বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবীনদের বরণ করে নিল রাবি স্বনন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নবীনদের বরণ করে নিয়েছে রাবির আবৃত্তি সংগঠন স্বনন। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল পাচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের সামনে নবীনদের বরণ করে নেয় স্বনন। স্বননের আহবায়ক মিজান শেখ এবং সিনিয়র সদস্য কবি মোহাম্মদ কামাল, তাপস কুমার মজুমদার এসময় নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। নবীনবরণে স্বননের আহবায়ক মিজান শেখ বলেন, বাংলাদেশের সাংগঠনিক আবৃত্তিচর্চার প্রথম সংগঠন স্বনন। সারা বাংলাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বে শুদ্ধ বাংলা ছড়িয়ে দিতে স্বননের আবৃত্তি শিল্পী’রা অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। কবিতার ছাই উসকে আগুন উড়ায় স্বননের সকল আবৃত্তিযোদ্ধারা । মানবতা, মাতৃভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বননকর্মীরা সর্বদা উদ্বুদ্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় স্বনন প্রতিবছর নতুন সদস্য যুক্ত করে থাকে। আমি আশাবাদী, স্বনন আজ যাদের বরণ করে নিল, তারাও একদিন আবৃত্তির মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। পরে স্বননের সিনিয়র সদস্য কবি মোহাম্মদ কামাল বলেন, স্বনন একটি শব্দ। এটি কিন্তু আমাদের কাছে শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়। স্বননের প্রতীকটি এঁকেছিলেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হাশেম খান। এই ছবিটি আমাদের মনের ভিতরে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে চোখ বন্ধ করলেও আমরা তা দেখতে পাই। স্বনন আমাদের রুচিশীলতার প্রতীক। তোমাদের কাছে চাওয়া থাকবে তোমরা স্বননকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। স্বনন যেন তার স্বমহিমায় উজ্জ্বল থাকতে পারে। এসময় স্বননের আরেক সিনিয়র সদস্য তাপস কুমার মজুমদার বলেন,আজকের নবীন বরণে একসাথে এত নবীন সদস্য দেখে আমার সত্যিই ভালো লাগছে। মাঝখানে করোনার কারণে স্বননের কার্যক্রম অনেকটাই বিঘ্নিত হয়েছে।অনেক সদস্য কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। আমাদের এখানে এখন বছরে দুবার সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তোমাদের দায়িত্ব এখন অনেক। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের অন্ধবিশ্বাস, অন্ধভক্তি পরিত্যাগ করা উচিত। স্বনন সবসময় এই বিষয় গুলোতে গুরুত্বারোপ করে। স্বননের উদ্দেশ্য একজন সুস্থ, সচেতন এবং যুক্তিবাদী মানুষ তৈরি করা। শুধুমাত্র কবিতা আবৃত্তির মধ্যেই আমরা সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। উল্লেখ্য স্বনন বাংলাদেশের প্রাচীনতম আবৃত্তি সংগঠন। স্বননের পথচলার শুরু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।বিভিন্ন দিবসে এবং নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজন করে স্বনন। এছাড়া প্রতি বছর উদযাপন করে উৎসবমুখর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বছরে দু বার অডিশনের মাধ্যমে কর্মী নেয় স্বনন। প্রতিদিন বিকেলে মমতাজউদ্দিন কলাভবনের পূর্বদিকের বারান্দায় আবৃত্তির মহড়া করেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নবীনদের বরণ করে নিল রাবি স্বনন

প্রকাশিত সময় : ১১:০৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নবীনদের বরণ করে নিয়েছে রাবির আবৃত্তি সংগঠন স্বনন। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল পাচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের সামনে নবীনদের বরণ করে নেয় স্বনন। স্বননের আহবায়ক মিজান শেখ এবং সিনিয়র সদস্য কবি মোহাম্মদ কামাল, তাপস কুমার মজুমদার এসময় নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। নবীনবরণে স্বননের আহবায়ক মিজান শেখ বলেন, বাংলাদেশের সাংগঠনিক আবৃত্তিচর্চার প্রথম সংগঠন স্বনন। সারা বাংলাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বে শুদ্ধ বাংলা ছড়িয়ে দিতে স্বননের আবৃত্তি শিল্পী’রা অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। কবিতার ছাই উসকে আগুন উড়ায় স্বননের সকল আবৃত্তিযোদ্ধারা । মানবতা, মাতৃভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বননকর্মীরা সর্বদা উদ্বুদ্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় স্বনন প্রতিবছর নতুন সদস্য যুক্ত করে থাকে। আমি আশাবাদী, স্বনন আজ যাদের বরণ করে নিল, তারাও একদিন আবৃত্তির মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। পরে স্বননের সিনিয়র সদস্য কবি মোহাম্মদ কামাল বলেন, স্বনন একটি শব্দ। এটি কিন্তু আমাদের কাছে শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়। স্বননের প্রতীকটি এঁকেছিলেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হাশেম খান। এই ছবিটি আমাদের মনের ভিতরে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে চোখ বন্ধ করলেও আমরা তা দেখতে পাই। স্বনন আমাদের রুচিশীলতার প্রতীক। তোমাদের কাছে চাওয়া থাকবে তোমরা স্বননকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। স্বনন যেন তার স্বমহিমায় উজ্জ্বল থাকতে পারে। এসময় স্বননের আরেক সিনিয়র সদস্য তাপস কুমার মজুমদার বলেন,আজকের নবীন বরণে একসাথে এত নবীন সদস্য দেখে আমার সত্যিই ভালো লাগছে। মাঝখানে করোনার কারণে স্বননের কার্যক্রম অনেকটাই বিঘ্নিত হয়েছে।অনেক সদস্য কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। আমাদের এখানে এখন বছরে দুবার সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তোমাদের দায়িত্ব এখন অনেক। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের অন্ধবিশ্বাস, অন্ধভক্তি পরিত্যাগ করা উচিত। স্বনন সবসময় এই বিষয় গুলোতে গুরুত্বারোপ করে। স্বননের উদ্দেশ্য একজন সুস্থ, সচেতন এবং যুক্তিবাদী মানুষ তৈরি করা। শুধুমাত্র কবিতা আবৃত্তির মধ্যেই আমরা সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। উল্লেখ্য স্বনন বাংলাদেশের প্রাচীনতম আবৃত্তি সংগঠন। স্বননের পথচলার শুরু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।বিভিন্ন দিবসে এবং নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজন করে স্বনন। এছাড়া প্রতি বছর উদযাপন করে উৎসবমুখর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বছরে দু বার অডিশনের মাধ্যমে কর্মী নেয় স্বনন। প্রতিদিন বিকেলে মমতাজউদ্দিন কলাভবনের পূর্বদিকের বারান্দায় আবৃত্তির মহড়া করেন তারা।