উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না দিয়ে সরকার ‘খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
রবিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জীবন-সংগ্রামের ওপর লেখা এক গ্রন্থ প্রকাশনার অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেছেন, উনার চিকিৎসার ব্যাপারে বাংলাদেশের ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিয়েছেন, তারা বলছেন, তাকে অবিলম্বে বিদেশে নেয়া দরকার। অথচ বারবার, বারবার বলার পরেও জেনেশুনে একটা মানুষকে কিভাবে হত্যা করা হচ্ছে এটা ইতিহাস সাক্ষী হয়ে থাকবে।
আব্বাস বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি কথা বলতেই হয় অন্যভাবে যে, মুহূর্তের আনন্দঘন মন থাকে বেদনাবিধুর। যার সম্পর্কে কথা বলছি, তিনি(খালেদা জিয়া) কিন্তু আমাদের মাঝে এখানে নাই। উনাকে আমাদের সামনে আসতে দেয়া হয় না, তাকে কথা বলতে দেয়া হয় না। যখন সুযোগ আসবে এসব কিছুর ইনশাল্লাহ তাদের বিচার হবে’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মির্জা আব্বাস।
গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছেন তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড। গুরুতর অসুস্থ হয়ে কিছু দিন পরপর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
৭৯ বয়েসি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হৃদ্রোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিস, আর্থরাইটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ড কয়েকবার বিএনপি চেয়ারপারসনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে নেয়ার সুপারিশ করেছেন।
গুলশানে হোটেল লেকশোরে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ‘র লেখা ইংরেজি গ্রন্থ ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইভ, হার স্টোরি’ এর বাংলা সংস্করণ ‘খালেদা জিয়া : জীবন ও সংগ্রাম’ শীর্ষক গ্রন্থে প্রকাশনা উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। ইতি প্রকাশনা ৬৭০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে। শাহরিয়ার সুলতান ইংরেজি এই গ্রস্থটি অনুবাদ করেন। গ্রন্থটির মূল্য দুই হাজার টাকা।
প্রকাশনার অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামী মজিবুর রহমান, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, সাম্যবাদী দল(মার্কবাদী-লেলিনবাদী) হারুন চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের নূরুল হক নূর, জাগপা খন্দকার লুৎফুর রহমান, ইকবাল হোসেন প্রধান, এনডিপির আবু তাহের, পিপলস পার্টির বাবুল সর্দার চাখারি, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম,বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকী, বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, মনিরুল হক চৌধুরী, আবদুস সালাম, আফরোজা খানম রীতা, এসএম আবদুল হালিম, হাবিবুর রহমান হাবিব, অধ্যাপক শাহিদা রফিক, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, বিজন কান্তি সরকার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, জহির উদ্দিন স্বপন, শ্যমা ওবায়েদ, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস আফরোজা আব্বাস, শিরিন সুলতানা, নিলোফার চৌধুরী মনি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম, অধ্যাপক আনম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টারের নাম 
























