মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় ইজিসি সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৩ মে ২০২৪ (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের মক ট্রায়াল রুমে এ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ। বিশেষ অতিথি ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র সহকারী জজ জনাব মো. সিফাতউল্লাহ ।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের “মুট কোর্ট ক্লাব” এর আয়োজনে গত ১৬ মার্চ শুরু হয় ইন্টার সেমিস্টার মুট কোর্ট কম্পিটিশন স্প্রিং ২০২৪ । যার চুড়ান্ত আসর অনুষ্ঠিত ও ফলাফল প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার (২৩ই মে)।
মুট কোট প্রতিযোগিতায় মূলত আদালত সাজানো হয়। আইনজীবী হোন শিক্ষার্থীরা। মামলার ঘটনা কাল্পনিক বা সত্যও হতে পারে। এই সাজানো আদালতে প্রতিযোগীরা সাজানো মামলা লড়েন। এই ছায়া আদালতটিই ‘মুট কোর্ট’। একটি দল থেকে ৩ সদস্যের মধ্যে ২ জন থাকেন মুটার বা বিতার্কিক এবং একজন রিসার্চার বা গবেষক।
এবারের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত টিম সি, যাদের প্রথম মুটার- মিফতা মালিহা (৩২তম ব্যাচ), দ্বিতীয় মুটার-মারজান রহমান (৩২তম ব্যাচ) এবং রিসার্চার-জাকিরুল ইসলাম (২৯তম ব্যাচ)। রানার্সআপ নির্বাচিত টিম ডি। যাদের প্রথম মুটার: সামিলা মেহজাবিন শাইলা (৩১তম ব্যাচ), দ্বিতীয় মুটার: রুকসান মুহাম্মদ আকিবুন আশরার (৩১তম ব্যাচ) এবং রিসার্চার মিম খাতুন (৩০তম ব্যাচ)। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ছাড়াও আরও বেশ কিছু পুরস্কারের প্রচলন আছে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতার শুরুতে দলের পক্ষ থেকে আদালতে লিখিত যুক্তিতর্ক (আরগুমেন্ট) জমা দিতে হয়। এতে যারা বেশি স্কোর অর্জন করেন তারা পায় ‘বেস্ট মেমোরিয়াল’ পুরস্কার। এ পুরষ্কার অর্জন করেছে টিম ডি।
বক্তব্য দেওয়ার সময় মুটারদের বক্তব্যের সমর্থনে আইনের বইপুস্তক ও আইনগত দলিলপত্র আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন দলের রিসার্চার। ‘বেস্ট রিসার্চার’ পুরষ্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ বিন আদিব (২৮তম ব্যাচ)। বেস্ট মুটার হয়েছেন মারজান রহমান। এ প্রতিযোগিতায় মেমোরিয়াল জমাদানকারী প্রত্যেক টিমের সদস্যরা অর্জন করেছে অংশগ্রহণ সনদ।
প্রতিযোগীতার সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ (কো-অর্ডিনেটর, আইন ও মানবাধিকার বিভাগ)। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা। উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ফয়জার রহমান, রেজিস্ট্রার সুরঞ্জিত মন্ডল , আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষক , শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুটার প্রতিযোগিতায় মুটিং ও রিসার্চ দেখে আমি অভিভূত।’ তিনি এবং আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগ থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান আইনজীবী ও বিচারক বের হবে বলে তিনি আশা ব্যাক্ত করেন।
বক্তব্য শেষে অতিথিগণ প্রতিযোগীদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় ইজিসি সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ

প্রকাশিত সময় : ০৫:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৩ মে ২০২৪ (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের মক ট্রায়াল রুমে এ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ। বিশেষ অতিথি ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র সহকারী জজ জনাব মো. সিফাতউল্লাহ ।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের “মুট কোর্ট ক্লাব” এর আয়োজনে গত ১৬ মার্চ শুরু হয় ইন্টার সেমিস্টার মুট কোর্ট কম্পিটিশন স্প্রিং ২০২৪ । যার চুড়ান্ত আসর অনুষ্ঠিত ও ফলাফল প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার (২৩ই মে)।
মুট কোট প্রতিযোগিতায় মূলত আদালত সাজানো হয়। আইনজীবী হোন শিক্ষার্থীরা। মামলার ঘটনা কাল্পনিক বা সত্যও হতে পারে। এই সাজানো আদালতে প্রতিযোগীরা সাজানো মামলা লড়েন। এই ছায়া আদালতটিই ‘মুট কোর্ট’। একটি দল থেকে ৩ সদস্যের মধ্যে ২ জন থাকেন মুটার বা বিতার্কিক এবং একজন রিসার্চার বা গবেষক।
এবারের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত টিম সি, যাদের প্রথম মুটার- মিফতা মালিহা (৩২তম ব্যাচ), দ্বিতীয় মুটার-মারজান রহমান (৩২তম ব্যাচ) এবং রিসার্চার-জাকিরুল ইসলাম (২৯তম ব্যাচ)। রানার্সআপ নির্বাচিত টিম ডি। যাদের প্রথম মুটার: সামিলা মেহজাবিন শাইলা (৩১তম ব্যাচ), দ্বিতীয় মুটার: রুকসান মুহাম্মদ আকিবুন আশরার (৩১তম ব্যাচ) এবং রিসার্চার মিম খাতুন (৩০তম ব্যাচ)। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ছাড়াও আরও বেশ কিছু পুরস্কারের প্রচলন আছে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতার শুরুতে দলের পক্ষ থেকে আদালতে লিখিত যুক্তিতর্ক (আরগুমেন্ট) জমা দিতে হয়। এতে যারা বেশি স্কোর অর্জন করেন তারা পায় ‘বেস্ট মেমোরিয়াল’ পুরস্কার। এ পুরষ্কার অর্জন করেছে টিম ডি।
বক্তব্য দেওয়ার সময় মুটারদের বক্তব্যের সমর্থনে আইনের বইপুস্তক ও আইনগত দলিলপত্র আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন দলের রিসার্চার। ‘বেস্ট রিসার্চার’ পুরষ্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ বিন আদিব (২৮তম ব্যাচ)। বেস্ট মুটার হয়েছেন মারজান রহমান। এ প্রতিযোগিতায় মেমোরিয়াল জমাদানকারী প্রত্যেক টিমের সদস্যরা অর্জন করেছে অংশগ্রহণ সনদ।
প্রতিযোগীতার সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ (কো-অর্ডিনেটর, আইন ও মানবাধিকার বিভাগ)। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা। উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ফয়জার রহমান, রেজিস্ট্রার সুরঞ্জিত মন্ডল , আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষক , শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুটার প্রতিযোগিতায় মুটিং ও রিসার্চ দেখে আমি অভিভূত।’ তিনি এবং আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগ থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান আইনজীবী ও বিচারক বের হবে বলে তিনি আশা ব্যাক্ত করেন।
বক্তব্য শেষে অতিথিগণ প্রতিযোগীদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন।