বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেষ সময়েও রাজশাহীর হাটে ছোট-মাঝারি গরুর চাহিদা

রাজশাহীতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। ফলে এ ধরনের গরুর তুলনামূলক বড় আকারের গরুর চেয়ে দামও একটু বেশি। রাজশাহীর হাটগুলোতে মাঝারি ও ছোট সাইজের গরুও উঠছে প্রচুর। এরপরও গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণে অন্তত ৫ হাজার টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে গরু।

তবে বড় আকারের গরুগুলোর দাম গত বছরের মতোই মণ হিসেবে ২৫-২৬ হাজার টাকার মধ্যেই হয়ে যাচ্ছে। রাজশাহীর বৃহত্তর সিটি হাটে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই গরু-মহিষ কেনা হচ্ছে। কোরবানির শেষ সময়ে এসে উপজেলা পর্যায়ের হাটগুলোও জমে উঠেছে বেশ।

হাটগুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দরে।

এসব গরুর মাংস দুই মণ ১০ কেজি থেকে সোয়া তিন পর্যন্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গাভি জাতের গরুগুলো মণে প্রায় ৫ হাজার টাকা কম হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। একটু বড় আকারের গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা দামে। তার চেয়ে বড় আকারের গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার সাড়ে তিন-চার লাখ টাকা দামে।

তবে বড় গরুর তেম চাহিদা নাই বলে জানান সিটি হাটের গরু বিক্রেতা মতিউর রহমান।এ হাটের গরু বিক্রেতা আজগর ইসলাম জানান, তিনি বাড়িতে পালন করা দুটি গরু বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে এসেছিলেন। তার গরু দুটির মধ্যে একটির দাম চেয়েছিলেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা আর অন্যটির দাম এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে দুপুরে মাঝারি আকারের গরুটি বিক্রি করেছেন তিনি। তবে দামে না হওয়ায় বড় গরুটি বিক্রি করতে পারেননি তখনো।

আরেক গরু বিক্রেতা হৃদয় ইসলাম বলেন, শেষ দিকে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বাড়ে। তাই আমি চারটি গরু আগে বিক্রি করিনি। এখন বিক্রি করতে নিয়ে এসেছি। তবে কয়েক দিন আগে যে দামে বিক্রি হয়েছে, এখনো সে রকম দামই বলছেন ক্রেতারা। সেই হিসেবে আগে বিক্রি করাই আমার ভালো ছিল। তাহলে এই কয়দিন খরচটা আর করতে হতে না

তাহেরপুরে গরু কিনতে আসা নাদের আল বলেন, ‘আমরা ৭ জনে একটা গরু কোরবানি দেব। ভাগে ২৫ হাজার টাকা করে জনপ্রতি ধরেছি। সেই হিসাবে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে গরুর কেনার চেষ্টা করছি। এই দামের গরুগুলোর তুলনামুলক দাম একটু কম। কিন্তু এক লাখ বা তা নিচের গরুগুলোর দাম একটু বেশি পড়ছে। দাম বেশি হলেও ছোট গরুর চর্বি কম হয়। আবার বড় গরুর চর্বি বেশি হয়। সেই হিসেবে ছোট গরুই কেনা ভালো।

নাজমুল হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, একজন বা তিন থেকে ৫ জন মিলে যারা কোরবানি করেন, তারা একটু ছোট বা মাঝারি গরু কেনেন। এই ধরনেই গরুর চাহিদাই বাজারে বেশি। দামও একটু বেশি।

রাজশাহীর সিটি হাটের ইজারাদারা আতিকুর রহমান কালু বলেন, হাটে বড় গরুর চেয়ে ছোট মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দামের গরুগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। হাটে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু উঠছে। কেনা বেচাও ভালো হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শেষ সময়েও রাজশাহীর হাটে ছোট-মাঝারি গরুর চাহিদা

প্রকাশিত সময় : ০৬:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪

রাজশাহীতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। ফলে এ ধরনের গরুর তুলনামূলক বড় আকারের গরুর চেয়ে দামও একটু বেশি। রাজশাহীর হাটগুলোতে মাঝারি ও ছোট সাইজের গরুও উঠছে প্রচুর। এরপরও গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণে অন্তত ৫ হাজার টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে গরু।

তবে বড় আকারের গরুগুলোর দাম গত বছরের মতোই মণ হিসেবে ২৫-২৬ হাজার টাকার মধ্যেই হয়ে যাচ্ছে। রাজশাহীর বৃহত্তর সিটি হাটে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই গরু-মহিষ কেনা হচ্ছে। কোরবানির শেষ সময়ে এসে উপজেলা পর্যায়ের হাটগুলোও জমে উঠেছে বেশ।

হাটগুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দরে।

এসব গরুর মাংস দুই মণ ১০ কেজি থেকে সোয়া তিন পর্যন্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গাভি জাতের গরুগুলো মণে প্রায় ৫ হাজার টাকা কম হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। একটু বড় আকারের গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা দামে। তার চেয়ে বড় আকারের গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার সাড়ে তিন-চার লাখ টাকা দামে।

তবে বড় গরুর তেম চাহিদা নাই বলে জানান সিটি হাটের গরু বিক্রেতা মতিউর রহমান।এ হাটের গরু বিক্রেতা আজগর ইসলাম জানান, তিনি বাড়িতে পালন করা দুটি গরু বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে এসেছিলেন। তার গরু দুটির মধ্যে একটির দাম চেয়েছিলেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা আর অন্যটির দাম এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে দুপুরে মাঝারি আকারের গরুটি বিক্রি করেছেন তিনি। তবে দামে না হওয়ায় বড় গরুটি বিক্রি করতে পারেননি তখনো।

আরেক গরু বিক্রেতা হৃদয় ইসলাম বলেন, শেষ দিকে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বাড়ে। তাই আমি চারটি গরু আগে বিক্রি করিনি। এখন বিক্রি করতে নিয়ে এসেছি। তবে কয়েক দিন আগে যে দামে বিক্রি হয়েছে, এখনো সে রকম দামই বলছেন ক্রেতারা। সেই হিসেবে আগে বিক্রি করাই আমার ভালো ছিল। তাহলে এই কয়দিন খরচটা আর করতে হতে না

তাহেরপুরে গরু কিনতে আসা নাদের আল বলেন, ‘আমরা ৭ জনে একটা গরু কোরবানি দেব। ভাগে ২৫ হাজার টাকা করে জনপ্রতি ধরেছি। সেই হিসাবে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে গরুর কেনার চেষ্টা করছি। এই দামের গরুগুলোর তুলনামুলক দাম একটু কম। কিন্তু এক লাখ বা তা নিচের গরুগুলোর দাম একটু বেশি পড়ছে। দাম বেশি হলেও ছোট গরুর চর্বি কম হয়। আবার বড় গরুর চর্বি বেশি হয়। সেই হিসেবে ছোট গরুই কেনা ভালো।

নাজমুল হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, একজন বা তিন থেকে ৫ জন মিলে যারা কোরবানি করেন, তারা একটু ছোট বা মাঝারি গরু কেনেন। এই ধরনেই গরুর চাহিদাই বাজারে বেশি। দামও একটু বেশি।

রাজশাহীর সিটি হাটের ইজারাদারা আতিকুর রহমান কালু বলেন, হাটে বড় গরুর চেয়ে ছোট মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দামের গরুগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। হাটে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু উঠছে। কেনা বেচাও ভালো হচ্ছে।