সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে শিক্ষকরা, সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

সর্বজনীন পেনশন ‘প্রত্যয় স্কিম’ এর প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার,বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন সুপার গ্রেড ও স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন সহ সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষকরা। ফলে আগামীকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে অচল অবস্থার মধ্যে পড়ে সেশনজটে পড়ার আশংকা করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা যায় সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ এ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত দু’মাস ধরে বিবৃতি, সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা সহ সর্বশেষ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা
শিক্ষামন্ত্রীর সাথে দেখা করেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় আগামীকাল থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।
গ্রীষ্মকালীন ও ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করলেও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেশনজটের দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শিক্ষক সংকটে পূর্ব থেকেই পিছিয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ। এছাড়াও সঠিক সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় তীব্র আশংকায় জীবনযাপন করছে চাকরি প্রত্যাশি শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকা মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখছেন অনেকে। অন্যদিকে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারাও।
এ বিষয়ে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী বি এম গোলাম রসূল বলেন,” করোনার দীর্ঘ সময়ে পড়ালেখার ক্ষতি এখনও কাটিয়ে  উঠতে পারিনি। এছাড়াও  ক্যাম্পাসের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে কিছুদিন পর পর ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত হচ্ছে। এতে আমরা সেশনজট নামের অভিশপ্ত জীবনের ঝুঁকিতে পড়েছি। যা আমাদের স্বপ্ন পূরণে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ কারণে সরকার ও শিক্ষকদেরকে বিনীত অনুরোধ করছি এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহন না করে যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়।”
বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ বশির উদ্দিন বলেন,”কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও আমাদের সিদ্ধান্ত একই আমরা আগামী ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। এসময় সকল প্রকার ক্লাস-পরীক্ষা এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”
তিনি আরো বলেন, “একই সাথে দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে কর্মসূচি ঘোষণা করবে তার সাথে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষকরা একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচি পালন করবে। “
সেশনজটের শঙ্কার বিষয়ে উপাচার্য ড. এ. কিউ. এম. মাহবুব বলেন,” এটা এখন জাতীয় ইস্যু। এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একার ইস্যু না। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু করার নেই।”
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে শিক্ষকরা, সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত সময় : ১০:১৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪
সর্বজনীন পেনশন ‘প্রত্যয় স্কিম’ এর প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার,বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন সুপার গ্রেড ও স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন সহ সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষকরা। ফলে আগামীকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে অচল অবস্থার মধ্যে পড়ে সেশনজটে পড়ার আশংকা করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা যায় সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ এ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত দু’মাস ধরে বিবৃতি, সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা সহ সর্বশেষ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা
শিক্ষামন্ত্রীর সাথে দেখা করেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় আগামীকাল থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।
গ্রীষ্মকালীন ও ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করলেও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেশনজটের দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শিক্ষক সংকটে পূর্ব থেকেই পিছিয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ। এছাড়াও সঠিক সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় তীব্র আশংকায় জীবনযাপন করছে চাকরি প্রত্যাশি শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকা মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখছেন অনেকে। অন্যদিকে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারাও।
এ বিষয়ে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী বি এম গোলাম রসূল বলেন,” করোনার দীর্ঘ সময়ে পড়ালেখার ক্ষতি এখনও কাটিয়ে  উঠতে পারিনি। এছাড়াও  ক্যাম্পাসের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে কিছুদিন পর পর ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত হচ্ছে। এতে আমরা সেশনজট নামের অভিশপ্ত জীবনের ঝুঁকিতে পড়েছি। যা আমাদের স্বপ্ন পূরণে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ কারণে সরকার ও শিক্ষকদেরকে বিনীত অনুরোধ করছি এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহন না করে যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়।”
বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ বশির উদ্দিন বলেন,”কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও আমাদের সিদ্ধান্ত একই আমরা আগামী ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। এসময় সকল প্রকার ক্লাস-পরীক্ষা এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”
তিনি আরো বলেন, “একই সাথে দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে কর্মসূচি ঘোষণা করবে তার সাথে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষকরা একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচি পালন করবে। “
সেশনজটের শঙ্কার বিষয়ে উপাচার্য ড. এ. কিউ. এম. মাহবুব বলেন,” এটা এখন জাতীয় ইস্যু। এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একার ইস্যু না। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু করার নেই।”