শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাইবার অপরাধের শিকার বেশিরভাগই নারী

বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক অপরিহার্য মাধ্যম ইন্টারনেট। ইন্টারনেট দুনিয়ার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছে মানুষ। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজের অসচেতনতার কারণে ভোগান্তিও পোহাতে হয় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে। আর এই ভোগান্তির শিকারদের বেশিরভাগই নারী।
আইডি হ্যাক, তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, অশালীন ছবি কিংবা একান্ত ব্যক্তিজীবনের ভিডিওকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলসহ নারীদের জীবন হুমকির মুখে ফেলছে সাইবার অপরাধীরা। তাদের দৌরাত্ম্যে তথ্য বেহাত হয়ে যাওয়ায় সামাজিকভোবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়াসহ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছে ভুক্তভোগীরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে, ভুক্তভোগী নারীদের অনেকেই এখন সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে তাদের কাছে অভিযোগ করছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসছে ১৪ বছর থেকে শুরু করে ৩৫ বছর বয়স্ক নারীদের কাছ থেকে। অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই সাইবার বুলিং, হুমকি দেওয়া ও ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত।
সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ সময়ের আলোকে বলেন, ‘অপরিচিত কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করা বা নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার মধ্য দিয়ে ঘটনার শুরু হয়। এ ধরনের কাজ না করাই ভালো। ১৪ বছরের কিশোরী থেকে ৩৫ বছরের নারী রয়েছে এ তালিকায়। নারীরা সবচেয়ে বেশি হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে আসে। আবার অনেকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হলেও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে অভিযোগ করে না।’
তিনি বলেন, ইন্টারনেটে হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ করতে পুলিশের সাহায্য নিতে হবে। সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে কাছের থানায় অভিযোগ দিলেই হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৌজন্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে যে মাধ্যমটি ব্যবহার হচ্ছে সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ডিএমপির সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তথ্য মতে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে ২০১৯ সালে ৮৭১টি, ২০২০ সালে ১৩৩৬টি ও ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসে ৬০৫টি মামলা হয়। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০১৯ সালে ৫৬৩টি, ২০২০ সালে ৬৮৩ এবং চলতি ২০২১ সালের ৬ মাসে ৪৪২টি মামলা হয়। ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ছয় মাসে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের হেলপ ডেস্কের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীদের শিকার ৮২৭ জন ভিকটিমকে সেবা দেওয়া হয়। এ সময়ে অনলাইনে সাহায্য করা হয় ৮ হাজার ৭৭০ জনকে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনারে মো. ফারুক হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, সাইবার অপরাধে বেশিরভাগ মানুষ জড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং যেখানে-সেখানে সামাজিক যোগাযোগের আইডি লগিং না করাই ভালো। নিরাপদ ওয়েবসাইট ও মাধ্যমগুলো ব্রাউজিং করলে সাইবার ক্রাইমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাইবার অপরাধের শিকার বেশিরভাগই নারী

প্রকাশিত সময় : ০৪:২৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১
বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক অপরিহার্য মাধ্যম ইন্টারনেট। ইন্টারনেট দুনিয়ার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছে মানুষ। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজের অসচেতনতার কারণে ভোগান্তিও পোহাতে হয় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে। আর এই ভোগান্তির শিকারদের বেশিরভাগই নারী।
আইডি হ্যাক, তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, অশালীন ছবি কিংবা একান্ত ব্যক্তিজীবনের ভিডিওকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলসহ নারীদের জীবন হুমকির মুখে ফেলছে সাইবার অপরাধীরা। তাদের দৌরাত্ম্যে তথ্য বেহাত হয়ে যাওয়ায় সামাজিকভোবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়াসহ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছে ভুক্তভোগীরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে, ভুক্তভোগী নারীদের অনেকেই এখন সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে তাদের কাছে অভিযোগ করছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসছে ১৪ বছর থেকে শুরু করে ৩৫ বছর বয়স্ক নারীদের কাছ থেকে। অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই সাইবার বুলিং, হুমকি দেওয়া ও ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত।
সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ সময়ের আলোকে বলেন, ‘অপরিচিত কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করা বা নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার মধ্য দিয়ে ঘটনার শুরু হয়। এ ধরনের কাজ না করাই ভালো। ১৪ বছরের কিশোরী থেকে ৩৫ বছরের নারী রয়েছে এ তালিকায়। নারীরা সবচেয়ে বেশি হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে আসে। আবার অনেকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হলেও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে অভিযোগ করে না।’
তিনি বলেন, ইন্টারনেটে হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ করতে পুলিশের সাহায্য নিতে হবে। সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে কাছের থানায় অভিযোগ দিলেই হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৌজন্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে যে মাধ্যমটি ব্যবহার হচ্ছে সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ডিএমপির সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তথ্য মতে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে ২০১৯ সালে ৮৭১টি, ২০২০ সালে ১৩৩৬টি ও ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসে ৬০৫টি মামলা হয়। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০১৯ সালে ৫৬৩টি, ২০২০ সালে ৬৮৩ এবং চলতি ২০২১ সালের ৬ মাসে ৪৪২টি মামলা হয়। ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ছয় মাসে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের হেলপ ডেস্কের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীদের শিকার ৮২৭ জন ভিকটিমকে সেবা দেওয়া হয়। এ সময়ে অনলাইনে সাহায্য করা হয় ৮ হাজার ৭৭০ জনকে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনারে মো. ফারুক হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, সাইবার অপরাধে বেশিরভাগ মানুষ জড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং যেখানে-সেখানে সামাজিক যোগাযোগের আইডি লগিং না করাই ভালো। নিরাপদ ওয়েবসাইট ও মাধ্যমগুলো ব্রাউজিং করলে সাইবার ক্রাইমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।