মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩-এ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

নাসা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩-এর বেস্ট স্টোরি টেলিং ক্যাটাগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের টিম ভয়েজার্স।

এ নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় টানা তিনবার এবং সর্বমোট চতুর্থবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-নাসা আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের ৩১৩টি শহরে এবারের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩ প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন করছে, যেখানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) বাংলাদেশের ৯টি শহরে দশমবারের মতো (ঢাকা, চট্টগ্রাম সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লা) এর আয়োজন করে।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে এবার ১ কোটি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত করার পাশাপাশি ২ লাখ শিক্ষার্থীদের সরাসরি ও অনলাইন প্রতিযোগিতায় যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায়, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩-এ বাংলাদেশ পর্বে ৯টি শহর থেকে ২ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশ নেয়।

সেখান থেকে শীর্ষ ২০৮টি প্রকল্পের মধ্যে হাইব্রিড মডেলে শীর্ষ ৫০টি প্রকল্প নিয়ে ইন্ডিপেন্ডেট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-তে এবং বাকি প্রকল্প নিয়ে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় গত ৬-৭ অক্টোবর দুইদিনব্যাপী হ্যাকাথন।

এবারের প্রতিযোগিতায় ১৫২টি দেশ থেকে ৩০টি ক্যাটেগরিতে ৮ হাজার ৭১৫ টি দলের ৫৭ হাজার ৯৯৯ জন বিভিন্ন বয়স, পটভূমি, আগ্রহ এবং দক্ষতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করেন।

যা এখন পর্যন্ত নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় আয়োজন। বিশ্বের সর্বমোট ৫ হাজার ৫৫৬টি প্রজেক্টের মধ্যে, বাংলাদেশ অতুলনীয় উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে যা মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদীয়মান প্রতিভার অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ভয়েজার্স-এর প্রজেক্টের মূল প্রতিপাদ্য এভরিথিং স্টার্টস উইথ ওয়াটার। পৃথিবীতে ৩৭০ কোয়িন্টিলিয়ন গ্যালন পানি রয়েছে, তবে এর মধ্যে আমাদের ব্যবহার্য নিরাপদ পানির পরিমাণ শুধু ০.০১ শতাংশ।

তাদের মিশন ছিল পৃথিবীতে সম্পূর্ণ পানি প্রবাহের পথ বোঝানোর জন্য একটি সরঞ্জাম তৈরি করা, যা ছাত্রছাত্রীদেরকে পৃথিবীর সিস্টেমে পানির প্রবাহ পথ এবং এই অমূল্য সম্পদ কীভাবে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে তা বোঝানো।

বিশ্বজয়ী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ভয়েজার্স-এর দলনেতা খালিদ সাকিব। তার দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন আব্দুল মালেক, সাখাওয়াত হোসেন, ফাহমিদা আক্তার এবং আতিক।

দলনেতা খালিদ সাকিব বলেন, ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করা থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া, ‘এই যাত্রাটা এতো সহজ ছিল না আমাদের জন্য।

তবে এখন বিশ্ব দরবারে নিজের দেশের নাম তুলে ধরতে পেরে আমরা প্রত্যেকেই আজ অনেক গর্বিত, আলহামদুলিল্লাহ।

এত বড় একটা অর্জনে সবসময় আমাদের পাশে থাকায় বাংলাদেশ পর্বের আয়োজক বেসিস কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩-এ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪

নাসা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩-এর বেস্ট স্টোরি টেলিং ক্যাটাগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের টিম ভয়েজার্স।

এ নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় টানা তিনবার এবং সর্বমোট চতুর্থবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-নাসা আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের ৩১৩টি শহরে এবারের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩ প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন করছে, যেখানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) বাংলাদেশের ৯টি শহরে দশমবারের মতো (ঢাকা, চট্টগ্রাম সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লা) এর আয়োজন করে।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে এবার ১ কোটি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত করার পাশাপাশি ২ লাখ শিক্ষার্থীদের সরাসরি ও অনলাইন প্রতিযোগিতায় যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায়, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩-এ বাংলাদেশ পর্বে ৯টি শহর থেকে ২ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশ নেয়।

সেখান থেকে শীর্ষ ২০৮টি প্রকল্পের মধ্যে হাইব্রিড মডেলে শীর্ষ ৫০টি প্রকল্প নিয়ে ইন্ডিপেন্ডেট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-তে এবং বাকি প্রকল্প নিয়ে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় গত ৬-৭ অক্টোবর দুইদিনব্যাপী হ্যাকাথন।

এবারের প্রতিযোগিতায় ১৫২টি দেশ থেকে ৩০টি ক্যাটেগরিতে ৮ হাজার ৭১৫ টি দলের ৫৭ হাজার ৯৯৯ জন বিভিন্ন বয়স, পটভূমি, আগ্রহ এবং দক্ষতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করেন।

যা এখন পর্যন্ত নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় আয়োজন। বিশ্বের সর্বমোট ৫ হাজার ৫৫৬টি প্রজেক্টের মধ্যে, বাংলাদেশ অতুলনীয় উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে যা মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদীয়মান প্রতিভার অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ভয়েজার্স-এর প্রজেক্টের মূল প্রতিপাদ্য এভরিথিং স্টার্টস উইথ ওয়াটার। পৃথিবীতে ৩৭০ কোয়িন্টিলিয়ন গ্যালন পানি রয়েছে, তবে এর মধ্যে আমাদের ব্যবহার্য নিরাপদ পানির পরিমাণ শুধু ০.০১ শতাংশ।

তাদের মিশন ছিল পৃথিবীতে সম্পূর্ণ পানি প্রবাহের পথ বোঝানোর জন্য একটি সরঞ্জাম তৈরি করা, যা ছাত্রছাত্রীদেরকে পৃথিবীর সিস্টেমে পানির প্রবাহ পথ এবং এই অমূল্য সম্পদ কীভাবে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে তা বোঝানো।

বিশ্বজয়ী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ভয়েজার্স-এর দলনেতা খালিদ সাকিব। তার দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন আব্দুল মালেক, সাখাওয়াত হোসেন, ফাহমিদা আক্তার এবং আতিক।

দলনেতা খালিদ সাকিব বলেন, ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করা থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া, ‘এই যাত্রাটা এতো সহজ ছিল না আমাদের জন্য।

তবে এখন বিশ্ব দরবারে নিজের দেশের নাম তুলে ধরতে পেরে আমরা প্রত্যেকেই আজ অনেক গর্বিত, আলহামদুলিল্লাহ।

এত বড় একটা অর্জনে সবসময় আমাদের পাশে থাকায় বাংলাদেশ পর্বের আয়োজক বেসিস কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।’