শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের নতুন সরকারের কাছে যে প্রত্যাশার কথা জানালেন মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ভারতের নতুন সরকার সম্পর্কে বলার আমার একটাই কথা- ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। নিঃসন্দেহে আমাদের অনেক প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ। আমরা ভারতের নতুন সরকারের কাছে একটাই আশা করব, তাদের দেশে যেভাবে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, এখনও তাদের নির্বাচন কমিশন যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাদের বিচার বিভাগ যেভাবে কাজ করতে পারে; আমরা ১৯৭১ সালে যেই লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা দেশে গণতন্ত্রকে সেইভাবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যেটা প্রত্যাশা, ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের জনগণের যে প্রত্যাশা সেই প্রত্যাশাকে তারা মর্যাদা দিবেন, সেইভাবেই তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবেন।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, সেখানে আমার পুরোনো এক ইউনিভার্সিটির বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি এখন রাজনীতি থেকে দূরে আছেন। তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী লীগ করেছেন, এমপিও হয়েছে- কিন্তু এখন প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে সরে আছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘‘তুমি রাজনীতি করছ না কেন?’’ তিনি বলেন, ‘কোন রাজনীতি করব?’’ আমি বললাম, ‘‘আওয়ামী লীগ করবা।’’ তিনি বললেন, ‘‘আওয়ামী লীগ কি আর আওয়ামী লীগ আছে? এটাতো এখন আজিজ আর বেনজীরের আওয়ামী লীগ’’।’

তিনি বলেন, ‘এই যে দেখুন একজন আওয়ামী লীগের নেতার উপলব্ধি। এটাই বাস্তবতা। আজকে আওয়ামী লীগ সেই আওয়ামী লীগ নেই।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এদের সম্পূর্ণ বাজেটটাই হচ্ছে তাদের লুটপাটের। এ সরকারের ক্ষুধার শেষ নেই। সব কিছু খেয়ে ফেলছে। সরকারের লোকজন যার যা খুশি তাই করছে। এই যে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে দেশে। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশের ৫৩ বছরের সমস্ত অর্জনগুলো ধ্বংস করে ফেলেছে। কোথাও কোনো বিচার নেই। ব্যবসা করতে গেলে সরকারের লোকজনকে চাঁদা দিতে হবে। এরা পরিকল্পিতভাবে দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। সরকার এমন উন্নয়ন করেছে যে, জনগণ এখন ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে।’

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন দার্শনিকও। আমরা কারও সংগ্রাম কারও অবদানকে ছোট করতে চাই না। জিয়াউর রহমানকে ছোট করা মানে দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা তাকে বেশিদিন ধরে রাখতে পারিনি, চক্রান্তকারীরা তাকে হত্যা করেছে।’

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ কৃষক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষক দলের সহসভাপতি আ ন ম খলিলুর রহমান (ভিপি ইব্রাহিম), যুগ্ম সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুল, শাহাদত হোসেন বিপ্লব, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতের নতুন সরকারের কাছে যে প্রত্যাশার কথা জানালেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ভারতের নতুন সরকার সম্পর্কে বলার আমার একটাই কথা- ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। নিঃসন্দেহে আমাদের অনেক প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ। আমরা ভারতের নতুন সরকারের কাছে একটাই আশা করব, তাদের দেশে যেভাবে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, এখনও তাদের নির্বাচন কমিশন যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাদের বিচার বিভাগ যেভাবে কাজ করতে পারে; আমরা ১৯৭১ সালে যেই লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা দেশে গণতন্ত্রকে সেইভাবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যেটা প্রত্যাশা, ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের জনগণের যে প্রত্যাশা সেই প্রত্যাশাকে তারা মর্যাদা দিবেন, সেইভাবেই তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবেন।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, সেখানে আমার পুরোনো এক ইউনিভার্সিটির বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি এখন রাজনীতি থেকে দূরে আছেন। তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী লীগ করেছেন, এমপিও হয়েছে- কিন্তু এখন প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে সরে আছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘‘তুমি রাজনীতি করছ না কেন?’’ তিনি বলেন, ‘কোন রাজনীতি করব?’’ আমি বললাম, ‘‘আওয়ামী লীগ করবা।’’ তিনি বললেন, ‘‘আওয়ামী লীগ কি আর আওয়ামী লীগ আছে? এটাতো এখন আজিজ আর বেনজীরের আওয়ামী লীগ’’।’

তিনি বলেন, ‘এই যে দেখুন একজন আওয়ামী লীগের নেতার উপলব্ধি। এটাই বাস্তবতা। আজকে আওয়ামী লীগ সেই আওয়ামী লীগ নেই।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এদের সম্পূর্ণ বাজেটটাই হচ্ছে তাদের লুটপাটের। এ সরকারের ক্ষুধার শেষ নেই। সব কিছু খেয়ে ফেলছে। সরকারের লোকজন যার যা খুশি তাই করছে। এই যে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে দেশে। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশের ৫৩ বছরের সমস্ত অর্জনগুলো ধ্বংস করে ফেলেছে। কোথাও কোনো বিচার নেই। ব্যবসা করতে গেলে সরকারের লোকজনকে চাঁদা দিতে হবে। এরা পরিকল্পিতভাবে দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। সরকার এমন উন্নয়ন করেছে যে, জনগণ এখন ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে।’

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন দার্শনিকও। আমরা কারও সংগ্রাম কারও অবদানকে ছোট করতে চাই না। জিয়াউর রহমানকে ছোট করা মানে দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা তাকে বেশিদিন ধরে রাখতে পারিনি, চক্রান্তকারীরা তাকে হত্যা করেছে।’

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ কৃষক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষক দলের সহসভাপতি আ ন ম খলিলুর রহমান (ভিপি ইব্রাহিম), যুগ্ম সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুল, শাহাদত হোসেন বিপ্লব, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি প্রমুখ।