বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সড়ক আটকে বিক্ষোভ করছেন বার্ডস গ্রুপের চারটি কারখানার শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বার্ডস গ্রুপের চারটি কারখানা শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ না করে বন্ধের ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওনাদি পরিশোধের কথা থাকলেও শোধ না করায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
বাবু নামের এক শ্রমিক বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমাদের সমস্ত পাওনাদি পরিশোধ করার কথা ছিল। এর মধ্যে তারা নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে, তিন মাস পর পাওনাদি পরিশোধ করা হবে। আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে কীভাবে মালিকপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়?
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে রানিং ফ্যাক্টরি লে-অফের নোটিশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হলো। এক বছর উপরে যাদের চাকরির বয়স তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু যাদের চাকরির বয়স এক বছরের কম, তাদের কি কোনো ক্ষতি হয়নি?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বার্ডস গ্রুপের চারটি কারখানা বাইপাইল বুড়ির বাজার এলাকায় অবস্থিত। গত ২৮ই আগস্ট কারখানাগুলো লে-অফ ঘোষণা করে। পরে শ্রমিকরা লে অফে থাকতে রাজি না হলে ১২৪ (ক) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, গতকাল থেকে বাইপাইলে একই অবস্থা। সড়কে যান চলাচল বন্ধ। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। আমরা এ্যাকশনে গেলেও তো সমস্যা। কী করতে পারি?
ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহীনুর কবির বলেন, ৪৮ ঘণ্টা ধরে শ্রমিকরা সড়ক আটকে রেখেছে। এ কারণে ঢাকা থেকে যেসব গাড়ি উত্তরবঙ্গ ও খুলনার দিকে যায় সব রাস্তাই বন্ধ রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। ধামরাই রোডেও যানজট, নবীনগর বাইপাইল বন্ধ। এই অঞ্চলের সব সড়কে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এভাবে মূল সড়ক তারা বন্ধ রাখতে পারেন না। তাদের কাউন্সিলিং করা হয়েছে, কিন্তু তারা মানেনি।
এ বিষয়ে জানতে বার্ডস গ্রুপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























