারে কিন্তু মানুষ হিসেবে সঠিকভাবে জীবন-যাপন করার ক্ষমতা কম যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা চিন্তার স্বাধীনতা না থাকে। তিনি শহীদ আবুল মনসুর আহমেদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, মনসুর আহমেদকে ভালোভাবে জানতে হলে তার লেখা আত্নকথা, আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর পড়তে হবে৷ প্রতিটি মানুষের মধ্যে তার মূল্যবোধ ধারন করতে হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে “শতবর্ষে আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার প্রাসঙ্গিকতা” প্রবন্ধের লেখক এবং সাংবাদিক ও গবেষক ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, আবুল মনসুর আহমেদ আজীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলেন। তার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি ১৯২৩ সালে ছোলতান পত্রিকার মাধ্যমে সহ সম্পাদক হিসেবে। এসময় রাজনৈতিক স্যাটায়ার করে প্রবন্ধ লেখেন ‘ছহি বড়ো তৈয়বনামা’। দ্বিতীয় দীর্ঘ দার্শনিক রাজনৈতিক প্রবন্ধটি ‘সভ্যতার দ্বৈতশাসন’। দ্বিতীয়বার যুক্ত হন “মোহাম্মদী” পত্রিকায়। পরে সত্যাগ্রাহী, দি মুসলমান এবং খাদেম পত্রিকায় সহ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। মাঝখানে ৯ বছর বিরতির পরে জাতীয়ভাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন কৃষক পত্রিকার মাধ্যমে। এরপর এ.কে ফজলুল হকের “নবযুগে” শ্যাডো এডিটর হিসেবে নিযুক্ত হন,যেখানে সম্পাদক হিসেবে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন,ইত্তেহাদকে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কথা বলায় কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তের চেষ্টা করা হলেও ক্ষমতাসীনদের চাপে সম্ভব হয়ে ওঠে নি। ইত্তেহাদের মাধ্যমে আবুল মনসুর আহমেদ একটি পত্রিকা জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পিছনে কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে আনেন। এর মাধ্যমে চর্চার যে নমুনা হাজির তিনি করেছিলেন একদা তার অনুশীলন ও অনুসরণ জারি আছে আজোবধি, থাকবে আগামীতেও। এবং এসবের মধ্যেই নীরবে-নিভৃতে আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার প্রাসঙ্গিকতা দেদীপ্যমান রয়েছে। আলোচনাসভায় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রাবন্ধিক- লেখক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন লেখক ও দৈনিক সমকালের প্ল্যানিং এডিটর ফারুক ওয়াসিফ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর তানভীর আহমদ এবং আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পরিষদ, ঢাকার আহ্বায়ক এবং কবি ইমরান মাহফুজ।

উল্লেখ্য খ্যাতনামা সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও লেখক আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার শতবর্ষ উপলক্ষে রাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পরিষদের যৌথ আয়োজনে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।