বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী জাহেলিয়াত স্মরণীয় হয়ে থাকবে : মামুনুল

আওয়ামী লীগের শাসনকে আইয়ামে জাহেলিয়াত বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, আইয়ামে জাহেলিয়াতের পর ‘আওয়ামী জাহেলিয়াত’ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আওয়ামী জাহেলিয়াতের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন হেফাজতের কর্মীরা। শাপলা চত্বরে অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় এক হাজার ৪০০ নেতাকর্মীকে। ভারতের তাঁবেদার সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে হেফাজত নেতাকর্মীদের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে শানে রিসালাত সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। হেফাজতে ইসলাম যশোর জেলা শাখা এই শানে রিসালাত সম্মেলনের আয়োজন করে। মাওলানা মামুনুল আরো বলেন, বাংলাদেশকে ইসলামশূন্য করতে নানা ষড়যন্ত্র চলেছে। এই দেশে ‘বাহাত্তরের চেতনাকে’ ‘একাত্তরের চেতনা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ঠিক একই কায়দায় নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে। সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের অভূতপূর্ব ঐক্য বিনষ্ট করতে বাংলাদেশের শত্রুরা বিদেশের মাটিতে বসে ষড়যন্ত্র করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যেমন নস্যাৎ করা হয়েছিল ঠিক একই কায়দায় জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন শুধু ৯ মাসের লড়াইয়ে হয়নি। স্বাধীন দেশ অর্জন করতে আমাদের যুগ যুগ ধরে লড়াই করতে হয়েছে। তিন তিনটি আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। প্রথম লড়াই ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে, এরপর ১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের দাদাদের বিরুদ্ধে এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এসব লড়াইয়ে দেশের অসংখ্য আলেম রক্ত দিয়েছেন। অথচ এই স্বাধীনতার চেতনাকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার নানাভাবে বিকৃত করেছে।’ তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অভূতপূর্ব ঐক্য হয়েছিল। সেই ঐক্য এখন বিতাড়িতরা ভারতে বসে বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। যেকোনো মূল্যে এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের নাস্তিকতাবাদের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে হেফাজত মোকাবেলা করবে, কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও সেন্ট মার্টিন থেকে শুরু করে দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমি রক্ষা করা হবে। সংগঠনের যশোর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল করীম যশোরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নাজমুল ইসলাম কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন এবং কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুশতাক আহমেদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, খুলনা জেলা সভাপতি মুফতি গোলামুর রহমান, মাগুরা জেলা সভাপতি কাজী জাবেদ বিন মুহসীন তাজাল্লা, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মাওলানা ওসমান গনি, মুফতি আরিফ বিল্লাহ, যশোর জেলা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুল মান্নান, মুফতি মুজিবুর রহমান, হাফেজ মাওলানা বেলায়েত হোসেন, মাওলানা হামিদুল ইসলাম, মাওলানা নাজির উদ্দীন, মুফতি শামসুর রহমান, মুফতি হাফিজুর রহমান, মাওলানা মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ। সূত্র: কালের কণ্ঠ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আওয়ামী জাহেলিয়াত স্মরণীয় হয়ে থাকবে : মামুনুল

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪

আওয়ামী লীগের শাসনকে আইয়ামে জাহেলিয়াত বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, আইয়ামে জাহেলিয়াতের পর ‘আওয়ামী জাহেলিয়াত’ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আওয়ামী জাহেলিয়াতের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন হেফাজতের কর্মীরা। শাপলা চত্বরে অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় এক হাজার ৪০০ নেতাকর্মীকে। ভারতের তাঁবেদার সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে হেফাজত নেতাকর্মীদের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে শানে রিসালাত সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। হেফাজতে ইসলাম যশোর জেলা শাখা এই শানে রিসালাত সম্মেলনের আয়োজন করে। মাওলানা মামুনুল আরো বলেন, বাংলাদেশকে ইসলামশূন্য করতে নানা ষড়যন্ত্র চলেছে। এই দেশে ‘বাহাত্তরের চেতনাকে’ ‘একাত্তরের চেতনা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ঠিক একই কায়দায় নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে। সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের অভূতপূর্ব ঐক্য বিনষ্ট করতে বাংলাদেশের শত্রুরা বিদেশের মাটিতে বসে ষড়যন্ত্র করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যেমন নস্যাৎ করা হয়েছিল ঠিক একই কায়দায় জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন শুধু ৯ মাসের লড়াইয়ে হয়নি। স্বাধীন দেশ অর্জন করতে আমাদের যুগ যুগ ধরে লড়াই করতে হয়েছে। তিন তিনটি আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। প্রথম লড়াই ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে, এরপর ১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের দাদাদের বিরুদ্ধে এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এসব লড়াইয়ে দেশের অসংখ্য আলেম রক্ত দিয়েছেন। অথচ এই স্বাধীনতার চেতনাকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার নানাভাবে বিকৃত করেছে।’ তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অভূতপূর্ব ঐক্য হয়েছিল। সেই ঐক্য এখন বিতাড়িতরা ভারতে বসে বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। যেকোনো মূল্যে এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের নাস্তিকতাবাদের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে হেফাজত মোকাবেলা করবে, কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও সেন্ট মার্টিন থেকে শুরু করে দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমি রক্ষা করা হবে। সংগঠনের যশোর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল করীম যশোরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নাজমুল ইসলাম কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন এবং কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুশতাক আহমেদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, খুলনা জেলা সভাপতি মুফতি গোলামুর রহমান, মাগুরা জেলা সভাপতি কাজী জাবেদ বিন মুহসীন তাজাল্লা, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মাওলানা ওসমান গনি, মুফতি আরিফ বিল্লাহ, যশোর জেলা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুল মান্নান, মুফতি মুজিবুর রহমান, হাফেজ মাওলানা বেলায়েত হোসেন, মাওলানা হামিদুল ইসলাম, মাওলানা নাজির উদ্দীন, মুফতি শামসুর রহমান, মুফতি হাফিজুর রহমান, মাওলানা মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ। সূত্র: কালের কণ্ঠ