বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আনার হত্যায় ৫ কোটি টাকার যোগান দিল কে?

ঝিনাইদহ-৪  আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় নেওয়ার পর নানা অজানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদে যশোর ও ঝিনাইদহের পাশাপাশি  ঢাকার কয়েকজন ব্যক্তির নামও বলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। তাদের মধ্যে আছেন রাজনৈতিক নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী। যাদের নাম এসেছে তাদের কললিস্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ওইসব রাঘববোয়াল আনারকে হত্যা করার জন্য ৫ কোটি টাকা দিলেও খরচ হয়েছে মাত্র অর্ধকোটি টাকা। বাকি সাড়ে ৪ কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন আরেক মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহীন। অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি মিন্টুকে ঝিনাইদহে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) করার টোপ দিয়ে রেখেছিলেন রাঘববোয়ালরা।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, এমপি আনারকে হত্যার জন্য চুক্তি হয় ৫ কোটি টাকার। মূলত আওয়ামী লীগ নেতা গ্যাস বাবুর মাধ্যমেই খুনিদের সঙ্গে কথাবার্তা চূড়ান্ত করা হয়। গ্যাস বাবু খুনি শিমুলের সঙ্গে কথা বলেন। আনারকে হত্যা করতে পারলে সবাইকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলে প্রস্তাব দেন বাবু। নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা পুরো ৫ কোটি টাকা দেন মিন্টুর কাছে। আর মিন্টু অর্থ দেন গ্যাস বাবুর কাছে। আর গ্যাস বাবু দেন শাহীনের কাছে। চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম দেওয়া হয় ২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর মিন্টুর পক্ষ হয়ে শাহীনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন গ্যাস বাবু। আর শিমুলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন শাহীন। সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর শাহীন ও শিমুল যান কলকাতায় বাসা ভাড়া করতে। কিন্তু সেখানে পরিবার ছাড়া বাসা ভাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তারা শিলাস্তি রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে কলকাতায় ডেকে নেন। সেখানে তাকে শাহীনের স্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করে বাসা ভাড়া করা হয়। পরে এই শিলাস্তির মাধ্যমে আনারকে ‘হ্যানি ট্রাপ’ করে কলকাতায় ডেকে নেওয়া হয়। আনার কলকাতায় যাওয়ার আগে থেকেই শিমুলের নেতৃত্বে ছয় খুনি ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ৫০ লাখ টাকার মতো খরচ করেন শাহীন। তিনি কলকাতা ত্যাগ করার আগে শিমুলকে বলেছিলেন হত্যার পর শাহীন, মিন্টু ও গ্যাস বাবুকে ছবি দেওয়ার পরই পুরো টাকা দেওয়া হবে। এ কথা বলে শাহীন চলে আসেন ঢাকায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আনার হত্যায় ৫ কোটি টাকার যোগান দিল কে?

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

ঝিনাইদহ-৪  আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় নেওয়ার পর নানা অজানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদে যশোর ও ঝিনাইদহের পাশাপাশি  ঢাকার কয়েকজন ব্যক্তির নামও বলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। তাদের মধ্যে আছেন রাজনৈতিক নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী। যাদের নাম এসেছে তাদের কললিস্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ওইসব রাঘববোয়াল আনারকে হত্যা করার জন্য ৫ কোটি টাকা দিলেও খরচ হয়েছে মাত্র অর্ধকোটি টাকা। বাকি সাড়ে ৪ কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন আরেক মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহীন। অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি মিন্টুকে ঝিনাইদহে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) করার টোপ দিয়ে রেখেছিলেন রাঘববোয়ালরা।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, এমপি আনারকে হত্যার জন্য চুক্তি হয় ৫ কোটি টাকার। মূলত আওয়ামী লীগ নেতা গ্যাস বাবুর মাধ্যমেই খুনিদের সঙ্গে কথাবার্তা চূড়ান্ত করা হয়। গ্যাস বাবু খুনি শিমুলের সঙ্গে কথা বলেন। আনারকে হত্যা করতে পারলে সবাইকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলে প্রস্তাব দেন বাবু। নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা পুরো ৫ কোটি টাকা দেন মিন্টুর কাছে। আর মিন্টু অর্থ দেন গ্যাস বাবুর কাছে। আর গ্যাস বাবু দেন শাহীনের কাছে। চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম দেওয়া হয় ২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর মিন্টুর পক্ষ হয়ে শাহীনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন গ্যাস বাবু। আর শিমুলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন শাহীন। সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর শাহীন ও শিমুল যান কলকাতায় বাসা ভাড়া করতে। কিন্তু সেখানে পরিবার ছাড়া বাসা ভাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তারা শিলাস্তি রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে কলকাতায় ডেকে নেন। সেখানে তাকে শাহীনের স্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করে বাসা ভাড়া করা হয়। পরে এই শিলাস্তির মাধ্যমে আনারকে ‘হ্যানি ট্রাপ’ করে কলকাতায় ডেকে নেওয়া হয়। আনার কলকাতায় যাওয়ার আগে থেকেই শিমুলের নেতৃত্বে ছয় খুনি ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ৫০ লাখ টাকার মতো খরচ করেন শাহীন। তিনি কলকাতা ত্যাগ করার আগে শিমুলকে বলেছিলেন হত্যার পর শাহীন, মিন্টু ও গ্যাস বাবুকে ছবি দেওয়ার পরই পুরো টাকা দেওয়া হবে। এ কথা বলে শাহীন চলে আসেন ঢাকায়।